Wednesday, May 24, 2006

সংরক্ষণ নিয়ে দু-চার কথা

সংরক্ষণ কি সে বিষয়ে বিষদ যাবার প্রয়োজন নেই কোন, গত মাস খানেকের বাংলা, ইংরিজী খবরের কাগজের প্রথম পাতায় এছাড়া আর কিছুই নেই। কিন্তু কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়, মাসখানেকের এই আন্দোলন নিয়ে -

(১) ভিপি সিং-এর আমলে মণ্ডল নিয়ে প্রথম যখন ঝড় উঠলো - আমরাও স্কুলে বনধ ডেকেছিলুম - স্কুলের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র ধর্মঘট - তখন যুক্তি ছিলো চাকরীক্ষেত্রে নয়, পিছিয়ে-পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েদের উচ্চ-শিক্ষায় সুযোগ দাও, যাতে পরে চাকরীক্ষেত্রে তারা প্রতিযোগীতায় নামতে পারে৷ এখন শিক্ষায় সুযোগ দিতে গেলে বলা হচ্ছে স্কুল-শিক্ষায় দাও, স্কুল-শিক্ষায় দিতে গেলে কি বলবে জন্মের আগে দাও?

(২) ধরা যাক এরকম কাউকে উচ্চশিক্ষায় সুযোগ দেওয়া হল - ধরা যাক জয়েন্টে সে এল ৮০০ নম্বরে, তাও সে যাদবপুরে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হল৷ সে তো শুধু ভর্তিই হল - তাকে তো চার বছর প্রতিটা পরীক্ষায় পাশ করতে হবে৷ সে যদি সেটা করতে পারে তাহলে কি তার মেরিট নেই? তথাকথিত উচ্চবর্ণের মেরিটোরিয়াস ছাত্র (জয়েন্টে দিয়েই যারা কম্পিউটার সায়েন্সে ঢুকেছে, বা অন্য উপায়ে - দক্ষিণের কলেজে) তারা যখন বছর-বছর ঘষটায়? ঐ সীটটায় তাদের কোন যোগ্যতা ছিলো/আছে কি?

(৩) মেরিট শুধু জীন নয়, নির্ভর করে ট্রেনিংএর ওপরেও৷ কলকাতা বা দিল্লীতে থাকা ছেলেপুলেরা যে কোচিং পায় (বই-পত্র-স্কুল-কলেজ-কোচিং সেন্টারে) পুরুলিয়ার গ্রামের একটা ছেলে সেটা কোথায় পাবে? তার কি মেরিট নেই সেটা অলরেডী গ্রান্টেড? সেতো কোনদিন সুযোগই পেলো না৷

(৪) জয়েন্ট বা সমতুল পরীক্ষায় সুযোগ না পেয়ে অনেকেই শুধুমাত্র চার-পাঁচ লক্ষ টাকার জোরে ভর্তি হয়ে যান দক্ষিণের কোন কলেজে - ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারিতে - এও কি সংরক্ষণ নয়? উচ্চবিত্তের সংরক্ষণ?

সংরক্ষণের আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিলো এই সুযোগটুকু করে দেওয়া, ডিপেন্ডেন্ট বানিয়ে দেওয়া নয়, বা শুধু পাইয়ে দেওয়া নয় - দুর্ভাগ্যক্রমে যেটা হয়েছে৷ আন্দোলনটা হতে পারতো এই নিয়ে - কি করে শিক্ষাকে ছড়িয়ে দেওয়া যায় যাতে পুরুলিয়ার গ্রামের ছেলে/মেয়েও আমাদের মতন সুযোগটুকু পায়৷ কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য শুনলে সন্দেহ হয় - এদের মেন্টালিটি নিয়ে - মোটামুটি মধ্যযুগীয় "ওরা অচ্ছুত" মেন্টালিটি৷ আন্দোলনটা বলতে পারতো - যে হ্যাঁ, শিক্ষায় সুযোগ দাও, যাতে ওরা কলেজে পড়তে পারে, লাইব্রেরী থেকে বই নিতে পারে, দুটো বেশি বই কিনতে পারে তার জন্যে অল্প হলেও স্কলারশিপ দাও - তারপর চাকরিক্ষেত্রে ওদের কমপিট করতে দাও - সেখান থেকে সংরক্ষণ তুলে দাও৷ আন্দোলনটা বলতে পারতো সংরক্ষণকে বংশানুক্রমিক করা বন্ধ হোক, আর জাতের বিচারে নয়, অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে করা হোক - শুধুমাত্র সুযোগটুকু করে দেওয়ার জন্যে
... আন্দোলনটা বলতে পারতো খালি থেকে যাওয়া সংরক্ষিত সীটগুলোকে ওপেন করে দাও ...

সে সব কিছু নয় - আমরা উঠে পড়ে লাগলাম আমাদের সুযোগ কমে যাবে কিনা তাই নিয়ে৷ স্বার্থপর? তা ছাড়া কি?


5 comments:

The Hidden God said...

এরপর তো বেসরকারী চাকরিতেও সংরক্ষন করা হচ্ছে । তারমানে ভারতে বেশ কিছু লোক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব জায়গাতেই সংরক্ষন পাবে । গত পঞ্চাশ বছরে সংরক্ষনের ফলে কোনো লাভই হয় নি । সেই ভুল ঢাকার জন্য আবার সংরক্ষন করা হচ্ছে । আর জাত পাতের ভিত্তিতে সংরক্ষন আরো মারাত্মক ব্যাপার । সংরক্ষন হওয়া উচিত আর্থিক অবস্থার উপরে ।
তবে যারা আন্দোলন করছে তারা সবাই যে ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য করছে এ আমার মনে হয় না । আমি তাদের বক্তব্য শুনেছি । তাদের কথায় যথেষ্ট যুক্তি আছে । জাতপাতের রাজনীতি পুরোদমে চালু করে মহাত্মা গান্ধীর কংগ্রেস মহাত্মাকেই উড়িয়ে দিয়ে দেশকে রসাতলে নিয়ে যেতে চাইছে ।

Anonymous said...

যদি প্রশ্ন করি ইউ.কে. তে থেকে ভারতের জন্য কি করেছেন?
আপনি নিশ্চয় উচ্চতর বিদ্যা যথেষ্ট যগ্যতার সাথে অর্জণ করেছেন,আপনার জন্য কিন্তু ভারত সরকার অর্থ খরচ করেছে--আর সেই বিদ্যা দিয়ে আপনি সাহায্য করছেন কাদের, না বিদেশের।
দাদা কিছু বলার থাকলে দেশী হয়ে বলুন শুনব ---
দাদা পাউন্ড আর টাকাতে না প্রচুর ফারাক!
আশা করি কিছু মনে করবেননা,আসলে নিরাপদ দূরত্বে থেকে উপদেশ দেওয়া না খুব সোজা।

Arijit said...

ইয়ে বেনামিদাদা, অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত না জেনে আলপটকা নাই বকলেন না হয়? কি করেছি সে হিসেবে নাই গেলাম, অন্যান্য লেখাগুলো পড়লে কষ্ট করে হলেও কেন এখানে আছি, সেটা বুঝতেন - কি করতে চাই সেটাও। নিরাপদ দূরত্বে থেকে উপদেশ দিতে আম্মো চাই নাঃ-)

Anonymous said...

sarthopor bola ta sohoj... kintu modda kotha ta holo joto mohot uddesoi hok na keno tar vitti ta jodi jati nie hoy seta somorthon jogyo ki?????ar 50 bochorer songrokhoner folafol dekheo somorthon korchen j pichie poraborger unnotir etai upay??koto sotangso sc st k unnoto korte pereche ei policy...???mohot hobar age r ekbar vabun...jatibiddes k uske dichchen nato???erokom asammer somorthon samyobadir mukhe manay na...

Arijit said...

নিঃসন্দেহে সমর্থনযোগ্য নয়। একটু "অন্য" বক্তব্যগুলো পড়ে দেখবেন, এটাকে শুধু সাময়িক বলেই বলা হচ্ছে, চিরকালীন নয়।