Friday, March 02, 2007

বর্ণপরিচয় এখন

পাঁচ বছরের ছেলেটাকে বাংলা শেখানোর চেষ্টা চলছে - পড়তে আর লিখতে, যাতে আগামী বছর কলকাতায় ফিরে স্কুলে ভর্তি হতে অসুবিধা না হয়। কঠিন কাজ - কারণ সেই এক বছর বয়স থেকে সে সারাদিন কাটিয়েছে নার্সারী/প্লেগ্রুপে - সেখানে আশেপাশে শুধুই ইংরিজী - সে বেশির ভাগ সময় ওই ভাষাতেই কথা বলতে অভ্যস্ত, বাড়িতে আমরা বাংলা বললেও। ঋক বাংলা বলতে পারে (যদিও "জর্ডি" টানে) - কিন্তু ইংরিজীর মতন পড়তে/লিখতে এখনো পুরোপুরি শেখেনি। কলকাতার স্কুল থেকে খবর নিয়েছিলুম - বর্ণপরিচয় পড়তে হবে - তাই কলকাতা থেকে বয়ে নিয়ে আসা নতুন বর্ণপরিচয় নিয়ে পড়তে বসা...

অভিজ্ঞতা খুব সুবিধের নয়...

প্রথমত, বইটা অত্যন্ত ম্যাড়মেড়ে - ফিকে গেরুয়া আর সবুজ রঙ - তুলনায় ইংরিজী বইগুলো অনেক ঝকঝকে - বাচ্চাদের কাছে অনেক আকর্ষণীয়।

দ্বিতীয়ত, ভাষা - এমন ভাষা, যে ভাষায় আমরা কেউই কথা বলি না - "গিরিশ তুমি কাল পড়িতে এস নাই কেন" - ছেলে প্রশ্ন করে "কেন 'এস' বলেছে?"

তৃতীয়ত, পদ্ধতি - ইংরিজী পড়াতে/লেখাতে শেখানোর সময় দেখেছি কত নতুন নতুন পদ্ধতি বেরিয়েছে - লেটারল্যান্ড এর মধ্যে অন্যতম - অথচ বাংলায় সেই দুশো বছরের পুরনো পদ্ধতির কোন পরিবর্তন নেই। বাচ্চাদের শেখানোর পদ্ধতি নিয়ে অন্যান্য দেশে যত গবেষণা হয়, তার একাংশও বাংলা নিয়ে হয় না (অন্তত পশ্চিমবঙ্গে)। বাংলাদেশে কি হয় জানার আগ্রহ আছে আমার।

এটা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেখলুম যে আমরা মোটামুটি আবেগের সুতোয় আটকে - বর্ণপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা মানে বিদ্যাসাগরের অপমান, বাংলা ভাষা নিয়ে শ্রদ্ধা-ভালোবাসার অভাব, মাতৃভাষার মূলরূপ সম্পর্কে অনীহা, বাংলা ভাষার ইতিহাস সম্পর্কে অনাগ্রহ, ইত্যাদি ইত্যাদি...

অথচ, বিদ্যাসাগর সম্পর্কে যতটুকু জানি, তাতে মনে হয় বর্ণপরিচয়কে প্রয়োজনে সম্পূর্ণ ওভারহল করে আজকের উপযোগী করলে সবচেয়ে খুশি হতেন ওই ভদ্রলোকই। নতুন পদ্ধতি চালু করলেও দুঃখিত হতেন না, বরং আমরা ওঁকে পুতুল বানিয়ে পুজো না করে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছি দেখে খুশিই হতেন।

কিন্তু আমরা সাবেক বাঙালীরা 'বাঙালী' ঐতিহ্য ধুয়ে জল খেয়ে যাবো...বিদ্যাসাগরকে পুতুল বানিয়ে পুজো করবো...নতুন কিছু ভাববো না...কূপমণ্ডুকতা বললে কম বলা হয়।

2 comments:

konfusias said...

এই সময়ে বাংলাদেশে আসলে কি হয় আমারো সঠিক জানা নেই।
আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম বর্ণ ও ছবি একসাথে, সাথে সহজ করে কবিতা, যেমন- অ-তে অজগরটি আসছে তেড়ে, আ-তে আমটি আমি খাব পেড়ে, ই-তে ইঁদুরছানা ভয়ে মরে, ঈ-তে ঈগল পাখি শিকার ধরে...।
এরকম, সহজ ও সুন্দর।

এবার আমার কাজিনের জন্যে কেনা বর্নমালার বইটা উলটে পালটে দেখছিলাম, কবিতা ও ছবিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে, সব যে পছন্দ হয়েছে এমন নয়। তবে মোটের ওপর চলনসই।

Aparna Ray said...

মনে হয় আরো নতুন নতুন বই বেরিয়েছে বর্ণ মালার। তবে এটা ঠিকই যে আমরা বেশিরভাগ সময়ই পুরানো ঐতিহ্য বাচানোর দোহাই দিয়ে নতুন কিছু করার থেকে পালিয়ে বাঁচি। কিছু কন্টেম্পোরারি ছড়া দিয়ে নতুন বই বের করলে ভাল হয়।