Tuesday, August 22, 2006
পাগলা সানাই...
বিসমিল্লার পাগলা সানাই,
হাত পেতে নিয়ে চেটেপুটে খাই
স্মৃতিবিজড়িত পাগলা সানাই...
চলে গেলেন সানাইয়ের একছত্র বাদশা - উস্তাদ বিসমিল্লা খান। পাগলা সানাই কিন্তু রয়ে যাবে আমাদের সকলের মধ্যে...যাবেই।
Monday, August 21, 2006
গান যখন আচ্ছন্ন করে...
"Now you're telling me
You're not nostalgic
Then give me another word for it
You who are so good with words
And at keeping things vague
Because I need some of that vagueness now
It's all come back too clearly
Yes I loved you dearly
And if you're offering me diamonds and rust
I've already paid"
গানটা বায়েজ লিখেছিলেন ডিলানকে নিয়ে, ডিলান যখন বায়েজকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন তখন বায়েজ বলেছিলেন - "I was heartbroken" - সেটা যে কত গভীর, তা বায়েজের গানটা শুনলে প্রতি লাইনে বোঝা যায়।
বায়েজের প্রতিটা গানই দুর্দান্ত - ওঁর গলার স্বরে একটা অদ্ভুত কিছু রয়েছে যেটা মনের মধ্যে গেঁথে যায়। আরেকটা গানের কথা না বললে বায়েজের গান সম্পর্কে লেখা পুরো হবে না - "Song of Bangladesh" - ১৯৭১ সালের পয়লা আগস্টের "Concert for Bangladesh" নিয়ে আমার এক বন্ধু/ভাই লিখেছে তার ব্লগে, ওকে পাঠিয়েছিলাম বাংলাদেশ নিয়ে বায়েজের এই গানটা...
"Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh
The story of Bangladesh
Is an ancient one again made fresh
By blind men who carry out commmands
Which flow out of the laws upon which nation stands
Which is to sacrifice a people for a land
Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh
Once again we stand aside
And watch the families crucified
See a teenage mother's vacant eyes
As she watches her feeble baby try
To fight the monsoon rains and the cholera flies
And the students at the university
Asleep at night quite peacefully
The soldiers came and shot them in their beds
And terror took the dorm awakening shrieks of dread
And silent frozen forms and pillows drenched in red
Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh
Did you read about the army officer's plea
For donor's blood? It was given willingly
By boys who took the needles in their veins
And from their bodies every drop of blood was drained
No time to comprehend and there was little pain
And so the story of Bangladesh
Is an ancient one again made fresh
By all who carry out commands
Which flow out of the laws upon which nations stand
Which say to sacrifice a people for a land
Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh"
আজ পঁয়ত্রিশ বছর পরেও ঘটনাগুলো রয়েই গেছে, দেশের নাম বদলে যায়, আক্রমণকারীর পরিচয় বদলে যায় - ঘটনাগুলো একই রয়ে যায়। তাই "Song of Bangladesh" কখনো পুরনো হয় না। বায়েজও তাঁর জায়গায় থেকে যান - ওয়াশিংটন স্কোয়্যারের ভিড়ে যুদ্ধবিরোধী মানুষগুলোর কন্ঠে, আরো অনেক প্রতিবাদী গায়ক-গায়িকার সাথে...
এবং আমাকে এই মুহুর্তে দিওয়ানা - ফিদা - পাগল - যা খুশী বলতে পারেন, একটুও তর্ক করবো না, বায়েজে আমি এতটাই আচ্ছন্ন।
Thursday, August 17, 2006
স্বপ্ন দেখতে দেখতে...
আইডিয়াটা মন্দ নয় - বাড়ি যেতে হলে দশ ঘন্টা প্লেনে কাটাতে হয়, অসহ্য। ঘুম পাড়ানি ইঞ্জেকশন নিতে আমি অন্ততঃ খুব রাজি। তার সঙ্গে "কাস্টমাইজড স্বপ্ন" - ঘুমোতে ঘুমোতে স্বপ্ন দেখবেন হাওয়াইয়ের সমুদ্রতটে বসে আছেন, বা এভারেস্টের চুড়োয়...স্বপ্ন শেষ হলেই আপনার গন্তব্যস্থল...বাড়ি। মন্দ কি?
Wednesday, August 16, 2006
আবাপ দেখতে পাচ্ছি না...
প্রসঙ্গতঃ, ইউনিকোড নিয়ে এই লেখাটা ভালো লাগলো, এই নিয়ে একসাথে এগোনো খুব জরুরী।
Tuesday, August 15, 2006
রাজনীতির শিকার না অরাজনীতির?
জনতার আদালতে, আনন্দবাজারের বিচারে দোষী হল "ছাত্র রাজনীতি"...এই পোস্টটা সেই নিয়েই। সৌমিকের মৃত্যু নিঃসন্দেহে দুঃখজনক, কিন্তু দোষী কি রাজনীতি, না কিছু আহাম্মক যারা রাজনীতিতে ঢুকে বসে থাকে? দিন দুয়েক আগে টাইমস অব ইন্ডিয়া মতামত জানতে চেয়েছিলো, খুব স্বাভাবিকভাবেই যা বলেছি তার ৮০% গায়েব...
প্রথমে একটা কথা আছে আবাপ-র বক্তব্য নিয়ে - "বাইরের সক্রিয় রাজনৈতিক সহায়তায় ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা থাকে" - একেবারে গপ্পোকথা৷ আমাদের সঙ্গে এস এফ আই জেলা বা রাজ্য কমিটির যোগাযোগ ছিলো ঠিকই, এবং থাকাই স্বাভাবিক, কিন্তু বি ই কলেজের আভ্যন্তরীন ইস্যুতে আমরা কখনো কাউকে নাক গলাতে দিই নি৷ জেলায় যদি ছাত্র ধর্মঘটের ডাক থাকতো, তার প্রচার আমরা নিজেরা করতাম, কলেজের ভিতরে বাইরে থেকে এস এফ আই কমরেডরা এসে কাজ করতো না - এই ব্যাপারে আমাদের ক্লিয়ার আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিলো - হ্যাঁ, বিভিন্ন লেভেলে মীটিং হয়েছে, কখনো আমাদের ঘরেই, কিন্তু ওই অবধিই৷ কাজেই বাইরে থেকে অন্য কর্মীরা এসে ভোটের সময় গণ্ডগোল করতো - এটা রীতিমতন কষ্টকল্পনা৷ বরং ভোট বা ছাত্র পরিষদের ধর্মঘটের সময় অম্বিকা ব্যানার্জীকে কলেজে ছাত্র পরিষদের বেঞ্চিতে বসে থাকতে দেখেছি৷
অবশ্য বাইরের সাধারণ লোকজনের সঙ্গে বি ই কলেজের ছাত্রদের সম্পর্ক কোনকালেই স্বাভাবিক ছিলো না৷ অনেক ক্ষেত্রেই "আমি কি হনু" ভাব দেখাতে গিয়ে এক শ্রেণীর ছাত্র একটা বাজে ধারণা তৈরী করতো৷
তবে, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি অবধি কলেজের অবস্থা অনেক সুস্থ ছিলো, কারণ চেষ্টা করা হত একটা সুস্থ রাজনৈতিক পরিস্থিতি রাখার৷ তখন কলেজে ছাত্র ফেডারেশন ছাড়াও ছিলো ছাত্র পরিষদ এবং নকশালপন্থী পি এস এ - স্ট্রাইক-টাইকের সময় কলেজ গেটে গণ্ডগোল হয়নি তা নয় - কিন্তু হকি-স্টিক, রড, চেন - না:, সে অবস্থায় পৌঁছত না৷ একবারই বড় গণ্ডগোল হয়েছিলো - কিছু বিশেষ ছাত্র কয়েকজন কর্মচারী এবং, ডেপুটি রেজিস্ট্রারের গায়ে হাত তোলার পরে - সেই গণ্ডগোলটা এতটাই ছড়িয়েছিলো যে আশে পাশের মানুষজন জড়িয়ে পড়েছিলো৷ কিছুদিনের জন্যে হোস্টেল খালি করে দিতে হয় - আমরা তখন ফার্স্ট ইয়ার, সম্ভবত ৯২ সালের শুরুর কথা - তবে সেই কয়েকজন ছাত্র ক্ষমা চেয়ে নেয়, শাস্তিও হয়, এই ঘটনা ওখানেই শেষ হয়ে গেছিলো৷
তবে এখনকার মতন ঘটনা - ছাত্রদের মধ্যে এরকম মারামারি - আমাদের কাছে নতুন৷ এই ট্রেন্ডটা দেখছি নব্বইয়ের দশকের শেষের দিক থেকে৷ মানে যে সময় থেকে কলেজে রাজনীতির ট্রেন্ড কমতে থাকে৷ নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিই তত্কালীন ভিসি - স্পর্শমণি চট্টোপাধ্যায়, এবং রেজিস্ট্রার - এন উপাধ্যায় - রাজনৈতিক কাজের ওপর নানারকম নিষেধাজ্ঞা জারি করতে শুরু করেন - টি এন শেষন স্টাইলে, বা এবারের বিধানসভা নির্বাচন স্টাইলে৷ এর আগে থেকেই ছাত্র পরিষদ একটা "অরাজনৈতিক" ভাব বজায় রাখতো - অরাজনীতির রাজনীতি, যেটাকে আমরা কাউন্টার করার চেষ্টা করতাম৷ কলেজ কতৃপক্ষও সমস্ত রাজনৈতিক কাজের বিরোধিতা করায় এই অরাজনৈতিক ব্যাপারটা হাওয়া পায়, ছাত্র পরিষদ পাল্টে এখনকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসলিডেশন তৈরী হয় - এদের তো নিজেদের মধ্যেই খেয়োখেয়ি আছে...ছাত্র পরিষদের "অরাজনৈতিক" বক্তব্য ছিলো- "কলেজে এসেছিস, ফূর্তি করবি, মস্তি করবি - বাইরে কি হল তাই দিয়ে আমাদের কি দরকার" - আমরা এটাকে ঠেকাতাম৷ এই মস্তি/ফূর্তি কালচার কিন্তু আরো অনেক কিছু টেনে এনেছিলো - মদ, ব্লু ফিল্ম, কোরেক্স...আমরা হোস্টেলে প্রয়োজনে জোর করে ব্লু ফিল্ম আটকেছি, এই কালচার ঠেকানোর চেষ্টা করেছি পলিটিক্যালি৷ মুশকিল হল এই কালচারের বিরুদ্ধে লড়াই না থাকলে, এই কালচার ছেয়ে যায়...এবং সেটাই সম্ভবতঃ হয়েছিলো, সম্ভবত এখনও রয়ে গেছে৷
এছাড়া অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রশ্ন আছে - আমার ব্যক্তিগত (এবং সম্ভবত অনেকের ব্যক্তিগত) ধারণায় স্পর্শমণি চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত বাজে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ছিলেন - যত নামকরা অ্যাকাডেমিকই হয়ে থাকুন না কেন৷ ওঁর আগে ড: বিমল সেনের একটা অসাধারণ পার্সোনালিটি ছিলো, যার জন্যে তিনি অনেক শ্রদ্ধা আদায় করে নিতেন৷ ড: সেনের সাথে মুখোমুখি প্রচণ্ড তর্ক হয়েছে, উনি একবার আমাকে সকলের সামনে বলেছিলেন "তুমি কি করে কলেজ থেকে বেরোও দেখবো" - কিন্তু ওঁর ওপর থেকে শ্রদ্ধা কমেনি - উনি আমাদেরও কিন্তু সমান রেসপেক্ট দিতেন৷ এই ব্যাপারটা পরের দিকে কমে এসেছিলো বলে মনে হয়৷
আরো একটা ব্যাপার আমার মনে হয় এখানে কাজ করেছে - আমাদের সময়ে ফার্স্ট/সেকেণ্ড/থার্ড ইয়ার - সব একই হোস্টেলে থাকতো - ফলে মেলামেশা অনেক বেশি ছিলো৷ এর খারাপ দিকও ছিলো - নির্বিচারে ragging, এর জন্যেই ৯৪-৯৫ সালে হোস্টেল আলাদা করে দেওয়া হয়৷ ছাত্র পরিষদ এর তুমুল বিরোধিতা করে, ছাত্রদের অধিকাংশও - বেশ কিছুদিন অনশন হয়েছিলো৷ এস এফ আই নীতিগত কারণে হোস্টেল আলাদা করে দেওয়াকে সমর্থন করেছিলো৷ আমার মাঝে মাঝে মনে হয় ওই আলাদা করে দেওয়াতে এক হোস্টেলে থাকার মতন মেলামেশা যে বন্ধ হয়ে গেছিলো, সেটাই এখনকার এই গোলমেলে অ্যাটিচিউডের একটা কারণ নয়তো? এখন অধিকাংশ গণ্ডগোল কিন্তু এক হোস্টেল বনাম আর এক হোস্টেল, অর্থাৎ, এক ইয়ার বনাম আরেক ইয়ার...
আরো একটা পনেরই আগস্ট...
"সেদিন যখন জাতীয় পতাকায় মালা
আর গান্ধী-নেহরুর কপালে চন্দনের তিলক আঁকা হচ্ছিল,
কৃষাণী হরিদাসী তার ভগ্নকুটীরের খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি,
শতছিন্ন পোশাকে বেরিয়ে পড়েছিল পথে,
স্বাধীনতার পতাকার আড়ালে
সে এক সুখী সমাজ ও জীবন দেখতে পেয়েছিলো৷
রমজান মিঞা, উদ্দাম মেঘনায়
যে দরাজ গলায় গান গেয়ে নৌকা বাইতো,
সে সেদিন জোর করে
তার নৌকোটাকে মাঝনদীতে ডুবিয়ে দিয়েছিলো,
সে জেনেছিলো রোদ-বৃষ্টি-ঝড়কে উপেক্ষা করে
তাকে আর নৌকা ঠেলতে হবে না৷
স্বাধীন হয়ে গেল সবাই, নদী ঝাঁপিয়ে
সেও সেদিন পথের মিছিলে ছুটে এসেছিলো৷
ভুতনাথ মাহাতো, যে রাজপথে রিক্সা চালাতো,
সে সেদিন ভোরে উঠে তার গাড়ি সাজালো,
মালায়, চন্দনে আর পতাকায়৷
পথে বেরলো সে, বড় আনন্দের দিন...
হঠাৎ ভুতনাথ লাফিয়ে উঠলে, চিত্কার করে উঠলো,
বন্দে মাতরম্, বন্দে মাতরম্৷
মেঘনা নদীর সেই মাঝি আজ গান ভুলে গেছে,
উদাস নয়নে সে এখন নদীর ধারে বসে থাকে৷
হরিদাসী এখন গঞ্জের নিষিদ্ধ এলাকায় সন্ধ্যের পরে দাঁড়িয়ে থাকে
একমুঠো অন্নের আশায়৷
ভুতনাথ মাহাতো শহরের ফুটপাথে রাত কাটায়,
নি:স্তব্ধ রাত্রে তার কাশির শব্দ শোনা যায়৷
অথচ, ঠিক তেমনি করে সেদিনের মতো আজও
হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ টাকায় ব্যয় করে
স্বাধীনতাদিবস পালিত হয়,
লালকেল্লার দুর্গ থেকে ভাষণ প্রতি ঘরে ঘরে শোনা যায়,
হরিদাসী, রমজান মিঞা, ভুতনাথ মাহাতো
চিত্কার করে বলে ওঠে -
স্বাধীনতা, তুমি কার?
স্বাধীনতা, তুমি কিসের জন্যে?"
Thursday, August 10, 2006
টুকিটাকি
" (১) এখন গরমকাল - বেজায় গরম, যাকে বলে "পীক সামার" - গোটা ইংল্যাণ্ডে লোক হাঁসফাঁস করছে৷ করবে নাই বা কেন,প্রধাণত: শীতের দেশ, সেখানে দুম করে বত্রিশ-তেত্রিশ-কোথাও পঁয়ত্রিশ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা অস্বস্তিকর তো বটেই৷ তুমুল জল্পনা - উনিশশো এগারোর রেকর্ড (সাঁইত্রিশ ডিগ্রী) হয়তো ভাঙতে পারে৷ সকালের মেট্রোতে খবর - "Commuters in London are travelling in temperatures higher than those in which cattle are transported. Buses in London have reached 52 degree Celcius, while the tube reached 47 degrees. According to the EU guidelines, cattle are not to be transported in temperatures above 27 degrees." হাঁসফাঁসানো লোকে কটিবস্ত্র গলিয়ে ঝাঁক বেঁধে দৌড়েছে সমুদ্রের ধারে৷ লণ্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়্যারে ঘুরতে গেলে ওখানকার ফোয়ারাতে অগণিত স্নানদৃশ্য - মতান্তরে চোখের আরাম৷
(২) এইচ এম এস গ্লস্টার - যে কিনা বেইরুট থেকে একশো আশি জন আটকে পরা ব্রিটিশদের সাইপ্রাসে নিয়ে এসেছে, ক্রমশ আরো আসবে - আনুমানিক বিশ হাজার - ডানকার্কের পর এই প্রথম এত বড় ইভ্যাকুয়েশন৷
(৩) লেবাননের ওপর আরো ইজরায়েলী বোমা-বর্ষন৷
(৪) জি-৮ সামিটে বড়দা বুশ এবং ছোট ভাই ব্লেয়ারের ঘনিষ্ঠ কথোপকথন - যেখানে রাষ্ট্রপুঞ্জ, হেজবোল্লার পাশাপাশি আলোচনার বিষয়বস্তু হয় একটা সোয়েটার৷
(৫) ফুটবলের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ "সেল" - জুভেন্টাস, লাজিও, ফিওরেন্টিনা আর এ সি মিলানের শাস্তির পরে কোন ফুটবলারের বাজারে কত দাম৷
(৬) তৃতীয়বার বাবা হলেন গর্ডন ব্রাউন৷৷৷
...
এর মাঝে দুটো ছোট্ট খবর একবার সামনে এসেই মিলিয়ে যায়, বুলবুলভাজার হেডলাইন সেগুলোই...
(১) সেই এক নিরীহ ব্রাজিলিয় ইলেক্টিশিয়ানের কথা মনে পড়ে? সেই জাঁ চার্লস ডি মেনেজেস? বাইশে জুলাই, ২০০৫ যাকে সশস্ত্র পুলিশবাহিনী স্টকওয়েল টিউব স্টেশনের ভিতরে গুলি করে মারে "সুইসাইড বম্বার" সন্দেহে - কোন প্রশ্ন না করে, কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে? প্রায় এক বছর পর ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের রায় - কোন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ নেই, হ্যাঁ, কিছু ভুল হয়েছিলো বটে৷
"Despite mistakes made in planning and communication by officers, there had been "insufficient evidence to provide a realistic prospect of conviction against any individual police officer"."
ইনডিপেন্ডেন্ট পুলিশ কমিশনের রিপোর্ট অন্ধকারে থেকে যায়, সম্ভবত পুরো ঘটনার কঠোর-সমালোচনার জন্যে৷ ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের রায় - ১৯৭৪ সালের "কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ এবং সুরক্ষা" আইনের সেকশন তিন এবং তেত্রিশ নম্বর ধারার আওতায় মেট্রোপলিটান পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত হোক - for "failing to provide for the health, safety and welfare" of Mr Menezes on 22 July - খুন নয়, ফেইলিং টু প্রোভাইড হেল্থ, সেফটি অ্যাণ্ড ওয়েলফেয়ার৷ পুলিশ কখনো খুন করে না৷
সাঁইত্রিশ ডিগ্রী তাপমাত্রায় স্টকওয়েল টিউব স্টেশনের পাশে জাঁ চার্লস ডি মেনেজেসের অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে পড়ে থাকা ফুলগুলো শুকোতে থাকে...
(২) সোয়ান হান্টার শিপইয়ার্ড থেকে ধীরগতিতে বেরিয়ে যায় ইয়ার্ডে তৈরী হতে থাকা শেষ জাহাজটা - কাজ শেষ হবে গ্লাসগোতে৷ টাইন নদীর দুধার নীরব চোখে তাকিয়ে থাকে ক্রমশ: দূরে যেতে থাকা ষোল হাজার টনের RFA Lyme Bay -র দিকে৷ একশো ছেচল্লিশ বছরের জাহাজ তৈরীর ইতিহাস শেষ, বন্ধ হল টাইনের ধারের শেষ জাহার তৈরীর ইয়ার্ড৷ প্রতিরক্ষা দপ্তরের বক্তব্য ক্রমবর্ধমান খরচ, এবং কাজ শেষ হতে দেরীই এই কনট্র্যাক্ট বাতিল করে দেওয়ার কারণ, এবং, তার জন্যে দায়ী সোয়ান হান্টারের ম্যানেজমেন্ট৷ জাহাজের কোয়ালিটি নিয়ে কোন বিতর্কই নেই৷
কয়েক দশক আগেও এই একই সোয়ান হান্টারে কাজ করতো প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার শ্রমিক, নয় নয় করে ষোলশোর বেশি জাহাজ তৈরী হয়ে বেরিয়েছে এই ইয়ার্ড থেকে...কিন্তু নর্থ-সাউথ ডিভাইড অন্যান্য ইয়ার্ড আর কোলিয়ারিগুলোর মতন এরও শেষ বাঁশি বাজিয়ে দিলো৷
সাঁইত্রিশ ডিগ্রী তাপমাত্রায় পুড়তে থাকে ধুলো ঢাকা নির্জন সোয়ান হান্টার - টাইন নদীর ধারের শেষ শিপইয়ার্ড৷৷৷হয়তো এবার এখানে জাহাজ ভাঙা হবে..."
Wednesday, August 02, 2006
ওরা ভবিষ্যতের সন্ত্রাসবাদী
বাংলালাইভ মজলিশে দূর্গার লেখাটা পড়ে থমকে গেলাম৷ কিছুদিন ধরেই এই বিষয়টা নিয়ে লেখার ইচ্ছে ছিলো, আজ মনে হল দূর্গার লেখাটা দিয়ে শুরু করি৷
"কাল ছবিটা তাড়াতে চেয়েছি অনেক, আজ আবার এই লেখাটায় করে সে এসে পৌঁছলো আমার সামনে৷ তুলে দিচ্ছি - 'He picks up the body of the smallest one and holds it up for a second to show us. The boy is dressed in green shorts and white sleeveless t-shirt. Aside from the white dust that covers his body, there are no signs of the blast trauma and falling concrete that likely killed him. His eyes are closed and the only evidence of his violent death seems to be the slight gritting of his teeth.'
মুছে দিতে চাই ওকে মন থেকে, এখানেই ক'দিন আগে পড়া দাওয়াইটাই কাজে লাগাতে চাই, "ভবিষ্যতের সন্ত্রাসবাদী" ভাবতে চাই ওকে, কিন্তু পারি না৷ ও ঠিক গিয়ে ঠাঁই নেয় ছোট্ট দুটো হাফপ্যান্ট পরা পায়ের পাশে, যে ঘুমিয়ে থাকা পা দুটোতে আদর করে আমি অফিসে এসেছি আজ৷ সত্যিই মনে হয় - পুরোপুরি অপ্রকৃথিস্ত না হয়ে গেলে এই পৃথিবীতে স্বাভাবিকভাবে থাকা খুবই কঠিন৷
ওরা ভবিষ্যতের সন্ত্রাসবাদী৷ একজন লিখেছিলেন (সেই বাংলালাইভেই) - যে তিনশোজন বোমার আঘাতে মারা গেছে, খোঁজ নিয়ে দেখলে জানা যাবে তার মধ্যে দুশোজনই সন্ত্রাসবাদী, আর পঞ্চাশজন 'ভবিষ্যতের সন্ত্রাসবাদী'৷ সেদিন চমকেছিলাম - কি অদ্ভুত সহজভাবে আমরা মানুষকে চিহ্নিত করে দিই...যে সাইঁত্রিশটা শিশু মারা গেলো, তাদের গায়ে আমরা সভ্য শিক্ষিত মানুষের দল কি অনায়াসেই ছাপ মেরে দিয়েছিলাম সেদিন...ওরা ভবিষ্যতের সন্ত্রাসবাদী...
"কত হাজার মরলে পরে, মানবে তুমি শেষে
বড্ড বেশি মানুষ গেছে বানের জলে ভেসে"
আজ নিজেকে সভ্য, শিক্ষিত বলতে লজ্জা করলো৷
Wednesday, July 26, 2006
একটা গানের খাতা
গানগুলো সঙ্গ ছাড়েনি, এখনও গুণগুণিয়ে...ঘরে বা চানঘরে...ছেলেকে শোনানোর জন্যে...কয়েকদিন আগে একটা গান পুরোটা মনে না পড়াতে সেই খাতাটার কথা মনে পড়লো - কত যে গান ছিলো ওতে...
শমিক গানটা যোগার করে দিয়েছে, লক্ষ্মী ছেলে...
হুঁশিয়ার, ও সাথী কিষাণ মজদুর ভাইসব হুঁশিয়ার।
মৃত্যুর বিভীষিকা ছড়াতে ছড়াতে গ্রাম
জ্বালাতে জ্বালাতে মাটি
হিংস্র সাপের রাশি তুলেছে ফনা
কেড়ে নিতে বাঁচবার লড়বার অধিকার
রক্তে রক্তে বোনা ফসলের অধিকার
সাথীদের খুনে রাঙা পথে দ্যাখো
হায়েনার আনাগোনা...
জানি পারবে না কেড়ে নিতে জনতার অধিকার
পারবে না কেড়ে নিতে পারবে না,
পারবে না শত্রুরা পারবে না।
জাগ্রত জনতার রোষানলে পুড়ে যাবে
পুড়ে যাবে শত্রুর শাণিত ফনা।
পারবে না শত্রুরা পারবে না৷
তাই আহ্বান দিকে দিকে নয় আর দেরি নয়,
সময় তো নেই আর ভাই রে
জোটটাকে আমাদের বজ্রকঠিন করে
তুলে নাও হাতিয়ার ভাই রে
ছিঁড়ে ফ্যালো দৃঢ় হাতে চক্রান্তের জাল
বিভেদের কুমন্ত্রণা,
সাথীদের খুনে রাঙা পথে দ্যাখো
হায়েনার আনাগোনা...
জানি জ্বলছে জ্বলছে শত অগ্নিপাথার বুকে
চক্ষে চক্ষে জ্বলে তীব্র ঘৃণা
সাথীদের খুনে বুকে উল্কা-জ্বালার দাহ
রক্তিম শপথের ভরা চেতনা
সাথীদের খুনে রাঙা পথে দ্যাখো
হায়েনার আনাগোনা...
তাই আহ্বান
ও সাথী কিষাণ মজদুর ভাই শোন আহ্বান।
তাই আহ্বান দিকে দিকে নয় আর দেরি নয়,
সময় তো নেই আর ভাই রে
জোটটাকে আমাদের বজ্রকঠিন করে
তুলে নাও হাতিয়ার তাই রে
কালজয়ী সংগ্রাম শুরু করো বন্ধুরা
হেঁকে বলো সইব না, সইব না
সাথীদের খুনে রাঙা পথে পথে
হায়েনার আনাগোনা আর সইবো না।
সাথীদের খুনে রাঙা পথে দ্যাখো
হায়েনার আনাগোনা...
থ্যাঙ্ক ইউ, শমিক।
একজন প্রতিবাদী গায়ক - পীট সীগার
The New Yorker
April 17, 2006
THE PROTEST SINGER
Pete Seeger and American folk music.
BY ALEC WILKINSON
'You wouldn't have heard that speech fifty years ago," Toshi said.
Monday, July 17, 2006
রোজবেরি টপিং, ফাটা প্যান্ট এবং মাউন্টেন রেসকিউ
গপ্পোটা বলি শোন৷
প্রতি হপ্তাতেই প্রায় কোথাও না কোথাও যাই - বয়স হচ্ছে, ওজন বাড়ছে - তাই হাঁটতে, বেড়ানোও হয়, সাথে একটু গা-ঘামানো, এই করেই যদি ওজনটা কমে৷ ব্রিটিশরা হাঁটতে খুব ভালোবাসে, তাই হাঁটার রুট নিয়ে প্রচুর সাইট আছে, ওয়াকিং রুটগুলো খুব ভালো করে মেনটেন করা হয়, রীতিমতন ভালো ডিরেকশন দেওয়া...তো সেই রকম এক সাইট থেকে "রোজবেরি টপিং" এর খবর জোগাড় হল৷ মিডলসবরোর কাছে "নর্থ-ইয়র্ক মুর"-এর একদম শুরুর দিকে, মাইল চারেকের পথ, ক্যাটেগরি "strenuous" (যদিও সেটা আগে খেয়াল করে দেখা হয়নি) - হেঁটে একটা পাহাড়ের মাথায় ওঠা এবং নামা, পথটা একটা বনের মধ্যে দিয়ে গেছে, আশেপাশের দৃশ্য অতীব সুন্দর - এরকমই দাবি ছিলো লিফলেটে৷ তাই গেলুম, পার্কিং লটে গাড়ি রেখে একটু খেয়ে হাঁটার শুরু৷
কিছুদূর গিয়ে দেখলুম রাস্তা দুভাগ হয়েছে, একটা পথ বাঁদিকে চলে গেছে, দিব্যি সুন্দর হাঁটা রাস্তা, আরেকটা সিধে ওপরদিকে উঠেছে, ভালো চড়াই (সেটা কতদূর ভালো সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য)৷ সিধে রাস্তাতে দেখলাম বেশ ওপরে জনাদুই লোক উঠছে, আমরাও ভাবলুম এটাতেই যাই৷ আমি একবার সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছিলুম - একটা পুঁচকে ছেলে আছে, ফুটপাথ ধরেই যাই, কিন্তু...তো যাই হোক, এই ভোটের ফল তো জানা - ভোট নয়, ভেটো - চড়াইটাই ধরা ঠিক হল৷
চড়াইয়ে তিনটে ধাপ, প্রথম ধাপটা ছোট, পঞ্চাশ ফুট মতন - খুব বেশি খাড়া নয়, কিন্তু ঝুড়ো মাটি৷ তার মধ্যে যে পাথর-টাথরগুলো আটকে রয়েছে সেই ধরে প্রথম ধাপ অবধি তো পৌঁছনো গেলো৷ সেখানে আবার সেই জনসাধারণের জন্যে নির্মিত পথখানা...চড়াইয়ে উঠছি, তাই সেখানাকে ইগনোর মোডে ফেলে দেওয়া গেলো৷ এবার দ্বিতীয় ধাপ৷ প্রথম কুড়ি-তিরিশ ফুট অবধি ঠিকঠাক, কিন্তু হাত ব্যবহার না করলে হেঁটে ওঠা অসম্ভব৷ আমি সুমনাকে বল্লুম তুমি আর ঋক আগে ওঠ, আমি পিছনে আসছি, দরকারে আমি ধরতে পারবো - কেউ যদি গড়ায় আর কি৷ সে প্ল্যান খাটলো না৷ ঋকবাবু মায়ের সঙ্গে যাবেন না, এবং তাঁর প্রথম আপত্তি হল হাতে মাটি লাগবে৷ একটু চেষ্টা-চরিত্তির করতে করতেই তিনি একবার ধপাস হয়ে ভ্যাঁ জুড়লেন - অগত্যা আমার হাত ধরে তাঁর ওঠা শুরু হল৷ আমি এক হাতে ঋককে একটু করে তুলছি, তারপর নিজে উঠছি, পিঠে ব্যাগ, পিছনে সুমনা আসছে৷ এবার যত উঠি, দেখি স্লোপটা তত খাড়া হচ্ছে৷ সামনের প্রায় শ তিনেক ফুট বেশ খাড়া - আমাকেও হাত-পা ব্যবহার করে রীতিমতন স্ক্র্যাম্বল করতে হচ্ছে৷ এবং ঋককে নিয়ে ওঠা ক্রমশ: মুশকিল হচ্ছে৷ কিন্তু ততক্ষণে প্রায় পঞ্চাশফুট উঠে এসেছি, ঐ পথে নামা আরো কঠিন৷ আমি আগে পুরুলিয়ায় পাহাড়ে চড়েছি দড়িদড়া নিয়ে - আমি পারলেও, ঋককে নামাতে পারবো না, সুমনা বলেই দিলো ও নামবে না, মানে পারবে না৷ সুতরাং উঠে যাওয়াই একমাত্র উপায়৷
প্রায় মাঝামাঝি যখন পৌঁছেছি, তখন আরেকটা কোনক্রমে দাঁড়ানো বা বসার জায়গা, সেখানে ঋককে বসিয়ে ভালো করে ওপর-নীচ খতিয়ে দেখলুম৷ সামনে আরো অন্তত: দেড়শো ফুট, প্রায় ন্যাড়া, মাটিতে অল্প ঘাস, কিন্তু সে ঘাস ধরে ওঠার চেষ্টা করলে ঘাস উপড়ে আসবে৷ আগে অন্যান্য লোক গেছে বলে (এবং ভেজা অবস্থায় গেছে নির্ঘাত) কিছু খোঁদল রয়েছে - জুতোর খোঁদল৷ ওগুলো ধরে ওঠা ছাড়া কোন গতিক নেই৷ আরেকবার ভাবলুম নেমে যাবো কিনা - কিন্তু তখন নামা অসম্ভব হয়ে গেছে৷ সুমনা ঐ ছোট ধাপের কাছাকাছি যখন পৌঁছেছে, তখন আমি ঋককে নিয়ে আবার উঠতে শুরু করলুম - এবার আর কোথাও দাঁড়ানোর উপায় নেই৷ নিচে সুমনাকে যে টেনে তুলবো, তাও সম্ভব নয়৷ এক হাতে ঋককে একটু করে তুলছি, এবার ওকে বাধ্য হয়ে হাত দিয়েও খামচে উঠতে হচ্ছে, একটা জুতোর গর্তে ঋক যখন পা রাখছে, ওকে পিছন থেকে ধরে আমি নিজে এক ধাপ উঠছি৷ মাঝে মাঝেই ঋক আমার ঘাড়ে ওঠার জন্যে বায়না করছে - ঘাড়ে উঠবে কি - পিঠে বাঁধা গেলে হয়তো ওঠা সম্ভব৷ হঠাত্ "ফড়াত্" - আমার সাধের আউটডোর ট্রাউজারের পায়ের ভিতরের দিকে যে সেলাই থাকে সেখানে ফাটলো৷ প্রথমে ছোট৷ তারপরে এক একটা ধাপ উঠছি, আরেকটু ফড়াত্...ঋকের কান্না, ঐ ফড়াত্ ফড়াত্, আর সুমনার "এবার কোনদিকে" শুনতে শুনতে আর ঋককে কোনমতে ঠেলতে ঠেলতে দ্বিতীয় ধাপের মাথায় তুলে ধপ করে বসে পড়লুম৷ ঋককে একটা পাথরের পাশে বসিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে চমত্কৃত৷ ওখান থেকে পড়লে আর দেখতে হবে না...গড়গড়িয়ে সিধে নীচে, তাতে মরণ না হলেও হাসপাতালে গমন অবশ্যম্ভাবী৷ দ্বিতীয় চমক নিজেকে দেখে - বেল্টের ঠিক নীচ থেকে হাঁটুর তলা অবধি - প্যান্টটা পুরো পতাকা হয়ে ঝুলছে, পুলিশে চাইলে ইনডিসেন্ট এক্সপোজারের জন্যে হাজতে ভরতে পারে, একদম কেলেংকারী কেস নয় যদিও, তবুও...
এবার তৃতীয় সমস্যা হল সুমনাকে দেখতে পাচ্ছি না৷ আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে, তার নীচের বেশ কিছুটা অতি খাড়া, তার নীচে খান কয়েক ঝোপঝাড়, কিন্তু সুমনা নেই৷ হাঁক পাড়লুম - ঝোপের আড়াল থেকে সাড়া এলো৷ সুমনা ওখানে আটকে আছে, আর এগোতে পারছে না৷ অনেক হাঁকডাকের পর মাথাটা বেরলো, তারপর বাকিটা - ওখানে চারটে খোঁদলে হাত-পা আটকে সুমনা প্রায় ত্রিশঙ্কু৷ বেশ কিছুটা মেহনত করে ফুট কয়েক উঠলো, কিন্তু এমন একটা জায়গায় চলে গেছে যেখান থেকে ধরে ওঠার মতন আর কিছু নেই৷ আমি যে গর্তগুলো বেয়ে উঠেছি সেগুলো থেকে বেশ কিছুটা ডানদিকে সরে গেছে৷ এবার আমি যত বলি গর্তগুলোর কাছে এসো, সে আর পারে না৷ বলে আমি আর উঠতে পারবো না, নামতেও পারবো না - তুমি এমার্জেন্সী ডায়াল করো৷ মুশকিল হল আমি ঋককে বসিয়ে যেতে পারছি না, কারণ আমি নামলেই তিনি ধারে এসে পর্যবেক্ষণ শুরু করবেন - তাহলে পড়ে যাবার প্রভুত চান্স৷ দড়িও নেই যে দড়ি নামিয়ে দেবো...আর অন্য কেউও সেদিক দিয়ে আসছে না যে সাহায্য করবে৷ গতিক না দেখে করলুম ৯৯৯ - তারা বলে "ফায়ার, অ্যামবুলেন্স না পুলিশ" - আমি বল্লুম "মাউন্টেন রেসকিউ" - তো সেখানে ট্রান্সফার করে দিলো৷ ওদের পুরো অবস্থাটা বল্লুম - যে আমার বউ রোজবেরি টপিংয়ের স্লোপে ঝুলছে, উঠতেও পারছে না, নামা সম্ভব নয় - বাঁচাও...সে কত প্রশ্ন - তোমার নাম কি, বউয়ের নাম কি, বয়স কত, তোমার সাথে আর কেউ আছে কিনা, বাচ্চা-টাচ্চা - বল্লুম হ্যাঁ, একটা ছোট ছেলে আছে, কিন্তু সে সেফ...তখন বল্লে যে আমরা আসছি৷
এর ঠিক পরেই দেখি একটা অল্পবয়সী ছেলে আর তার বাবা ঐ পথেই উঠছে৷ ছেলেটা রীতিমতন মাউন্টেনিয়ারিং জানে, চটপট উঠছে, তার বাবাও তাই৷ ওরা পাশ দিয়ে আসার সময় সুমনাকে বললো যে ওরা যেখান দিয়ে যাচ্ছে, সেখান দিয়ে আসতে৷ ছেলেটার বাবা বেশ ভারিক্কী চেহারার, ওকে দেখে সুমনার ভরসা মনে হয় বাড়লো কিছুটা, হাঁচোড়-পাঁচোড় করে মাথা অবধি চলে আসার পরে আমি টেনে নিলুম৷ সাথে সাথেই মাউন্টেন রেসকিউয়ের ফোন - যে আমরা রওনা দিচ্ছি - তোমরা ঠিক আছো কি? আমি বল্লুম যে আরেকটা টীম আসছিলো, তারা সাহায্য করেছে, আমার বউ উঠে এসেছে...
এর পর আর গপ্পো নেই৷ আমার প্যান্ট তো ঐরকম পতাকা হয়ে রয়েছে, ব্যাগ থেকে ঋকের একটা স্পেয়ার শার্ট নিয়ে পায়ের ফাঁক দিয়ে বাঁধলুম, হাঁটুর কাছে নিজের রুমালটা বাঁধলুম, সুমনার কাছে সেফটিপিন ছিলো - সেই দিয়ে নিজের জামাটা প্যান্টের সঙ্গে আটকে দিলুম - যাতে কোনরকমে রেখেঢেকে রাখা যায়৷ কিন্তু মুশকিল হল এক পা করে হাঁটছি, আর ফুট করে আরেকটু ছিঁড়ছে...দেখলুম ঐ করে আর পুরো পাহাড়ের মাথা অবধি যাওয়া যাবে না, তাইলে আর প্যান্টটাই থাকবে না...অগত্যা নেমে গেলুম - এবার রাস্তা দিয়ে৷ অবশ্য সুমনার অলরেডী তখন প্যানিক হয়ে গেছে - রাস্তাটা মোটামুটি ঢালু - কিন্তু তাতেও ভয় পাচ্ছে...ধরে ধরে নামলো...
কি শিখলুম?
(১) আউটডোর ট্রাউজার কক্ষণো সেল-এ কিনতে নেই৷
(২) আবার যাবো - কিন্তু এবার একটা দড়ি আর দুটো হুক নিয়ে৷
(৩) সুমনা বলেছে আর কক্ষণো ফুটপাথ ছেড়ে শর্টকাট ধরবে না৷
Monday, June 26, 2006
কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ
আমার ছেলের পাসপোর্ট রিনিউ করতে হবে। ঘটনাচক্রে এই ক্ষুদ্র ব্যক্তি আমেরিকান নাগরিক (এ এক যন্ত্রণা - সেই কবে পনেরো বছর হবে, তবে সে এই নাগরিকত্ব সারেণ্ডার করতে পারবে) - তাই আমেরিকান এমব্যাসীর নিয়ম দেখতে হচ্ছে। আমেরিকান এমব্যাসীতে সব পাসপোর্ট সাইজ ছবি নেয় না - নানা রকম রিক্যোয়ারমেন্ট আছে - আর ছবি তোলার মেশিন থেকে তোলা ছবি নেয় না। ওদের সাইটে বলেছে "আমরা কোন ফোটোগ্রাফার সাজেস্ট করতে পারি না, তবে এর আগে অমুক অমুক দোকান থেকে তোলা ছবি আমরা অ্যাকসেপ্ট করেছি" - দিয়ে একটা লম্বা লিস্টি - আমাদের সবচেয়ে কাছাকাছি বলতে মাইল পনেরো দূরে চেস্টার-লি-স্ট্রীটে একটা দোকান৷ শনিবার সেখেনে গেলুম - তো সকলে বিয়ের ফোটো তুলতে বাইরে গেছে, সামনের শনিবারের জন্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হল৷ এমনি পাসপোর্ট ফোটো তুলতে লাগে আট পাউণ্ড (চার কপি, সাথে সাথে দেয়) - আমেরিকান পাসপোর্টের ফোটো তুলতে বিশ পাউণ্ড!!! আমি বল্লুম নির্ঘাত কমিশন দেয়, আমার বউ বল্ল "না - এটা কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ - ওসব তুমি বুঝবে না":-))
Thursday, June 22, 2006
জর্ডি আর ম্যাকেম
50 degrees - Southerners turn on their heating. People in Newcastle plant their gardens.
40 degrees - Southerners shiver uncontrollably. People in Newcastle sunbathe.
35 degrees - Southerners cars will not start. People in Newcastle drive with their windows down.
20 degrees - Southerners wear coats, gloves and wool hats. People in Newcastle throw on a t-shirt.(Girls wear mini-skirts)
15 degrees - Southerners begin to evacuate. People in Newcastle go swimming in the North Sea.
ZERO degrees - Southern landlords turn up the heating. People in Newcastle have the last barbeque before it gets cold.
MINUS 10 - Southerners cease to exist. People in Newcastle throw on a lightweight jacket.
MINUS 80 - Polar bears wonder if it's worth it. Boy scouts in Newcastle start wearing long trousers.
MINUS 100 - Santa Claus abandons the North Pole. People in Newcastle put on their long johns.
MINUS 173 - Alcohol freezes. People in Newcastle become frustrated because the pubs are shut.
MINUS 297 - Microbial life starts to disappear. The cows on Newcastle Town Moor complain of vets with cold hands.
MINUS 460 - All atomic motion stops. People in Newcastle start to stamp their feet and blow on their hands.
MINUS 500 - Hell freezes over. Sunderland qualify for Europe.
বিকল্প মিডিয়া
Tuesday, June 20, 2006
শহর থেকে শহরে - ৩

একটু জাম্প-কাট, দিল্লী-হেলসিঙ্কি-সিলভার স্প্রিং-গেথারসবার্গ ছেড়ে নিউক্যাসল। বড় লাফ, কিন্তু এই শহরটা না দেখলে চক্রটা অসম্পূর্ণ থেকে যেত। তাই আগে এই শহরটার কথা।তখন মেরিল্যাণ্ডে ভেরাইজনে চাকরি করি - বলা ভালো বেগার খাটি, আর পালানোর কথা ভাবি...অবাক লাগছে? শুধু পয়সার বাইরে জীবন যদি খোঁজেন আমেরিকা ভালো লাগবে না, সে দেশ "সব পেয়েছির দেশ" হলেও। আমারও অসহ্য লাগতো, বিশেষ করে প্রতিদিনের চিন্তা - কাল আমার কিউবমেটের হাতে গোলাপি কাগজ ধরিয়েছে, আজ আমাকে দেবে না তো? প্রোজেক্টে পয়সা নেই, সুতরাং তোমারও দাম নেই, দাম শুধু ওপরতলার ম্যানেজার-ভাইস প্রেসিডেন্টদের - ওদের প্রাইভেট জেট কখনো বন্ধ হয় না। আজ প্রোজেক্টে পয়সা নেই, তুমি যাও ভাই, আগের সপ্তাহে "সেরা কর্মী" হয়ে থাকলেও...তারপর সদ্য ঘটা ৯/১১...বিদেশীদের দিকে সন্দেহের চোখ...দেড় বছরের চেনা সিকিউরিটি গার্ড তখন রোজ খুঁটিয়ে আইডেন্টিটি কার্ড দেখে আগের দেড় বছর ধরে প্রতিদিন আমাদের দেখেও...এ দেশ ছেড়ে যাওয়াই ভালো।
একদিন নিউক্যাসলে এলাম ইন্টারভিউ দিতে, ইউনিভার্সিটিতে, রিসার্চের কাজ। সেদিন চোখ টানেনি শহরটা, কেমন যেন বিষন্ন, মেঘে ঢাকা, স্যাঁতস্যাঁতে...ইউনিভার্সিটির বাড়িটা অনেকটা বি ই কলেজের মতন...জমে থাকা ধুলো, নোংরা...কোথায় ভেরাইজনের ঝাঁ-চকচকে অফিসবাড়ি...কোথায় গেথার্সবার্গের ঝাঁ-চকচকে লেক-ফরেস্ট মল...
কিন্তু চলে এলাম, মাস কয়েকের মধ্যে আমেরিকার পাততাড়ি গুটিয়ে...শুরুর ঠিকানা উইন্ডসর টেরাসের এক কামরার শেয়ারড অ্যাকোমোডেশন। ততদিনে দুজন থেকে তিনজন হয়েছি, সুমনা আর ঋক গেছে কলকাতায়, যে প্লেনে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে লণ্ডন এসেছি, সেই প্লেনেই। আমি একা এসেছি নিউক্যাসলে। মাথা গোঁজার ব্যবস্থা হলে ওরা আসবে। কয়েকমাস পর নতুন ঠিকানা হল ওয়ারউইক স্ট্রীট, কলকাতা থেকে নিয়ে এলাম ওদের, সুমনা স্কট উইলসনে চাকরি পেয়ে গেলো। দেখতে দেখতে চার বছর, ওয়ারউইক স্ট্রীট থেকে এখন হেলমস্লে রোড, ঋক এখন চার পেরিয়েছে, আর আমি নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ভক্ত হয়ে গেছি। এই শহরটার কথাই লিখবো এবার।
রোমান আমলে তৈরী শহর, রোমান সম্রাট হেড্রিয়ানের তৈরী হেড্রিয়ানস ওয়ালের ধ্বংসাবশেষ এখনও আছে। রোমানরা চলে যাবার পর এর নাম হয় "মঙ্কচেস্টার", শক্তিশালী অ্যাংলো-স্যাক্সন রাজার রাজত্বের অংশ...পর পর যুদ্ধ-বিদ্রোহে মঙ্কচেস্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবার পর Robert Curthose-এর আমলে তৈরী হয় Novum Castellum বা নিউক্যাসল। শিল্পবিপ্লবের সময় মাথা তোলে নিউক্যাসল, আশে পাশে অপর্যাপ্ত কয়লার যোগানের দৌলতে। ১৫৩৮ সালে প্রথম চালু হয় প্রবাদ "Carrying coals to Newcastle" - সেও এই কয়লাখনির দৌলতে - তৈরী হয় জাহাজের কারখানা, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প - এসবের জোরেই নিউক্যাসল পাল্লা দিয়েছিলো ম্যাঞ্চেস্টার আর লিভারপুলের সাথে। সে অনেক আগের কথা। টাইন নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে, টাইনের কালো জলে নিউক্যাসলের সেদিনের স্বচ্ছলতা ধুয়ে গেছে। শেষ কয়লাখনির দরজা বন্ধ হল বছরকয়েক আগে, জাহাজের কারখানা রুগ্ন, ইংল্যাণ্ডের ক্রমশঃ বাড়তে থাকা "নর্থ-সাউথ ডিভাইড"-এর কবলে পড়ে নিউক্যাসল আজ অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে থাকা এক হাঁপানির রুগী - যার আরেকটিবার উঠে দাঁড়ানোর ইচ্ছের কোন খামতি নেই - শুধু উঠে দাঁড়ানোর জন্যে সম্বল কিছু নেই। শিল্পের সম্বলহীন নিউক্যাসল কয়েক দশক ধরে আঁকড়ে রয়েছে শুধু একটা ফুটবল ক্লাবকে - নিউক্যাসল ইউনাইটেড...
শুধুমাত্র গত দুই তিন বছরে নতুন কিছু হচ্ছে এখানে - মিলেনিয়াম ব্রীজ, বল্টিক, নতুন করে সাজানো কী-সাইড, সায়েন্স সিটি...তাও জর্ডি-প্রাইড আবর্তিত হয় নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ঘিরে...
জর্ডি মানে টাইন নদীর আশেপাশের মানুষজন...
নিউক্যাসল ইউনাইটেড এখানকার মানুষের কাছে শুধু একটা ফুটবল ক্লাব নয় - অনেক বেশি - গোটা অঞ্চলের উঠে দাঁড়ানোর হাতিয়ার। "The Geordie nation, that's what we're fighting for. London's the enemy! You exploit us, you use us." - নর্থ-সাউথ ডিভাইডের প্রত্যক্ষ ফসল, জন হলের ব্যবসা-বুদ্ধির শুরু।
মায়া পড়ে যায়। এদের দেখতে দেখতে আমিও কবে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সমর্থক হয়ে গেছি নিজেই জানি না। এখন আমিও প্রতি হপ্তায় রেডিওতে খেলা শুনতে শুনতে চেঁচাই, নিউক্যাসল ইউনাইটেড হেরে গেলে রাতের খাবারটা বিস্বাদ লাগে, পরের দিন ইউনিভার্সিটিতে কফি খেতে খেতে এই নিয়েই কথা বলি...ব্লগে মোহনবাগানের পাশে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের লিঙ্ক রাখি...
চার বছরের ছেলেটা ফুটবল বোঝে না কিছুই, কিন্তু অ্যালান শিয়ারারকে একশোবার চেনে, চেয়েচিন্তে সাদাকালো জার্সি বাগিয়েছে - পিছনে শিয়ারারের নয় নম্বর আর নাম লেখা...ওই পরে ও নার্সারীতে শিয়ারার হয়...অ্যালান শিয়ারারের টেস্টিমনিয়াল ম্যাচের দিন গোটা শহরটা যখন সাদা-কালো হয়ে ওঠে, আমিও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সাদা-কালো জামা পরি...
এই শহরটা ছেড়ে চলে যাবো শিগগিরি, বছরখানেকের মধ্যে...কিন্তু নিউক্যাসল ইউনাইটেডের স্মৃতি থেকে যাবে, ওই সাদা-কালো জামাটার মধ্যে...কখনো এই শহরটার সঙ্গে আবার দেখা হলে আমিই জিজ্ঞেস করবো - "how gadgie , ya'aalreet deein?"
মিলেনিয়াম ব্রীজ – অ্যান্থনি বার্ণস, জানুয়ারী ২০০৬
সেন্ট জেমস পার্ক – ইয়ান ব্রিটন
আমাদের মহান সংবাদমাধ্যম
এখানে গেলে দেখতে পাবেন - অবিশ্যি যদি ঝাড় খেয়ে বদলে না দিয়ে থাকে - "স্পেনকে হারিয়ে চমক তিউনিসিয়ার" - সম্ভবত সাংবাদিক ভদ্রলোক খেলা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, আর রিপোর্ট তো দিতেই হত, তাই এই খবর। আসল ফল অন্যরকম, স্পেন ৩, তিউনিসিয়া ১
ধন্য আনন্দবাজার পত্রিকা।
Tuesday, May 30, 2006
ইয়র্কশায়ার ডেলের গপ্পো

দিব্যি বেড়ালুম৷
শনিবার সকালবেলা (সকাল মানে প্রায় দশটা) রওনা দিলুম - ইয়র্কশায়ার ডেলের মধ্যে দিয়ে প্রথমে Kirkby Lonsdale - একটা ছোট্ট ব্রীজ আছে, নাম "ডেভিলস ব্রীজ", কেন ডেভিলস ব্রীজ আর কে-ই বা ডেভিল, সে কথা গাইডবুকে লেখা নেইকো - সেটা দেখে সোজা ইঙ্গলটনের দিকে৷ বিচ্ছিরি বৃষ্টি পড়ছিলো, তার মধ্যে দিয়ে পাহাড় ঘুরে ঘুরে ইঙ্গলটন থেকে আরেকটু এগিয়ে "হোয়াইট স্কার কেভস" - ইংল্যাণ্ডের সবচেয়ে বড় "শো-কেভ" - প্রায় মাইলখানেক ভিতর অবধি নিয়ে যায়, আর অর্ধেকটাই কুঁজো হয়ে, মাথায় হেলমেট ছিলো বলে মাথাটা বেঁচে গেছে৷ ঋকের বেশ মজা - ওকে কুঁজো হতে হয়না, তাই দুপদুপিয়ে গেছে, একবার যদিও ওকেও একটু নীচু হতে হয়েছিলো৷ কয়েকশো মিলিয়ন বছরের পুরনো কেভ, ভিতরে ভর্তি স্ট্যালাগমাইট আর স্ট্যালাকটাইট৷ সবচেয়ে সুন্দর একদম শেষের দিকে সরু সরু লম্বা অসংখ্য স্ট্যালাকটাইট - আলো নিভিয়ে দিলে অন্ধকারের মধ্যে নীলচে রেশমের পর্দার মতন দেখায়৷
ওখান থেকে বেরোতে বেরোতে বাকি সব বন্ধ হয়ে যাবার সময় হয়ে গেছে, তাই "কটেজ"-এর দিকে গেলুম৷ আগে তো কখনো কটেজে থাকিনি - এবার কোন হোটেল বা বেড-অ্যাণ্ড-ব্রেকফাস্ট পাইনি (সব ভর্তি) - এই একটাই কটেজ পাওয়া গেসলো - দু রাতের জন্যে ষাট পাউন্ড - বেড অ্যাণ্ড ব্রেকফাস্টের অর্ধেক৷ আমরা ভেবেছিলুম বড়জোর খান দুই নাইলনের খাট থাকবে, রান্না তো বলেই দিয়েছিলো নিজের করতে হবে - তো আমরা একদম ক্যাম্পিংএর স্টোভ, অ্যালুমিনিয়মের বাসন, খাবার-দাবারের মধ্যে সসেজ, ডিম, পাঁউরুটি সব নিয়ে গেছি - গিয়ে দেখি হোটেলের বাড়া - একটা বড় ফার্ম-হাউজের একাংশ, সেল্ফ-সাফিসিয়েন্ট দোতলা, বড় বড় ঘর, সাজানো বিছানা, গ্যাস, মাইক্রো-ওয়েভ, টোস্টার, ডেনবীর স্টোনওয়্যারের সেট, টিভি, ভিসিআর, ক্যাসেট ...ঋক দৌড়লো পাশের পুকুরে মাছ দেখতে, হলুদ-কমলা মাছ ...
পরের দিন আবার ইঙ্গলটন - ওখানে একটা পাঁচ মাইলের সার্কুলার রুট আছে, হাঁটার জন্যে - "ইঙ্গলটন ওয়াটারফলস ওয়াক" - একটা জিওলজিক্যাল ফল্টের মধ্যে দিয়ে দুটো নদীর ধার ধরে পর পর জলপ্রপাতের পাশ দিয়ে দিয়ে - জলপ্রপাতগুলো বেশ সুন্দর, মোটামুটি জঙ্গল - সেও সুন্দর - মাঝে মাঝে "ব্লুবেল"-এর কার্পেট ... রাস্তা বেশ কঠিন - অন্তত হাঁটার অভ্যেস না থাকলে, আর আগেরদিন বৃষ্টি পড়ে কাদা-ভর্তি - ঋকের খুব মজা, ওয়াকিং শু পড়ে কাদার মধ্যে ছপাত্ ছপাত্ - এমনি তো করতে পারে না ... তবে ছেলেটা বিনা প্রতিবাদে পাঁচ মাইল হেঁটে দিলো, কোন কমপ্লেন নেই - শুধু সেই আগের বারের মতন মুখ বন্ধ হয়নি এক সেকেন্ডের তরে৷ একবার শুধু কান্না জুড়েছিলো - সে "থর্নটন ফোর্স" বলে একটা প্রপাত আছে, আমি সেখানে ওদের ধারে রেখে একটু ভিতরদিকে চলে গেছি ধারের একটা ছোট্ট প্রপাতের ছবি তুলবো বলে - মোটামুটি জলের মধ্যে, দুটো পাথরের ওপর ব্যালান্স করে দাঁড়িয়ে - ছবি তুলছি, আর ঋক তো ভেড়ার ছানার মতন "বাবাআআআআআ ... " করে কান্না জুড়েছে - আমি ঘুরে ওকে থামাতে গিয়ে ধপ্পাস!!! পুরো জলের মধ্যে - জুতোর ওপর দিয়ে জল ঢুকে ভিতরের দুটো মোজাই ভিজে চুপ্পুস, প্যান্ট ভিজে, ক্যামেরাটা বেঁচে গেছে, আর পাথরে ধাক্কা খেয়ে হাঁটুতে চোট:-) তো ঐ ভিজে মোজা-প্যান্ট পরেই বাকি রাস্তাটুকু হাঁটলুম৷
আড়াইটে নাগাদ ওখান থেকে গেলুম "সেটল" - ইচ্ছে "সেটল-কার্লাইল" লাইনের ট্রেনে চড়বো - অন্যতম বিখ্যাত "সীনিক রুট"৷ হতভাগারা প্রমোট করছে এই বলে, অথচ, রোববার বলে আড়াইটেতে একটা ট্রেন, তাপ্পর সাড়ে ছটা - সেটাতে গেলে ফেরার কোন ট্রেন নেই৷ অগত্যা, উল্টোদিকের ট্রেনে চড়লুম - ঋককে শান্ত করতে - ট্রেনের মূলো দেখিয়েই পাঁচ মাইল হাঁটানো হয়েছে কিনা৷ উল্টো দিকে "কিথলী" বলে একটা জায়গাতে একটা পুরনো স্টীম ইঞ্জিন চলে - ওয়ারথ ভ্যালী রেলওয়ে, চার-পাঁচটা স্টেশনকে সেই গত শতাব্দীর শুরুর দিকের মতন করে রেখেছে - ভলান্টিয়াররা ট্রেন চালায়, টিকিট বিক্রী করে যা পয়সা ওঠে সব যায় লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের পিছনে৷ এবার কিথলী পৌঁছে দেখি যে আমরা যদি ঐ স্টীম ট্রেনে উঠি, তাহলে পুরো সার্কুলার রুট ঘুরে যখন ফেরত্ আসবো, ততক্ষণে কিথলী থেকে সেটল ফেরার শেষ ট্রেন চলে যাবে - সুতরাং দেড় ঘন্টা ফাঁকা ইস্টিশনে বসে বসে ভ্যারেণ্ডা ভাজো৷
ট্রেনে করে সেটল ফিরলাম - ঋক ওতেই খুশী - ট্রেনে চড়া হল তো৷ জিএনইআর-এর ভবিষ্যত ড্রাইভার বলে কথা৷ সেটল থেকে গাড়ি নিয়ে ঐ কার্লাইল লাইনের পাশ ধরে গেলুম রিবলহেড-এর দিকে - সেখানে একটা বিখ্যাত "ভায়াডাক্ট" আছে - রিবলহেড ভায়াডাক্ট - বিশাল লম্বা, অনেক পুরনো, হেরিটেজ ব্রীজ, ওপর দিয়ে ঐ কার্লাইল লাইনের ট্রেনগুলো যায় - দেখতে খুব সুন্দর৷ সেখানে গিয়ে এক কাণ্ড - ঋক তো মাঠের ওপর যাবে না - ভেড়া আর ছাগলে "পটি" করে রেখেছে, কোনক্রমে ওয়াকিং রুটটার ওপর নিয়ে যাওয়া হল - কিন্তু ব্রীজের দিকে নিয়ে যাওয়া যায় না৷ তো আমি বল্লুম যে তোরা দাঁড়া, আমি দুটো ছবি তুলে আনি - এগিয়ে গেছি - প্রায় আধমাইল দূর থেকে সেই পরিচিত "বাবাআআআআআআ ... " - বাবা বোধহয় হারিয়ে গেলো:-)
সেখান থেকে আবার কটেজে ফিরলুম প্রায় রাত্তির আটটা - রাত্তির মানে আমাদের হিসেবে রাত্তির - আটটার সময় এখানে সূর্য দিব্যি চড়চড় করছে৷
সোমবার (গতকাল) নাকি aweful weather হওয়ার কথা ছিলো - বিবিসিতে বললো৷ তো আমরা ভাবলুম চটপট বেরিয়ে এবার ইয়র্কশায়ার ডেলকে দক্ষিণ থেকে উত্তরের রাস্তায় পেরবো৷ সেই রিবলহেড ছাড়িয়ে আরেকটু এগিয়ে "বাটারটাবস পাস" বলে একটা জায়গা আছে - দারুণ৷ একদম পাহাড়ের মাথা অবধি নিয়ে যায়, সরু এঁকা-বেঁকা রাস্তা ধরে - দারুণ দৃশ্য - আর গাড়ি চালিয়ে আনন্দ৷ ঐ রাস্তা ধরে "সোয়েলডেল"-এর মধ্যে দিয়ে রিচমণ্ড হয়ে বাড়ি পৌঁছলুম বিকেল পাঁচটা৷
তাঁবু কেনা হয়েছিলো একটা - এবারে ক্যাম্পিংয়ে যাবো - ভাবলুম তাঁবুটা খাটানোর চেষ্টা করে দেখি - উরিশ্শালা, দুজনে মিলে একদম কেলিয়ে গেসলুম - তবে শেষমেষ ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় সেটা দাঁড় করানো গেছিলো - অবশ্যই "টেন্ট পেগ" ছাড়া - বাড়িতে কোথায় পুঁতবো - তবে টেকনিকটা শিখে গেছি - এর পরের একটা ছুটিতে যাবো "গ্লেন নেভিস" - ক্যাম্পিং করতে৷
(ছবি সব এখানে)
Wednesday, May 24, 2006
সংরক্ষণ নিয়ে দু-চার কথা
(১) ভিপি সিং-এর আমলে মণ্ডল নিয়ে প্রথম যখন ঝড় উঠলো - আমরাও স্কুলে বনধ ডেকেছিলুম - স্কুলের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র ধর্মঘট - তখন যুক্তি ছিলো চাকরীক্ষেত্রে নয়, পিছিয়ে-পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েদের উচ্চ-শিক্ষায় সুযোগ দাও, যাতে পরে চাকরীক্ষেত্রে তারা প্রতিযোগীতায় নামতে পারে৷ এখন শিক্ষায় সুযোগ দিতে গেলে বলা হচ্ছে স্কুল-শিক্ষায় দাও, স্কুল-শিক্ষায় দিতে গেলে কি বলবে জন্মের আগে দাও?
(২) ধরা যাক এরকম কাউকে উচ্চশিক্ষায় সুযোগ দেওয়া হল - ধরা যাক জয়েন্টে সে এল ৮০০ নম্বরে, তাও সে যাদবপুরে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হল৷ সে তো শুধু ভর্তিই হল - তাকে তো চার বছর প্রতিটা পরীক্ষায় পাশ করতে হবে৷ সে যদি সেটা করতে পারে তাহলে কি তার মেরিট নেই? তথাকথিত উচ্চবর্ণের মেরিটোরিয়াস ছাত্র (জয়েন্টে দিয়েই যারা কম্পিউটার সায়েন্সে ঢুকেছে, বা অন্য উপায়ে - দক্ষিণের কলেজে) তারা যখন বছর-বছর ঘষটায়? ঐ সীটটায় তাদের কোন যোগ্যতা ছিলো/আছে কি?
(৩) মেরিট শুধু জীন নয়, নির্ভর করে ট্রেনিংএর ওপরেও৷ কলকাতা বা দিল্লীতে থাকা ছেলেপুলেরা যে কোচিং পায় (বই-পত্র-স্কুল-কলেজ-কোচিং সেন্টারে) পুরুলিয়ার গ্রামের একটা ছেলে সেটা কোথায় পাবে? তার কি মেরিট নেই সেটা অলরেডী গ্রান্টেড? সেতো কোনদিন সুযোগই পেলো না৷
(৪) জয়েন্ট বা সমতুল পরীক্ষায় সুযোগ না পেয়ে অনেকেই শুধুমাত্র চার-পাঁচ লক্ষ টাকার জোরে ভর্তি হয়ে যান দক্ষিণের কোন কলেজে - ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারিতে - এও কি সংরক্ষণ নয়? উচ্চবিত্তের সংরক্ষণ?
সংরক্ষণের আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিলো এই সুযোগটুকু করে দেওয়া, ডিপেন্ডেন্ট বানিয়ে দেওয়া নয়, বা শুধু পাইয়ে দেওয়া নয় - দুর্ভাগ্যক্রমে যেটা হয়েছে৷ আন্দোলনটা হতে পারতো এই নিয়ে - কি করে শিক্ষাকে ছড়িয়ে দেওয়া যায় যাতে পুরুলিয়ার গ্রামের ছেলে/মেয়েও আমাদের মতন সুযোগটুকু পায়৷ কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য শুনলে সন্দেহ হয় - এদের মেন্টালিটি নিয়ে - মোটামুটি মধ্যযুগীয় "ওরা অচ্ছুত" মেন্টালিটি৷ আন্দোলনটা বলতে পারতো - যে হ্যাঁ, শিক্ষায় সুযোগ দাও, যাতে ওরা কলেজে পড়তে পারে, লাইব্রেরী থেকে বই নিতে পারে, দুটো বেশি বই কিনতে পারে তার জন্যে অল্প হলেও স্কলারশিপ দাও - তারপর চাকরিক্ষেত্রে ওদের কমপিট করতে দাও - সেখান থেকে সংরক্ষণ তুলে দাও৷ আন্দোলনটা বলতে পারতো সংরক্ষণকে বংশানুক্রমিক করা বন্ধ হোক, আর জাতের বিচারে নয়, অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে করা হোক - শুধুমাত্র সুযোগটুকু করে দেওয়ার জন্যে ... আন্দোলনটা বলতে পারতো খালি থেকে যাওয়া সংরক্ষিত সীটগুলোকে ওপেন করে দাও ...
সে সব কিছু নয় - আমরা উঠে পড়ে লাগলাম আমাদের সুযোগ কমে যাবে কিনা তাই নিয়ে৷ স্বার্থপর? তা ছাড়া কি?

