Monday, March 26, 2007

মড়ার ওপর বসে

শ্মশানে চোদ্দটা মড়া, সেগুলোর ওপরে বসে জনাকয়েক তান্ত্রিক - হাতে মদের ভাঁড়, মড়াগুলোর চারদিকে ঘুরে ঘুরে নেচে বেড়ায় নন্দী-ভৃঙ্গি-ডাকিনী-যোগিনীরা - ঠিক এটাই গত কয়েকদিনের ইতিহাস৷ ১৪ই মার্চের নন্দীগ্রাম, ও অত:পর...

কি হয়েছিলো, কতজন পুলিশ ছিলো, কতজন গ্রামবাসী ছিলো, কজন মরেছে, কজন ঘায়েল, কজন নিখোঁজ - এসবের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব হাতুড়ি দিয়ে দিয়ে মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে আমাদের সেনসেশনাল মিডিয়া৷ অন্যদিকে গলা ফাটিয়ে শোনা গেছে গত আড়াই মাসের কাহিনী - ক'জন ঘরছাড়া, ক'জন ধর্ষিতা, ক'জন...আর একইসময় ওই মড়াগুলোর চারদিকে ঘুরতে দেখেছি আরো এক শ্রেণীর প্রাণীকে - দেখে মনে হয়েছে তারা অপেক্ষা করছে মড়াগুলো কখন গলতে শুরু করবে সেই জন্যে...অনেকগুলো মড়া...বিরাট ভোজ...

ঘটনার অল্পক্ষণ পরেই সিপিএম পলিটব্যুরো থেকে বিবৃতি দেওয়া হয় - "For two and a half months five gram panchayats in Block I of Nandigram have been out of bounds for the administration. Certain elements had resorted to violence and cut off roads and bridges in the area on the pretext of land acquisition.CPI(M) members and supporters were driven out of the area. Two thousand and five hundred people were driven out of the area. More than a thousand people are sheltering in relief camps outside the area. Even after the government categorically declared that no land is being acquired in Nandigram, the Trinamul, naxalite and other elements refused to allow the administration or police into the area. Those who did not go along with their disruptive activities were targeted. Only a few days ago a woman, Sumita Mandal, was raped and killed. The repeated efforts to have meetings so that peace can be resorted were rebuffed with these parties and elements refusing to attend the meetings. Finally, after an all-Party meeting, which was boycotted by the Trinamul Congress, a decision was taken that the administration must reestablish its authority and peace be resorted in the area. The police entered Nandigram to see that the roads, culverts and bridges are repaired and the administration restored. They were attacked by brickbatting, bombs and use of pipe guns. It is regrettable that lives have been lost in police firing. But the organised elements who utilised bombs and pipe guns on the police have to take the blame."

১৯৪৮-এও সেটা ছিলো বসন্তকাল৷ সেই মার্চমাস৷ সেই বাংলা, শুধু একটা দলের জায়গাটা উল্টে গেছে - receiving end-এ আর নয়৷ হাসি আর তাতা যখন ছোট ছোট হাতে রক্ত মোছে তখন রাজর্ষি আর বলেন না "আয় মা, আমিও মুছি" - বরং যুক্তি দেন কেন এই রক্তপাত - তিরিশ বছরটা অনেক সময় de-humanize হওয়ার জন্যে৷ অন্ধকারে পুলিশের বুটের আওয়াজের আড়ালে একটা সময় আরেকদল গুণ্ডা আসতো এলাকা দখল করতে - সেই সব দিনগুলোর কথা যখন আমি খুবই ছোট - শোনা কথা, পড়া কথা৷ তিরিশ বছর পর সেই দিনগুলোই ফিরিয়ে আনলাম? আজ আমার হাতেও রক্ত লাগলো?

এই প্রশ্নগুলো উঠতে উঠতেই চোখে পড়ে যায় ওই অন্য প্রাণীগুলোকে...চোদ্দটা মড়া ভোজসভায় কম পড়বে? তাই সংখ্যা বাড়তে শুরু করে...বিশ...চল্লিশ...একশো...দুশো...নিলামের দরের মতন৷ অবজেক্টিভিটিহীন "তথাকথিত" আঁখো-দেখা হাল চলতে থাকে - "পাশেই হরিপুর সাবডিভিশন যেটা নিউক্লিয়ার পাওয়ারপ্ল্যান্টের জন্যে চিহ্নিত৷ সেখানেও প্রতিবাদ হয়েছে৷ সেখানকার মানুষ মূলত: মাছ ধরে৷ তাদের মাছ ধরা এখন বন্ধ করতে হয়েছে দুটো কারণে৷ এক, খাঁড়ি আর সমুদ্র মৃতদেহে ভরে আছে৷ আর দুই, আরও খারাপ যেটা, হাঙর, কুমীর আর ঘড়িয়ালরা তাজা রক্তের লোভে সুন্দরবন থেকে এইদিকে চলে আসছে..."

হাঙর-কুমীর নয়, আমি স্পষ্ট দেখতে পাই ভোজসভায় যাতে মড়ার সংখ্যা কম না পড়ে, তার চেষ্টা...সজ্ঞানে৷

আর তার পর একটা তুমুল মেরুকরণ৷ জর্জ বুশের তত্ত্বটা যে আমাদের মধ্যে কতটা খাটে টের পেলাম৷ দুদিকেই দেখতে পাই তার ছাপ - "ইফ ইউ আর নট উইথ আস, ইউ আর এগেইনস্ট আস" - স্বাভাবিকভাবে জেগে ওঠা কিছু প্রশ্ন করলে বা জালিয়ানওয়ালাবাগ অথবা জেনারেল ডায়ারের সাথে তুলনাকে বাড়াবাড়ি বললে আপনি সিপিএমের দালাল, আর অন্যদিকে পুলিশি বাড়াবাড়ি, বা লাগামছাড়া কর্মীদের ইনভলভমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন করলে আপনি মাওবাদী বা তৃণমূল৷

এক বন্ধু বললো - মড়ার ওপর বসে তর্ক হয় না - তাই চুপ থাকতে চাইলাম - অন্তত বসন্তের এই দিনটা যাদের শেষ বসন্তের দিন হল, তারা একটু শান্তিতে থাক, একটু সম্মান পাক শেষ বসন্তের দিনটাতে৷ কিন্তু প্রশ্ন বন্ধ হয় না মনের মধ্যে - বিশেষ করে যখন দেখি শোকমিছিলের আড়ালে অঙ্ক কষা চলে - যখন দেখি গুজব ছড়ায়, যার কোন প্রমাণ হয়তো নেই - কবর খুঁড়ে আরেকটা নাম মনে আসে৷ স্বাভাবিক প্রশ্ন করলে উত্তর আসে - "মার শালাকে, ওটা কে? শালা দালাল, সব গুলিয়ে দিতে এসেছে"৷ শিউড়ে উঠি যখন দেখি নিহত অথবা ঘাতকদের পরিচয়ের ভিত্তিতে স্থির হয় এটা গণহত্যা না গণআন্দোলন - নন্দীগ্রামের ঘটনা যাঁদের কাছে গণহত্যা, তাঁদের অনেকের কাছেই হয়তো ওই একই সময়ে ছত্তিশগড়ের ঘটনা গণআন্দোলন...বা সিপিএম কর্মীকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা হল মানুষের প্রতিবাদের নমুনা...

শ্মশানে মড়ার ওপর বসে আমরা তান্ত্রিকেরা হাতে মদের ভাঁড় নিয়ে নন্দী-ভৃঙ্গির নাচ দেখি...ক্লেম-কাউন্টার ক্লেমের খেলা চলতে থাকে৷

ক্রমশ সাতটা দিন পেরোয়...

ব্যাকড্রপে আর শ্মশান নেই - ব্যাকড্রপে ওয়াইড স্ক্রীনে ত্রিনিদাদের মাঠ, ভারত-শ্রীলঙ্কার খেলা৷ মড়ার ওপর বসে নেই, বসে নরম গদির ওপর৷ হাতে মদের ভাঁড় নয়, শ্যাম্পেনের পেয়ালা৷ তান্ত্রিক থেকে উত্তোরণ হয় ক্রিকেট-বোদ্ধায়৷

আমাদের সকলের৷

(মূল লেখা এখানে। গত কয়েকদিনের অভিজ্ঞতার নিরিখে এই লেখাটি তৈরী। বেশ কিছু শব্দ আর দৃশ্যকল্পের জন্য ঋণস্বীকার - বৈজয়ন্ত, ইন্দ্রাণী, দুর্গা, অঙ্গনা - এঁদের কাছে)

Wednesday, March 21, 2007

নন্দীগ্রামের অ্যান্টিথীসিস

Nandigram has a direct opposite in Pune

KG Narendranath
Times News Network
Tuesday, Marsh 20, 2007


NEW DELHI: Killings in Nandigram, attributed to “forced land acquisition” by the state for special economic zones (SEZs), have an antithesis in Maharashtra. The state government could overcome the apprehensions among farmers over a multi-product SEZ proposed to be developed by Bharat Forge near Pune. The land for the proposed SEZ, which expects Rs 10,000 crore investment, has almost been acquired as farmers who initially opposed the project have now become its enthusiasts.

Unlike the West Bengal government which sent ripples down the spine of a section of farmers (this opened room for unfair political plays by the disingenuous Opposition) by notifying SEZ before lands were assembled, the Maharashtra government had shown more patience and pragmatism through which it could convince farmers that SEZ could only improve their living conditions.

The result: as opposed to the initial plan to acquire 1,400 hectares of land, the state ended up taking possession of 1,900 hectares for the zone. The farmers’ representatives, during discussions with the state and the developer, had suggested that a larger area of arid land be acquired for the economic project instead of a smaller area of cultivable land.

These lands were then made available by the farmers’ organisations themselves who could convince the owners to transfer their ownership rights to the state for reasonable compensation. The norm that the state followed was to settle the price with the land owners before SEZ is notified.

To win the support of the people in the area for SEZ, the state also offered them employment guarantee for a section of the population whose land changed hands. Already, scores of youth in the region are being trained in two ITIs in the region to make them employable in SEZ. With the farmers’ consent, the state is now confident of notifying SEZ in June, according to official sources.

A commerce ministry official told ET that 63 SEZs notified in the last one year already generated investment of Rs 13,435 crore and created 18,457 new jobs. As these SEZs become fully operational in the next two years, they would have attracted investment of Rs 58,000 crore and created 15 lakh new jobs. This is as against 19 SEZs which created 1 lakh jobs with an investment of Rs 3,613 crore until 2006, the official noted.

Of the 171 SEZ applicants who have land ready, cases of 52 have already been vetted by the law ministry and ready to be notified, absence of political nod being the only stumbling block. If all the 234 SEZ proposals, including those which are yet to get the land, become operational, the total investment in them would be over Rs 1.3 lakh crore with new jobs of 40 lakh in the next four years, according to the commerce ministry’s estimate.

খবরাখবর

সেই নন্দীগ্রামেই।

দুটো খবর চোখে পড়লোঃ

() Nandigram: CBI report points to 'outsider' role
() No evidence of missing persons, weapons, rape: CBI

দুটো খবরের মধ্যে অনেক তফাৎ। বিশেষ করে একটা অংশ তুলে দিচ্ছি -

টাইমস অব ইন্ডিয়া - Crucial to this finding is the significant number of .315 bore bullets seized from Sonachura and Gokulnagar. Incidentally, the CBI also unearthed a significant number of such bullets along with other arms and ammunition from Ma Janani brick kiln on Day 2 of probe.

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস - He also categorically denied the reports of the recovery of huge number of weapons and .315 inch bullets from the spot. “We recovered only one cartridge of .315 inch bullet from the spot,” he said, terming it as the “only clue” to establish the involvement of some other party other than police.

মানে???

Monday, March 19, 2007

জেনোসাইড

নন্দীগ্রামের সংগঠিত হত্যা আমাদের একটা অদ্ভুত পোলারাইজেশনের সামনে দাঁড় করিয়েছে। দুদিকেই জর্জ বুশ উবাচ "ইফ ইউ আর নট উইথ আস, ইউ আর এগেইনস্ট আস" - স্বাভাবিকভাবে জেগে ওঠা কিছু প্রশ্ন করলে, বা জালিয়ানওয়ালাবাগের বা জেনারেল ডায়ারের সাথে তুলনাকে বাড়াবাড়ি বললে আপনি সিপিএমের দালাল, আর অন্যদিকে পুলিশি বাড়াবাড়ি বা লাগামছাড়া পার্টিকর্মীদের ইনভলভমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন করলে আপনি মাওবাদি বা তৃণমূল।

স্বীকার করতে কোন দ্বিধা নেই যে আমি আপাদমস্তক সিপিএম সমর্থক, একসময়ের কর্মীও। দূরে থাকার কারণে এই দ্বিতীয় সত্ত্বাটার অবলুপ্তি ঘটে গেছে। কিন্তু তা হলেও, ১৫ই মার্চের গণহত্যার নিন্দে করতে আমার কলম কাঁপে না, দোষীদের শাস্তি দাবি করতে ঠোঁট কাঁপে না, মৃতদের সম্মান জানাতে চুপ থাকতে চাই, সত্য উদ্ঘাটনের দাবি করতে এই মুহুর্তের দোষারোপ বন্ধ করতে চাই। কিন্তু অনেক প্রশ্ন ওঠে - বিশেষ করে যখন দেখি শোকমিছিলের আড়ালে প্রোপাগাণ্ডা চলে। গুজব ছড়ায় - যার কোন প্রমাণ হয়তো নেই - চম্পলা সর্দার মনে আসে। স্বাভাবিক প্রশ্ন করলে উত্তর আসে - "মার শালাকে, ওটা কে? শালা দালাল, সব গুলিয়ে দিতে এসেছে।" বমি পায় যখন দেখি হত্যাকারী বা ঘাতকদের পরিচয়ের ভিত্তিতে মনস্থির করতে হয় - যে এটা গণহত্যা, নাকি গণআন্দোলন...নন্দীগ্রামের ঘটনাকে যাঁরা গণহত্যা বলেন, তাঁদের অনেকেই ছত্তিশগড়ের ঘটনাকে বলেন গণআন্দোলন বা নন্দীগ্রামেই সিপিএমের কর্মীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনাকে বলেন মানুষের প্রতিবাদের নমুনা...

মানুষ হিসেবে পুরো ঘটনার প্রতিবাদ করতে দ্বিধা করিনি। সেদিন করেছি, আজও করছি, কালও করবো। কিন্তু মানুষ হিসেবেই যে প্রশ্নগুলো উঠছে সেগুলোও করবো - তাতে যদি দালালের ছাপ নিতে হয় সেটাও নেবো। শোকমিছিলের আড়াল থেকে যখন প্রোপাগাণ্ডার গন্ধ ওঠে, তার প্রতিবাদও করবো। চম্পলা সর্দার প্রসঙ্গে হাড়ে কাঁপুনি ওঠে তাঁদেরই যাঁরা সেই মিথ্যের সঙ্গী ছিলেন - এখনও তাঁদের উষ্কানির বিরুদ্ধে কথা বলবো। এর জন্যে যাঁরা বলেন "ইফ ইউ আর নট উইথ আস..." তাঁদের বলবো আয়না দেখতে।

এই মুহুর্তে আমাদের অনেকের মনোভাব হয়তো বাংলালাইভের এই "শেষ বসন্তের ডায়েরী"-র সাথে মেলে...

আর বন্ধু বৈজয়ন্তের পাঠানো লিংকে জেনোসাইডাল সোসাইটির কথা পড়ে আমারও হাড়ে কাঁপুনি ধরে। আমরা কি এই পথেই?

Friday, March 16, 2007

অন্যদিকে

নন্দীগ্রাম নিয়ে তোলপাড় যখন চলছে, ঠিক তখনই আরো একটা ঘটনা ঘটে গেছে - হয়তো আমাদের অনেকের চোখে পড়েনি - ইচ্ছাকৃতই হোক, কি অনিচ্ছাকৃত...

হিন্দুস্তান টাইমস থেকে - Fear grips Bijapur area after massacre of 50 policemen

কিন্তু এর জন্যে কেউ প্রতিবাদ করেনি - অন্তত আমি দেখলাম না। অধিকাংশেরই ধারণা হয়তো যে পুলিশ মানুষ নয়।

নন্দীগ্রাম আবার

গুরুচণ্ডা৯র পাতা থেকে একটি লেখা তুলে দিলাম। কতটা বিশ্বাসযোগ্য সেটা সময়ই বলবে। ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হচ্ছে। যদি সত্যি হয়, আর কখনো মুখ খুলবো না, কিন্তু যদি মিথ্যে হয়, তাহলে তারা চ্যানেল এবং সৌমিত্র বসুকে জবাবদিহি করতে হবে মৃত্যুকে নিয়ে ঘৃণ্য ব্যবসা ফাঁদার জন্যে, আর গুরুচণ্ডা৯কেও প্রশ্ন করবো এই ব্যবসায় সঙ্গী হবার দায়ে - অরিজিৎ

___________________________________________________

নন্দীগ্রামের সেই রাত
- সৌমিত্র বসু, সম্পাদক, অন্যস্বর

এটা সেই রাতের ঘটনা৷ ১৪ই মার্চ রাত৷ দিনের বেলার "অপারেশন নন্দীগ্রাম' শেষ হবার পর রাতে সিপিএম স্থানীয়ভাবে একটি বারো ঘন্টার বন্ধ ডাকে৷ এই রকম একটি প্রত্যন্ত এলাকায়, যেখানে লোকজন এমনিতেই সন্ধ্যা হলেই ঘরে ঢুকে পড়ে, সেখানে এরকম একটি বন্ধ ডাকার অর্থ কি? দিনের আলোয় প্রথম পর্বের পুলিশি আক্রমণের পর, যখন খবর আসছিল, ৬০ জনের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে, মানুষের মৃত্যুতে আমরা শিহরিত, আতঙ্কিত হচ্ছিলাম, তখনও জানা ছিলনা, এই গণহত্যার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পর্বটি এখনও বাকি থেকে গেছে৷ ঠিক তখনই, মহাকরণে আমাদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট স্র্চিব এই দ্বিতীয় এবং ভয়ঙ্করতম পর্বটির পরিকল্পনা করছিলেন৷ সেই পরিকল্পনাকে কাজে পরিণত করতে বন্ধ এবং রাতের অন্ধকারের প্রয়োজন ছিল তো বটেই৷

রাত নামছিল নন্দীগ্রামে আর মৃত্যু নিয়ে সংখ্যার খেলা ততক্ষণে যথেষ্ট ধূম্রজাল সৃষ্টি করে ফেলেছিল৷ সেই ধূম্রজাল পরেও কাটেনি৷ দৈনিক স্টেটসম্যান জানাচ্ছে ৩১ জন মৃত, বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলি জানাচ্ছে ১৮ জন মারা গেছেন৷ বিবিসি সংবাদদাতা অমিত ভট্টশালী প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন ৩২ জন মারা গেছে, এবং তারপরে প্রকাশ্যেই ঘোষণা করছেন, সরকার থেকে নির্দেশের ফলে বিবিসি কেবলমাত্র সরকারি সংখ্যাটিই ঘোষণা করতে বাধ্য, তাই তাঁরা সংখ্যাটাকে ১১ই রাখছেন৷ তারা টিভির গৌরাঙ্গ, যাকে পুলিশ দিনের বেলায় আটক করে সিপিএম বাহিনীর হাতে তুলে দেয়, এবং প্রকাশ্য টিভিতে যাঁকে সিপিএম বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হতে শোনা গেছে, তিনি তাঁর "অফ-দা-রেকর্ড' বক্তব্যে মৃতের সংখ্যা ১০০+, এবং অন-দা-রেকর্ড বক্তব্যে "অগুন্তি' বলে জানাচ্ছেন৷ তারা টিভির সংবাদদাতা সুব্রত, মমতার সঙ্গে ছিলেন, তিনি জানাচ্ছেন, মৃতের সংখ্যা "অসংখ্য', কারণ কারোর পক্ষেই সঠিক সংখ্যা জানা বা বলা সম্ভব নয়৷ মহান রাজ্য সরকার এবং তার মুখপাত্র শ্রী ভোরা জানাচ্ছেন, মৃতের সংখ্যা ৬৷ এই সংখ্যাটাই তাঁকে জানানো হয়েছে, এবং তিনি প্রেসকে পরে আরও জানাবেন৷

সংখ্যা, এভাবেই কমছিল বাড়ছিল, যেন মানুষ নয়, সংখ্যার খেলা হচ্ছে৷ ইতিমধ্যে নন্দীগ্রামে বন্ধ ও সন্ধ্যা নেমেছিল যথাসময়ে৷ তারা টিভির সুব্রত এবং গৌরাঙ্গ ঘটনাস্থলে ছিলেন৷ রাতের সেই ভয়ঙ্করতম ঘটনার তারা প্রত্যক্ষদর্শী৷ এই বিবরণ মূলত: তাদেরই বিবরণ৷ ঘটনার বর্ণনার আগে সেই প্রত্যক্ষদর্শীর মুখ থেকে শুনে নেওয়া যাক, সেই সেন্সরশিপের কথা, যা, সে নিজেই নিজের উপর আরোপ করেছে৷ "আমি যা দেখেছি, আমার যা বলা উচিত, আমি মিডিয়াকে সেসব বলছিনা, কারণ মানুষ বা আমাদের দর্শকরা সেসব বিশ্বাস করবে না৷ মানুষের বিশ্বাসের একটা সীমা আছে, লোকে আমাকে পাগল বলবে৷ আমি যা দেখেছি, শুনেছি, যার মধ্যে দিয়ে গেছি, নিজেই নিজেকে সেসব বিশ্বাস করাতে পারছিনা৷ দু:স্বপ্নের রাতের মতো যদি যা দেখেছি, শুনেছি, সেগুলো সত্যিই যদি প্রলাপ হত৷৷৷ '

গৌরাঙ্গ এবং সুব্রত জানাচ্ছেন, না,থেট্র বা মারধোরের কারণে নয়, সেই রাতে তাঁরা যা দেখেছেন, তার পর হোটেলের ঘরে ফিরে তাঁদের সত্যিই অনেকবার বমি করতে হয়েছে৷

""ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেল্স আর কম্যান্ডোদের নিয়ে সিপিএম বাহিনী প্রত্যেকটা পাড়ায়, প্রত্যেকটা গ্রামে ঢোকে৷ পুরুষদের টেনে বার করে আনা হয়৷ ওরা কাউকে আটক করছিল না৷ কোনো বন্দী নেই, কোনো সাক্ষী নেই,ওরা গুলি করছিল,পেটে বেয়নেট ঢুকিয়ে নাড়িভুঁড়ি বার করে আনছিল,শরীরগুলো ভাসিয়ে দিচ্ছিল খালে, সেখান থেকে মোহনা আর সমুদ্রে৷ তারপর কমবয়সী মেয়েদের টেনে আনা হচ্ছিল, তাদেরকে ফাঁকা জায়গায় একসঙ্গে জড়ো করা হয়,ক্রমাগত ধর্ষণ করে চলা হয়, যতক্ষণ না একেকজন কোলাপ্স করে যায়, তারপর, একদম আক্ষরিক অর্থে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিঁড়ে আনা হয়,কাউকে কাউকে একদম টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হয়,তারপর হলদি নদী কিংবা তালপটি খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়৷ এসবের কোনো সাক্ষী টিকে নেই৷ থাকলেই বা কি,যদি কেউ বেঁচেও থাকে, মেদিনীপুরের কোন মেয়েই বা নিজের উপরে অত্যাচারের গল্প ফলাও করে বলবে, আর বললে বিশ্বাসই বা করবে কে? তাছাড়া কেউ বললে তাকেও তো একই জিনিস করে খুন করা হবে৷

এইসব শেষ হবার পর, সিপিএম আর পুলিশ তারপর গোটা এলাকা লাল ব্যানার আর পতাকা দিয়ে ঢেকে দিচ্ছিল৷ মানে, এলাকা এখন নিরাপদ আর শুধু তাদের রাজত্বই চলবে৷ যারা গ্রাম থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল, তারা প্রায় সবাই ধরা পড়ে গ্রামের কিনারায় বা আশেপাশে৷ তাদের কি হয়েছে, কেউ জানেনা৷ আমরা শুধু তাদের কথাই শুনতে পেয়েছি, যারা মাঠ আর জঙ্গল পেরিয়ে পালাতে পেরেছে৷ সেটাও খুব কঠিন৷ এখন মাঠ শুকনো৷ ফসল কাটা হয়ে গেছে৷ মাঠের উপর দিয়ে গেলে যে কেউ দেখতে পাবে৷

অসংখ্য ধর্ষণ হয়েছে৷ সরকারি ভাবে ধর্ষণের সংখ্যা ৬, কারণ, এই কজনই নিজেদের গল্প বলার জন্য টিকে আছে৷ এরা সবাই মধ্যবয়সী, সেই কারণেই হয়তো কেটে কুচিকুচি হবার হাত থেকে কোনোভাবে বেঁচে গেছে৷ গ্রামের পর গ্রামে এই জিনিস চলেছে৷ রাত পেরিয়ে সকালেও চলেছে৷ সমস্ত সাংবাদিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ দৈনিক স্টেটসম্যানের সাংবাদিক সুকুমার মিত্র বুলেটবৃষ্টির মধ্যে কোনোরকমে পালিয়েছেন৷ ওনাকে নাম ধরে, বিশেষ করে খোঁজা হচ্ছিল, কোনো কায়দায় উনি পালাতে পেরেছেন৷ আক্রমণকারীরা এতো হিংস্র, যে স্থানীয় কোনো লোক কারো কাছে মুখ খুলতে চাইছে না৷ ভয়কে একটা অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে৷ আতঙ্ককে ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক সেন্সরশিপের একটা পদ্ধতি হিসাবে৷

পাশেই হরিপুর সাবডিভিশান৷ যেটা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য চিহ্নিত৷ সেখানেও প্রতিবাদ হয়েছে৷ সেখানকার লোকেরা মূলত: মাছ ধরে৷ তাদের মাছ ধরা এখন বন্ধ করতে হয়েছে দুটো কারণে৷ এক, খাঁড়ি আর সমুদ্র মৃতদেহে ভরে আছে৷ দুই, আরও খারাপ যেটা, হাঙর, কুমীর আর ঘড়িয়ালরা তাজা রক্তের লোভে সুন্দরবন থেকে এইদিকে চলে আসছে৷ এরা মানুষের শরীর তো খাচ্ছেই, সঙ্গে সমস্ত মাছও খেয়ে নেবে এরকম একটা আশঙ্কা৷ মাছ ধরতে গেলে জালে কুমীর আর হাঙর উঠে আসছে৷ এরকম চলতে থাকলে হরিপুরের মানুষ আগামী সপ্তাহখানেক কাজ করতে পারবেনা৷ স্থানীয় লোকেদের বিশ্বাস, হরিপুরকে শিক্ষা দেবার জন্য এটা প্রশাসন আর সিপিএমের পূর্বপরিকল্পিত৷ হরিপুরে কেন্দ্রীয় দল, এমনকি আরও বড়ো পুলিশ বাহিনী ঘুরে গেছে৷ নন্দীগ্রাম আর হরিপুরকে একসাথে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে৷

মৃতদেহের কোনো চিহ্ন কখনও পাওয়া যাবেনা,ধর্ষণের কোনো প্রমাণ থাকবেনা, এটাই এখন ওদের মডেল৷ সত্যিই কতজন মারা গেছে জানা যাবে তিন মাস পরে, তাও যদি এলাকায় শান্তি ফিরে আসে, যদি বাসিন্দারা আদৌ ফিরে আসতে পারে, যদি তারপর নিখোঁজ মানুষজনের সংখ্যা গোণা হয়৷ কিন্তু সিপিএম এখন এই এলাকাগুলোকে "মুক্ত', "স্বাধীন' করেছে, এর পরে মনে হয়না এলাকাছাড়াদের ফিরে আসতে দেওয়া হবে, আর এদের সম্পত্তি দিয়ে দেওয়া হবে কেশপুর গড়বেতা থেকে সিপিএমের যে লোকজন এসেছে, তাদেরকে৷ নন্দীগ্রাম আর হরিপুরকে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নিরাপদ এলাকা বানিয়ে তারপর পুরোটা গুটিয়ে ফেলা হবে৷''

এই সেই গল্প, যা দেশভাগের গল্পের চেয়েও ভয়াবহ৷ সাংবাদিকরা সবাই এই সব জানেন, কিন্তু কেউই বলতে এগিয়ে আসবেননা৷ বললে তাদেরকে খুঁজে বার করা হবে, এবং লোপাট করে দেওয়া হবে৷ যে সমস্ত সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীরা বিপক্ষে গেছেন, তাঁদের ভয় দেখানো তো শুরু হয়েই গেছে৷

আমাদেরই তাই লিখতে হবে বিকল্প ইতিহাস৷ অন্য কোনো বিকল্প নেই৷ আমি জানিনা, কে কতটা বিশ্বাস করলেন, তবে নাম-ধাম-সূত্র সবই দেওয়া রইল আগ্রহী মানুষ, ইতিহাসকার এবং ভবিষ্যতের জন্য৷ যদি কেউ চান, তিনি যাচাই করতে পারেন৷ খুঁড়ে বার করতে পারেন৷ এ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প আছে কিনা আমার জানা নেই৷
___________________________________________________

হ্যাঁ - নাম-ধাম-সুত্র যখন রয়েছে, তখন এই লেখার সত্যাসত্য প্রমাণিত হোক। সত্যি প্রমাণ হলে শাস্তি হোক দোষীদের, আর মিথ্যে প্রমাণ হলে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক তারা নিউজ, সৌমিত্র বসু আর গুরুচণ্ডা৯কে।

আপডেটঃ এখনো অবধি তারা নিউজ ছাড়া এই খবর কেউ দেয়নি। অদ্ভুতভাবে খবরের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন করলে আপনার মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। ইফ ইউ আর নট উইথ আস, ইউ আর এগেইনস্ট আস - কথাটা এখানেও সত্যি বলে দেখছি। তারা নিউজের ক্রেডিবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন আগেও উঠেছে, কিন্তু এক্ষেত্রে দেখছি এই প্রশ্ন করাটাকে ইক্যুয়েট করা হচ্ছে নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলি চালানোকে সমর্থন করার সাথে। আর অন্য কোথাও তারা নিউজের সমর্থনে কোনও খবর না থাকলেও, ইন্টারনেটে বিভিন্ন ফোরামে এর সমর্থনে একটা ভালো প্রচার চলছে, যেটা আরও বেশি প্রশ্ন জড়ো করছে।

আমরা সকলেই শুধু সেটাই বিশ্বাস করি, যেটা বিশ্বাস করতে চাই। কেউ প্রশ্ন করলে তার গায়ে নানারঙের ছাপ দিয়ে দিতে বা তাকে অমানুষ জন্তু হিসেবে তুলে ধরতে হাত একটুও কাঁপে না।

- অরিজিৎ

Thursday, March 15, 2007

নন্দীগ্রাম


The news of deaths by police firing in Nandigram has filled me with a sense of cold horror. .... the point uppermost in my mind is not "who started it", "who provoked it" or whether there were agent-provocateurs behind it...The thought in my mind – and of all sensitive people now is – “Was this spilling of human blood not avoidable? What is the public purpose served by the use of force that we have witnessed today?” – Gopalkrishna Gandhi
___________________________________________________

কাল সারাটা দিন হাসপাতালে নানান ঝুট-ঝামেলায় কেটেছে৷ যেমন আর পাঁচটা কাজের দিন যায়, তার থেকে একটু বেশীই৷ সাঁঝের ঝোঁকে সোফাতে একটু গা এলালেই নয় যখন, ডক্টর'স রুমে ঢুকতেই কলকল করে বন্ধু ও সহকর্মীরা জানাল -আবার বাংলা বন্ধ৷ শুক্রবার৷
কে ডাকল?
কে আবার, দিদি ছাড়া?
কেন হে?
নাকি নন্দীগ্রামে কিসব ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট হয়েছে৷
আ-ব্বার বন্ধ, শুক্কুরবারদিন যে আমার চব্বিশ ঘন্টা ডিউটি! কিছু বাছা বাছা খিস্তি ঠোঁটে আসছে, এক-আধটা বলেওছি, সুরঞ্জনাদি বলল-নারে, অনেক লোক মারা গেছে৷
তখনো ভাবছি-নিশ্চয়ই কৃষিজমি বাঁচাও কমিটির সঙ্গে সিপিএম ক্যাডারদের খুচরো ক্যালাকেলি৷ তো, ধরো অনিকেশদাকে৷ অনিকেশদা (নাম পাল্টে দেওয়া হল) আমাদের কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট ও মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র; মাই ডিয়ার লোক৷

অনিকেশদা জানাল, না, সিপিএম নয়, ক্যাডার নয়, বিশাল পুলিশবাহিনী ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে মানুষ মেরেছে৷ মেয়েরাও মারা গেছে৷ বুদ্ধবাবু (উত্তেজিত গলায়) মেদিনীপুরকে শেষ না করে থামবে না৷ হতাশ ও ক্রুদ্ধ; অভিমানী৷ এই অনিকেশদাই নন্দীগ্রামের প্রথম ঘটনার পরে বলেছিল- এর নাম মেদনিপুর(না, মেদিনীপুর বলে নি, এবং গলায় ভূমিপুত্রসুলভ অ্যাক্সেন্ট ছিল), ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার আগে ওখানটা স্বাধীন হয়েছে৷

তারপর তো বেশীরাতে বাড়ি ফিরে এসে দেখলাম টিভিতে৷ বন্যার মত টেলিভিশন ফুটেজ আছড়ে পড়তে লাগল চোখে ও মাথায়৷ অপটিক নার্ভ, কায়াজমা, অপটিক ট্র্যাক্ট হয়ে মাথার পেছনদিককার অক্সিপিটাল কর্টেক্সে রক্ত এসে লাগতে থাকল, লিটার লিটার রক্ত, মানুষের রক্ত-মেয়েমানুষের রক্ত, পুরুষমানুষের রক্ত, বাচ্চা-বুড়ো-পাগল-মুনিষ-মাইন্দর-নকশাল-তৃনমূল-সিপিএম-পুলিশের রক্ত৷ যতটা রক্ত বেরোলে পরে মানুষ অনিবার্য হাইপোভোলেমিক শকে চলে যায়, ফেরে না আর কিছুতেই, হদৃযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়, অবসন্ন৷
যতটা রক্ত বেরোলে পরে মাথার ভেতরে নিও-কর্টিক্যাল এরিয়াতে সিগন্যালেরা সব ঘুলিয়ে যায় পথহারা, বুদ্ধিশুদ্ধি ঠিক তেমনি হাড়গোড়ভাঙা দ হয়ে যায়, যেমন হয়ে রয়েছে পুলিশে খোবলানো নন্দীগ্রামের মানুষেরা, তাদের ভাঙা কলার বোন, হাত-পা ও পাঁজর নিয়ে৷

ভাঙা বুকের পাঁজর দিয়া নয়া বাংলা গড়বো? না:, বুদ্ধবাবু, এই গান আর উঠে আসেনা, এ গান একদা আপনিও গুণগুণিয়ে গাইতেন কিনা সে প্রশ্নও উঠে আসেনা আর ৷

শুধু ক্রোধ, পাশবিক; শুধু ঘৃণা, তাল তাল ও জমাট- বাঁধা- কালো, যতটা কালো হতে পারে জমাট বাঁধা রক্ত, মানুষের রক্ত৷ নকশালী রক্ত? তৃণমূলী রক্ত? আপনি ভাল জানবেন, হে সংস্কৃতিবান পুলিশমন্ত্রী; আরো ভাল জানবেন আপনার প্রিয় বয়স্য, সখা, কৃষকসভা নেতা বিনয় কোঙার, যিনি বলেছেন- পুলিশ কি ফুলের পাপড়ি ছুঁড়বে?

প্রমোদ দাশগুপ্ত একদা বলেছিলেন-পুলিশের বুলেটে কি নিরোধ লাগানো আছে, নকশালরা মরে না কেন? হরেকৃষ্ঞ কোঙার নির্দোষ প্রশ্ন করেছিলেন-পুলিশ কি তবে রসগোল্লা ছুঁড়বে? আর কারা যেন একদা কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় শ্লোগানে শ্লোগানে ভরিয়ে দিয়েছিল-পুলিশ, তুমি যতই মারো/মাইনে তোমার একশ' বারো৷

হা:, রঙ্গপ্রিয় ইতিহাস!

খবরে প্রকাশ , মৃত অন্তত: চোদ্দ, আহতের সংখ্যা পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই৷ হতাহতদের প্রাথমিকভাবে নন্দীগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ আমি নিশ্চিত্ জানি, যাঁরা বেঁচে ছিলেন, তাঁদের যথাযোগ্য চিকিত্সা ঐ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবশ্যই হয়েছিল, কেননা পশ্চিমবঙ্গের যে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতই নন্দীগ্রামেও কি আর যথেষ্ট পরিমাণ হজমের ওষুধ, কৃমি ও আমাশার বড়ি এবং গর্ভনিরোধক পিল (তেমন তেমন হলে চাই কি এক-আধখানা স্টেথোস্কোপ-ও !) ছিল না !

বিভাস চক্রবর্তী বললেন- বুদ্ধবাবুর সাদা পাঞ্জাবীতে কিন্তু রক্তের ছিটে লেগেছে, এবং লেডী ম্যাকবেথের মত ("আমি নাটকের ভাষাই ব্যবহার করছি'-উনি বললেন) উনিও ওঁর হাতে লেগে থাকা রক্তের দাগ তুলবার চেষ্টায় প্রাণান্ত হয়ে যাবেন, কিন্তু পারবেন না৷

লেডী ম্যাকবেথ? বুদ্ধবাবু? কল্পনা করবার চেষ্টা করলাম বুদ্ধবাবুর রংও রুজ মাখানো গাল , স্বর্ণাভ উইগ ও মানানসই অ্যাটায়ার-রক্তাক্ত হাত নিয়ে তীব্র বেগুনী আঁধারে তীক্ষ্ণ চীত্কার করে প্রাসাদ অলিন্দ দিয়ে ছুটে যাচ্ছেন৷ হাসি পেয়ে গেল৷ কেননা আমরা তো নাটক দেখিনা সে আজ বহুকাল৷ বাচ্চাটা হওয়ার পর ওকে নিয়ে নাটক দেখতে যাওয়া যায় না, তাছাড়াও ওর পেছনে সময় দেওয়া, আমার হাসপাতাল, আরো পড়াশুনো, সঙ্গীতার অফিস৷ কফি উইদ অর উইদাউট করণ৷ সিটি সেন্টার, কাফিলা;তার ডেকর পেশওয়ারী, তার দেয়ালে ঝোলানো সাজানো বন্দুক, হায় কি অসহায় নির্বিষ !

হাসি ছাড়া তাই কিছু আর নেই আমাদের৷ চিনিহীন কালো কফির মত তেতো হাসি, ঈষত্ বাঁকা, মুখটেপা ও কাষ্ঠ-কিন্তু কোনমতেই হা হা নয়-এমন হাসি৷ এই হাসি মেখে আমরা ট্রামে-বাসে চড়ি , সিট নিয়ে মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করি, বিকেলে বিষণ্ন হই,সকালে কোষ্ঠসাফ ও রাতে সঙ্গম করি, শিশুকে আদর করি, বসকে হ্যা-হ্যা বলি ৷ আর গর্তে ঢুকি৷ মেট্রোরেলের, রাজারহাটের,ওপেল অ্যাস্ট্রার .....

প্রসঙ্গত:, বিভাসবাবু সহ আরো বেশ কয়েকজন নাট্যব্যক্তিত্ব-কৌশিক সেন, সুমন মুখোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু এবং সম্ভবত: মনোজ মিত্র ও অশোক মুখোপাধ্যায়ও -নাট্য একাডেমির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন৷ বিভাসবাবু আরো বললেন- শঙ্খদার(কবি শঙ্খ ঘোষ) সঙ্গে একদিন দেখা হল, উনি বললেন- বুদ্ধবাবু যে বলেছিলেন, এইসব নিয়ে একদিন কথা বলবেন, কই , বললেন না তো !

বুদ্ধবাবু হাজারো কাজের মানুষ, সবার সঙ্গে কথা বলার সময় না-ও থাকতে পারে৷ ভুলে যেতেই পারেন নন্দীগ্রামের মানুষজনের সঙ্গে কথা বলার কথা, SEZ -এর আওতায় তাঁদের গ্রামটিকেও ঢোকানো নিয়ে নোটিশ পড়বার আগে৷ ভুলে যেতে পারেন নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢোকানোর আগে এলাকার সিপিআই বিধায়ককে অবহিত করবার কথা৷ আর, এমনই বা কে মাথার দিব্যি দিয়েছে যে ভুলে যাওয়া যাবেনা- বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নামের একজন মানুষ একদা একটি দল করতেন , যার নাম মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি , ট্রামভাড়া ন্যূনতম বাড়লে যারা কলকাতা অচল করে দিয়েছিল, খাদ্য আন্দোলন আর শিক্ষক আন্দোলনের সামনে তারাই ছিল, হ্যা হ্যা, সেইসব মানুষেরা যারা পুলিশকে ইঁট-পাটকেল ছুঁড়তে পিছপা হয় নি, দরকারে বোমা ও পাইপগান৷ এবং আমি বিশ্বাস করি, তারা ভুল কিছু করেনি৷ বুদ্ধবাবু, আপনি?

তবে , ভুলে যাওয়া কিছু বুদ্ধদেবের একচেটিয়া নয়৷ পৃথিবী জুড়ে অ্যামনেশিয়া-ডিমেনশিয়ার বাড়বাড়ন্ত, মানুষ-সব মানুষ সব কিছুই ভুলে যায়, সালভাদর আলেন্দে ও পিনোশে, গুলাগ ও হিরোশিমা, লুমুম্বা ও গেভারা, তেভাগা-তেলেঙ্গানা ও মরিচঝাঁপি৷ করন্দার কথা তো লোকে কব্বে ভুলে বসে আছে৷ নন্দীগ্রাম? মাসখানেক সময় দেবেন তো মশায়! তাছাড়া সামনে যখন ইলেকশন নেই ও ব্রান্ড বুদ্ধ যখন সেলিং লাইক হট কচুরিজ, হ্যা, এখনো, এই আতান্তরেও,জাতীয় নিউজ চ্যানেলের sms পোলে৷

তাছাড়া , আমরা ই কি চাইনি, গোপনে ও প্রকাশ্যে কত মজলিশে-এদেশের বুকে আর্মি আসুক নেমে !

আজ সকালটাও শুরু হয়েছিল বড় অদ্ভুতভাবে৷ বিধাননগর স্টেশনে নেমে দেখি ভিড় ঠেলে ওভারব্রীজে ওঠা যাচ্ছে না, এত লোক ! সার বেঁধে দাঁড়িয়ে কি যেন দেখছে৷ নিশ্চয়ই কোনো অ্যাক্সিডেন্ট ৷ আমি তো ওসব দেখব না, ও বড় অশ্লীল, ভয়ুরিস্টিক, তাই মানুষ ঠেলে সটান এগিয়ে যাই৷ কিন্তু কোন বিড়ালই বা কবে বেঁচেছে কৌতুহলের কাছে ! তাই একটিবার তাকাই এবং দেখতে পাই একটি মুন্ডহীন ধড়, আদ্যন্ত পরিষ্কার , তাতে রক্তের ছিটেফোঁটা লেগে নেই, শুধু হাত-পা- ক"টি শরীরের সঙ্গে অদ্ভুত কোণ রচনা করে মুচড়ে রয়েছে, যেন পিকাসোর বাউন্ডুলে কোনো ছবি৷ হনহনিয়ে এগিয়ে যাই,একেই যথেষ্ট দেরী হয়ে গেছে ... তাছাড়া ও তো মরেই গেছে, আমার মাঝখান থেকে গন্তব্যে পৌঁছতে দেরী হয়ে যাবে৷
রাতে টিভি দেখে মনে হল, নন্দীগ্রামের প্রতিবাদও ঐভাবেই মুখ মুচড়ে পড়ে রয়েছে, একদা সোনালী ডানার চিল ছিল হয়তো বা, যখন আমরা, আমাদের বাপ-দাদারা স্বপ্নে দেখত যৌথ খামার৷ অবিকল পিকাসোর বাউন্ডুলে কোনো ছবি৷ লেননের ফার-ফেচেড ইমাজিনেশন৷

কিন্তু সে আজিকে হল কত কাল৷ ওসব এক্কেবারে মরে গেছে, অত্যাধুনিক ইনস্যাস রাইফেলের ঠেলায় কি আর কেউ টেকে ! এতেও না শানালে সেনা ছিল, এ কে ৪৭/৫৬ ছিল .. থাগগে৷ কেমিক্যাল হাবের সঙ্গে সঙ্গে হোটেলটোটেলও হলে পর, সালেম গ্রুপ যখন, একবার বরং ঘুরে আসা যাবে উইকএন্ডে,ছোট পরিবার, সুখী পরিবার৷

বারংবার হটে হটে হঠাৎ হটেনটট যোদ্ধা যেন ছুটে যায় সিংহের দিকে/ এরকমই স্বপ্নে ঘুমে বুকের ভেতরে যেন গুরগুর ... তুষার রায় একদা লিখেছিলেন৷ কিন্তু তুষার রায় তো এখন মৃত৷ আর মৃতেরা এ পৃথিবীতে ফেরে না কখনো৷ তাদের কবরের ওপর আর কেউ নয়, কিছু নয় শুধুই তুষার, শুধু ধূ ধূ প্রান্তরে বনে কেবলই তুষার ঝরে, শুধুই তুষার৷

আর, যারা ফেরে, তারা তো প্রেত৷ তুষার ঠেলে ঠেলে ছাই রং মুন্ডহীন কবন্ধ, শুকনো মামড়ি-ওঠা ঠোঁট, কাটা হাত তুষারযোনি অশরীরী৷
দেশ যাদের কোনো মাতৃভাষা দেয় নি কখনো৷৷

- ইন্দ্রনীল ঘোষদস্তিদার

Friday, March 02, 2007

বর্ণপরিচয় এখন

পাঁচ বছরের ছেলেটাকে বাংলা শেখানোর চেষ্টা চলছে - পড়তে আর লিখতে, যাতে আগামী বছর কলকাতায় ফিরে স্কুলে ভর্তি হতে অসুবিধা না হয়। কঠিন কাজ - কারণ সেই এক বছর বয়স থেকে সে সারাদিন কাটিয়েছে নার্সারী/প্লেগ্রুপে - সেখানে আশেপাশে শুধুই ইংরিজী - সে বেশির ভাগ সময় ওই ভাষাতেই কথা বলতে অভ্যস্ত, বাড়িতে আমরা বাংলা বললেও। ঋক বাংলা বলতে পারে (যদিও "জর্ডি" টানে) - কিন্তু ইংরিজীর মতন পড়তে/লিখতে এখনো পুরোপুরি শেখেনি। কলকাতার স্কুল থেকে খবর নিয়েছিলুম - বর্ণপরিচয় পড়তে হবে - তাই কলকাতা থেকে বয়ে নিয়ে আসা নতুন বর্ণপরিচয় নিয়ে পড়তে বসা...

অভিজ্ঞতা খুব সুবিধের নয়...

প্রথমত, বইটা অত্যন্ত ম্যাড়মেড়ে - ফিকে গেরুয়া আর সবুজ রঙ - তুলনায় ইংরিজী বইগুলো অনেক ঝকঝকে - বাচ্চাদের কাছে অনেক আকর্ষণীয়।

দ্বিতীয়ত, ভাষা - এমন ভাষা, যে ভাষায় আমরা কেউই কথা বলি না - "গিরিশ তুমি কাল পড়িতে এস নাই কেন" - ছেলে প্রশ্ন করে "কেন 'এস' বলেছে?"

তৃতীয়ত, পদ্ধতি - ইংরিজী পড়াতে/লেখাতে শেখানোর সময় দেখেছি কত নতুন নতুন পদ্ধতি বেরিয়েছে - লেটারল্যান্ড এর মধ্যে অন্যতম - অথচ বাংলায় সেই দুশো বছরের পুরনো পদ্ধতির কোন পরিবর্তন নেই। বাচ্চাদের শেখানোর পদ্ধতি নিয়ে অন্যান্য দেশে যত গবেষণা হয়, তার একাংশও বাংলা নিয়ে হয় না (অন্তত পশ্চিমবঙ্গে)। বাংলাদেশে কি হয় জানার আগ্রহ আছে আমার।

এটা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেখলুম যে আমরা মোটামুটি আবেগের সুতোয় আটকে - বর্ণপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা মানে বিদ্যাসাগরের অপমান, বাংলা ভাষা নিয়ে শ্রদ্ধা-ভালোবাসার অভাব, মাতৃভাষার মূলরূপ সম্পর্কে অনীহা, বাংলা ভাষার ইতিহাস সম্পর্কে অনাগ্রহ, ইত্যাদি ইত্যাদি...

অথচ, বিদ্যাসাগর সম্পর্কে যতটুকু জানি, তাতে মনে হয় বর্ণপরিচয়কে প্রয়োজনে সম্পূর্ণ ওভারহল করে আজকের উপযোগী করলে সবচেয়ে খুশি হতেন ওই ভদ্রলোকই। নতুন পদ্ধতি চালু করলেও দুঃখিত হতেন না, বরং আমরা ওঁকে পুতুল বানিয়ে পুজো না করে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছি দেখে খুশিই হতেন।

কিন্তু আমরা সাবেক বাঙালীরা 'বাঙালী' ঐতিহ্য ধুয়ে জল খেয়ে যাবো...বিদ্যাসাগরকে পুতুল বানিয়ে পুজো করবো...নতুন কিছু ভাববো না...কূপমণ্ডুকতা বললে কম বলা হয়।

Tuesday, February 27, 2007

দ্য রিডাইরেকশন

দ্য নিউ ইয়র্কারে সেইমুর হার্শের একটা (বিস্ফোরক) আর্টিকল পড়লাম - মধ্যপ্রাচ্যের হাল-হকিকত আর আমেরিকার তথাকথিত "ওয়ার অন টেরর" নিয়ে। ইংরিজী ব্লগে পুরোটাই তুলে দিয়েছি, এখানে লিংক দিলাম - পড়ুন, আর ভাবুন - ইউনিপোলার দুনিয়ার একমেবাদ্বিতীয়ম পুলিশের কথা...

দ্য রিডাইরেকশন - সেইমুর হার্শ

Wednesday, February 21, 2007

বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে...

২১শে ফেব্রুয়ারী নিয়ে নতুন করে কিছু লেখার ক্ষমতা আমার নেই। দিনটা মনে করতে চাইছিলাম একটা কবিতা দিয়ে - কার লেখা মনে নেই, ছোটবেলায় গান হিসেবে শুনেছিলাম অজিত পাণ্ডের গলায় -

"বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে
নিকানো উঠোনে ঝরে
লাগে রৌদ্র বারান্দায় জ্যোৎস্নার চন্দন...

বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে
চোখে ভেসে ওঠে
মা আমার দোলনা দুলিয়ে
কাটছেন ঘুমপাড়ানিয়া ছড়া
নানী তাঁর বিষাদসিন্ধু...
রমজানী সাঁঝে ভাজেন ডালের বড়া
...

বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে
চোখে ভেসে ওঠে
একুশের প্রথম প্রভাত ফেরী
একুশে ফেব্রুয়ারী"

অল্প অল্পই মনে আছে। ইন্টারনেটে খোঁজার চেষ্টা করলাম - পাই নি। কার লেখা মনে নেই - শামসুর রহমান কি? হয়তো।

কারো কাছে যদি থাকে কবিতাটা (বা গানটা), দিতে পারবেন?


Friday, January 26, 2007

দুই মেরুর গপ্পো

(১)

পৃথিবীর দুই মেরু

উত্তর এবং দক্ষিণ নয়, পৃথিবীর দুই মেরু আজ অন্য দুটি জায়গায়...

- সুইস আল্পসের মধ্যে দৃষ্টিসুখজাগানো শৈলনিবাস দাভোস, আর কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি...

- দাভোসে অসংখ্য ফ্ল্যাশবাল্বের আলোয় উজ্জ্বল বিশ্ববাণিজ্যের রথী-মহারথীরা, হলিউডের মহাতারকারা, ফাইভ স্টার হোটেলের কনফারেন্স স্যুটে ঘন ঘন বৈঠকে ব্যস্ত, ব্যস্ততার ফাঁকে ছয় কোর্সের লাঞ্চ-ডিনার...অন্যদিকে নাইরোবিতে আশি হাজার লোকের মুঠো করা হাত, রাস্তার ধারে ধারে জমায়েত, মিছিল, আর যে দেশে মানুষের গড় দৈনিক আয় দুই ডলারের কম, সেই দেশে সাত ডলারে খাবার বিক্রি করতে চাওয়া ফাইভ স্টার হোটেলের খাবার তাঁবুতে ক্ষুধার্ত শিশুদের হানা...

- দাভোসে বড় কোম্পানির অ্যাটেন্ডেন্স ফী ১৮,০০০ সুইস ফ্রাঁ, বা প্রায় সাড়ে সাত হাজার পাউন্ড, অন্যদিকে জনতার দাবিতে নাইরোবিতে সাত ডলারের এন্ট্রী ফী বাতিল...

- রোজকার খবরে হেডলাইনে আসে দাভোসে কি আলোচনা করলেন বিশ্ববাণিজ্যের কুরুপাণ্ডবের দল, অন্যদিকে নাইরোবির কথা কষ্ট করে খুঁজতে হয়...

- দাভোসে বিশ্ববাণিজ্য এবং অর্থনীতির কূটতর্কে মশগুল ওঁরা, নাইরোবিতে দেখি সেই কূটতর্কের ফসল - হয়তো৷

প্রতি বছর জানুয়ারীর শেষাশেষি নামীদামী কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা, শক্তিধর রাষ্ট্রের হর্তাকর্তারা আর হলিউডি মহাতারকারা - মানে যাঁদের নিয়ে তৈরী বিশ্ব-অর্থনীতির দুধের গেলাসের মালাইয়ের স্তর, জমায়েত হন দাভোসে - ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে৷ প্রায় ওই একই সময়ে, পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তে জমায়েত হন জনপিছু গড়ে দুই ডলার দৈনিক আয় করা অন্ধকার দেশের মানুষের দল - ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামের সম্মেলনে - দাভোসের দুধ-মালাই হয়তো এদের ঘর থেকেই লুঠ করা...

দাভোসে এই বছরের থীম "The Shifting Power Equation" - ওঁরা আলোচনা করছেন পরিবেশদূষন এবং জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে, মধ্য প্রাচ্য এবং কোরিয়ার টেনশন নিয়ে, দুনিয়াজোড়া চাকরির বাজারের ইনসিকিউরিটি নিয়ে, চীন এবং ভারতের উত্থান নিয়ে...দুর্জনে প্রশ্ন করে "এত শক্তিশালী লোকেরা এক জায়গায় এসে বাকি দুনিয়াকে ভাগ বাঁটোয়ারার চেষ্টা করবেন নাতো?" উত্তর আসে - "না না, সেকি, ছি:৷ ওসব বলতে নেই৷ দেখুন না, এখানে কি শুধু বিল গেটস বা জর্জ বুশ আসেন? এখানে তো গরীব দেশ থেকেও কত সোশ্যাল entrepreneur, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরা আসেন৷ তাঁদের কাছে এ কত বড় সুযোগ রাজামহারাজাদের সামনে নিজেদের বক্তব্য বয়ান করার৷"

হ্যাঁ, ভিক্ষে চাওয়ার - কে যেন সেই গেয়েছিলেন - "নুইয়ে মাথা চাইছ প্রসাদ, দেখছ ঘুঘু দেখছ না ফাঁদ..."

(২)

চোখ ঢেকে যায় অবসেশনে

আমরা এক অবসেসড জাতি - আমরা অবসেশনে ভুগি আমাদের "তথাকথিত" উজ্জ্বল মুখটাকে দুনিয়ার সামনে হাজির করার জন্যে - আয়নার দিকে না তাকিয়ে, আমরা অবসেশনে ভুগি এই কুরুপাণ্ডবের দলে ভিড়ে যাবার জন্যে, আমরা অবসেশনে ভুগি নিজেদেরকে এই সফল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের মধ্যে দেখার জন্যে৷ আমাদের সবচেয়ে পছন্দের সাংস্কৃতিক নেশা "দেশের মুখ" হওয়ার চেষ্টা - বিগ ব্রাদার হাউজে এসে শিল্পা শেঠিও যে দাবিটি রেখেছিলেন৷

"Meanwhile, India's favourite cultural pastime is "representing the nation", the very task Shilpa announced for herself as she entered the BB compound. As India anxiously finds its place within the community of big global players and tries to reconcile its economic successes with the glaring (and often deepening) inequalities that still mar its social landscape and self-image, it is increasingly obsessed with disseminating the myth of the nation as fundamentally middle-class, professional and successful. The task has partly fallen on the feminine shoulders of India's flourishing glamour industry.

This anxiety to belong to the global community of the economically successful explains Shilpa's repeated protests that she is not from the "slums" and did not grow up on the "roadside". For all her disagreements with Jade, they seem to agree that economic disenfranchisement is a personal failure. Shilpa understands her task clearly: to show the world that India is really about beauty and entrepreneurial success, not slums and poverty. Losing neither time nor opportunity, India Tourism brought out a full-page ad last week in the form of an open letter to Jade inviting her to experience its "modern thriving culture", "bustling cosmopolitan cities and quiet countryside", and "healing spas".

[Anti-racism has to go beyond a facile representation game - Priyamvada Gopal, The Guardian, 25th january, 2007]''


দাভোসেও আমাদের এই অবসেশন - দাভোসে বিশ্ব-অর্থনীতির হর্তাকর্তারা যখন আলোচনা করেন চীন আর ভারত নিয়ে, যখন ভবিষ্যতবাণী করেন যে এই শতাব্দীতে ভারত বিশ্ব-অর্থনীতির শিখরে চড়বে, তখন অবসেসড আমরা নিজেদের পিঠ চাপড়াই - দিনের পর দিন ঘটে চলা মণিপুর, আমলাশোল, বিদর্ভ বা গুজরাট সত্ত্বেও৷ অবসেশনে ভোগা আমরা উন্নয়নের একমাত্র মুখ হিসেবে দেখতে থাকি আগাছার মতন গজিয়ে ওঠা বহুতল আর শপিং মলগুলোকে, বা সিঙ্গুরের মোটরগাড়ির কারখানাকে...অবসেসড আমাদের চোখে শুধু দাভোস জেগে থাকে, নাইরোবি ঝাপসা হয়ে যায়...

(৩)

স্লোগান দিতে গিয়ে

নাইরোবি শহরের সীমানার ঠিক মুখটাতে Kasarani স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে অল্পবয়সী স্প্যানিশ মেয়ের দল গালগল্পে ব্যস্ত ভিক্টোরিয়া লেকের কিছু জেলের সাথে...কানাডা থেকে আগত একটি মেয়ের ক্লান্তিভরা স্বীকারোক্তি - বেশ কয়েকদিন সে ঘুমোয়নি - কিন্তু দেওয়ালে লাগানো "Express yourself, Inspire change" স্লোগানটা তাকে জেগে থাকার প্রেরণা দেয়...

নাইরোবিতে আজ স্লোগান ওঠে "Another world is possible" - সামাজিক ন্যায়, আন্তর্জাতিক সলিডারিটি, লিঙ্গ-সমতা, শান্তি আর পরিবেশ রক্ষণকে সামনে রেখে পোর্তো আলেগ্রে থেকে মুম্বাই, বামাকো, কারাকাস, করাচী হয়ে আজ নাইরোবিতে একজোট ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামের আশি হাজার মুখ৷ পোর্তো আলেগ্রে চার্টার থেকে তুলে ধরলে ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরাম হল "an open meeting place where groups and movements of civil society opposed to neo-liberalism and a world dominated by capital or by any form of imperialism, but engaged in building a planetary society centred on the human person, come together to pursue their thinking, to debate ideas democratically, formulate proposals, share their experiences freely and network for effective action..."

বিশ্বায়নের অন্ধ-বিরোধিতা নয়, ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরাম বিরোধিতা করে এই মুহুর্তে বিশ্বায়ন বলতে আমরা যা দেখি তার - যে বিশ্বায়নের সুফল পৌঁছয় মুষ্টিমেয় মানুষের কাছে, যে বিশ্বায়ন মানুষ আর পরিবেশের তোয়াক্কা করে না...নাইরোবি থেকে দাভোসের দিকে বার্তা যায় - বিশ্বায়নের সামাজিক অভিঘাতকে উপেক্ষা করা চলবে না - "Another World is Possible - one where global capital does not hold sway..."

"People's Struggles, People's Alternatives" থীম সামনে রেখে নাইরোবিতে তুলে ধরা হয়েছে আফ্রিকাকে - আফ্রিকার জনজাতির ইতিহাস, প্রাকৃতিক সম্পদ, সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাস, তথাকথিত উন্নত দেশের শোষণের ইতিহাস...

"এলো ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে
নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে,
এলো মানুষ ধরার দল,
গর্বে যারা অন্ধ, তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে৷
সভ্যের বর্বর লোভ নগ্ন করলো আপন নির্লজ্জ অমানুষতা৷
তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকূল অরণ্যপথে
পঙ্কিল হল ধুলি, তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে৷
দস্যুপায়ের কাঁটামারা জুতোর তলায় বীভত্স কাদার পিণ্ড
চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে..."

(৪)

নিরুদ্দেশ সম্পর্কিত ঘোষণা

"বিগত কয়েকদিবস যাবৎ মহারাণীর রাজত্বে "শ্রীমান ব্রিটিশনেস"-কে খুঁজিয়া পাওয়া যাইতেছে না৷ জনসাধারণের মধ্য হইতে ব্রিটিশনেস আকস্মিক গায়েব হইয়াছেন৷ ব্রিটিশনেসের হালহকিকত্ সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী সংবাদ পাওয়া যাইতেছে৷ মাত্র এক সপ্তাহ পূর্বে বিরাট সংখ্যক মানুষ ব্রিটিশনেসকে "বিগ ব্রাদার হাউজ।" হইতে নিকাশনালীপথে সবেগে ধাবিত হইতে দেখিয়া জনে জনে অভিযোগ করিয়াছেন৷ দুই দিন পূর্বে, ডেভন উপকূলে শত শত মানুষকে ডুবন্ত সমুদ্রপোতের মালপত্র লুন্ঠন করিতে দেখা যায় - সংবাদে প্রকাশ ব্রিটিশনেসকে সমুদ্রে লাফ দিয়া আত্মবলিদান দিতে দেখা গিয়াছে৷ চত্বারিংশত্ নগরনিগম হইতে সংবাদে প্রকাশ ব্রিটিশনেসকে আকন্ঠ সুরাপান করিয়া পুলিশ ঠেঙাইতে, প্রতিবেশির গৃহের সম্মুখে মুত্রত্যাগ করিতে, অথবা চক্রযানের শিখরদেশে আরোহন করিয়া নৃত্য করিতে করিতে চক্রযানের বারোটা বাজাইতে দেখা গিয়াছে...

উপরিউক্ত পরস্পরবিরোধী সংবাদ পাইয়া মহামান্য সরকারবাহাদুর যথার্থই উদ্বিগ্ন হইয়াছেন, এবং ব্রিটিশনেসকে খুঁজিয়া বাহির করিয়া ধরিয়া আনিবার হুকুম জারি করিয়াছেন৷ ব্রিটিশনেস একান্তই গায়েব হইয়া থাকিলে স্কুলে স্কুলে শিশুদের মস্তিষ্কে নতুনভাবে ব্রিটিশনেস খোদাই করিয়া দিতে হইবে যাহাতে ভবিষ্যতে ব্রিটিশনেস আর নিখোঁজ না হয়৷''

- বিবিসি, ২৫শে জানুয়ারী, ২০০৭

Monday, January 22, 2007

খোলা পাতা, খোলা কোড - ওপেন সোর্সের দুনিয়া (১)

স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় রে,
কে বাঁচিতে চায়
দাসত্ব শৃঙ্খল বলো কে পরিবে পায়ে রে,
কে পরিবে পায়ে...

কবিতাটা হাল ফ্যাশানের নয়৷ রঙ্গলাল বন্দ্যো স্বপ্নেও ভাবেননি, ভাবতে পারেন না যে তাঁর এই কবিতাটা একবিংশ শতাব্দীতে জনৈক সফটওয়্যার ক্ষ্যাপা সফটওয়ার-সংক্রান্ত লেখার শুরুতে ব্যবহার করবে৷ কিন্তু করলুম৷ কেন? কারণ ওপেন সোর্স সফটওয়্যারকে তলিয়ে দেখতে গেলে এই ফিলোজফিটা প্রয়োজন৷ আর প্রয়োজন একটু পিছিয়ে তাকানোর - কোথা থেকে, কি ভাবে এই ওপেন সোর্স, বা ফ্রী সফটওয়্যার, বা একটি বহু-প্রচলিত নাম "গ্নু" (ইংরিজীতে GNU) বাজারে এলো৷

পিছিয়ে যাই ষাটের দশকে৷

অ্যাকাডেমিক হ্যাকার সংস্কৃতি এবং স্টলম্যান

ষাটের দশক - কম্পিউটার জগতে মিনিকম্পিউটারের যুগ - ট্রানজিস্টর, ম্যাগনেটিক মেমরিকে কাজে লাগিয়ে অপেক্ষাকৃত "ছোট" পিডিপি, বা ভ্যাক্স কম্পিউটার৷ তখন ইন্টারনেটও নেই, কম্পিউটারের ভিতরে কি লাঠালাঠি-মারামারি চলে তার ঠিকানাও খুব বেশি প্রকাশিত নয়, অল্প লোকেই এইসব যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করেন - যাঁরা করেন, তাঁরা ভিতরের খুঁটিনাটি আরো খুঁটিয়ে বুঝতে চেষ্টা করেন৷ আজকের সাথে তুলনা করুন - আপনার উইন্ডোজ পিসির ভিতরে কি চলছে আপনি কি জানার চেষ্টা করেন কখনো? মাঝে মাঝে মনিটরে পুরো "এক মনিটর নীল সমুদ্র" এসে হাজির হয় - নিন্দুকেরা বলে "ব্লু স্ক্রীণ অব ডেথ" - বা একটা চৌকো বাক্স ভেসে ওঠে -
Fatal Error - কেন, কি হচ্ছে, জানার কথা ভাবেন? বা জানলেও সেটাকে ঠিক করার কথা? সেই মিনিকম্পিউটারের যুগে লোকে ভাবতো, এবং ভিতরে কি হচ্ছে সেটা খুঁটিয়ে দেখে ওষুধও দিত - এই সব লোকেদের বলা হত "অ্যাকাডেমিক হ্যাকার" - কারণ এদের বেশিরভাগ সময় পাওয়া যেত ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে, যার মধ্যে সবার আগে নাম ওঠে এমাঅইটি, বার্কলি এবং কার্নেগি মেলনের৷ হিপি-কালচারের মতন এই হ্যাকার-কালচারেরও নিজস্ব কিছু নিয়ম ছিল, অলিখিত -
  • প্রশ্ন করার অবাধ স্বাধীনতা
  • গোপনীয়তা অত্যন্ত নিন্দনীয়
  • তথ্য আর জ্ঞানের আদানপ্রদান
  • প্রচলিত কিছুকে নিয়ে, তাকে বদলে নতুন কিছু তৈরী করার অধিকার - কম্পু ভাষায় "ফর্ক"
  • অথরিটির গুষ্টির তুষ্টি
  • ...
আজকের সাধারণ ধারণায় হ্যাকার হল কিছু ক্ষ্যাপা লোক, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধপ্রবণ, যারা ভারত সরকারের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবোলতাবোল লিখে আসে, বা ব্যাঙ্ক এবং ইনসিওরেন্স কোম্পানীর ওয়েবসাইটে হানা দেয়...এর সাথে অ্যাকাডেমিক হ্যাকার কালচারের ধ্যানধারণার আকাশপাতাল ফারাক৷ উনিশশো চুরাশিতে প্রকাশিত Hackers: Heroes of the Computer Revolution এই অ্যাকাডেমিক হ্যাকারদের কাজ, ফিলোজফি, বেঁচে থাকাকে তুলে ধরেছিলো৷

ষাটের দশকের শেষে, সত্তরের শুরুতে রিচার্ড স্টলম্যান এমাঅইটির আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ল্যাবে কাজ শুরু করেন, হার্ভার্ডের ছাত্র থাকার সময়েই - এবং হ্যাকার কমিউনিটিতেও চলে আসেন অচিরেই - " RMS " নামে৷ স্টলম্যানও সেই পাঠানের মতন - "না অ্যানার্কিও আমরা গুঁড়িয়ে দেবো" - ১৯৭৭-এ একবার এমাঅইটি কম্পিউটার সায়েন্স ল্যাবে পাসওয়ার্ড চালু হয়, স্টলম্যান পাসওয়ার্ড ভেঙে ঢুকে সমস্ত পাসওয়ার্ড ফাঁকা করে দিয়ে বাকিদের মেল করে দেন যে পাসওয়ার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে...

আশির দশকে এই হ্যাকার কমিউনিটি ভাঙতে শুরু করে - যখন কম্পিউটার এবং সফটওয়্যার প্রস্তুতকারকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়...অধিকাংশ কোম্পানি সফটওয়্যারে কপিরাইট এবং লাইসেন্স ব্যবহার করতে শুরু করে যাতে সেগুলো কপি বা রি-ডিস্ট্রিবিউট না অরা যায় - এবং ক্রমশ এটাই নিয়মে পরিণত হতে শুরু করে...আর এই সময় থেকেই সফটওয়্যার মোনোপলির সাথে স্টলম্যানের লড়াই শুরু৷ ষাটের দশকের গোড়ার কাউন্টারকালচারে (সিভিল রাইটস মুভমেন্ট বা ফ্রী স্পীচ মুভমেন্ট ইত্যাদি) সরাসরি জড়িয়ে না থাকলেও তখনকার কিছু আদর্শ স্টলম্যানকে উদ্বুদ্ধ করেছিলো - নন-ডিসক্লোজার এগ্রীমেন্টে সই করে সুনিশ্চিত ভবিষ্যত্ তৈরী করতে অস্বীকার করেন তিনি৷ উনিশশো চুরাশীর জানুয়ারীতে স্টলম্যান এমআইটির
AI ল্যাব ছেড়ে GNU প্রোজেক্টে পুরোদমে কাজ করতে শুরু করেন৷

GNU প্রোজেক্ট - ফ্রী সফটওয়্যার আন্দোলনের শুরু

সেপ্টেম্বর ১৯৮৩-তে স্টলম্যান ARPANet মেইলিং লিস্টে প্রথম GNU প্রোজেক্টের ঘোষণা করেন, পরে বেশ কিছু USENET নিউজ গ্রুপেও এটা প্রকাশিত হয়৷ পঁচাশিতে বেরোয় GNU Manifesto - যেখানে স্টলম্যান ইউনিক্সের মতন একটা অপারেটিং সিস্টেমের কথা বলেন - ইউনিক্সের মতন, অথচ ফ্রী - GNU -এর পুরো কথা হল GNU's not Unix , একটা রিকার্সিভ অ্যাক্রোনিম৷ সাথে সাথেই তৈরী হয় Free Software Foundation - একটা non-profit অর্গানাইজেশন, ফ্রী সফটওয়্যারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যে৷ সারা পৃথিবীর লোকের ডোনেশনে চলা এই সংস্থার অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট স্টলম্যান৷ গ্নু-এর ওয়েবসাইট থেকে কিছু অংশ তুলে দিই -

"Free software" is a matter of liberty, not price. To understand the concept, you should think of "free" as in "free speech", not as in "free ice cream". Free software is a matter of the users' freedom to run, copy, distribute, study, change and improve the software. More precisely, it refers to four kinds of freedom, for the users of the software:
  • The freedom to run the program, for any purpose (freedom 0).
  • The freedom to study how the program works, and adapt it to your needs (freedom 1). Access to the source code is a precondition for this.
  • The freedom to redistribute copies so you can help your neighbor (freedom 2).
  • The freedom to improve the program, and release your improvements to the public, so that the whole community benefits (freedom 3). Access to the source code is a precondition for this.
অর্থাৎ, আমার কম্পিউটারের কোন প্রোগ্রাম আমি আমার খুশিমতন চালাবো৷ সেই প্রোগ্রাম কি ভাবে চলছে, বা কি করছে তা জানার সম্পুর্ণ অধিকার আমার আছে, এবং আমার প্রয়োজনমত আমি তার বদল করতে পারবো৷ আমার প্রতিবেশি/বন্ধুবান্ধবকে সাহায্য করার জন্যে আমি সেই প্রোগ্রাম তাকে দিতে পারবো, এবং আমি সেই প্রোগ্রামে বদল করে তাকে যদি আরো কার্যকরী করতে পারি, তাহলে সেই বদলগুলো আমি সকলের কাছে পৌঁছে দিতে পারবো - যার জন্যে সেই প্রোগ্রামের সোর্স কোড (আভ্যন্তরীন সমস্ত ইনস্ট্রাকশন যা দিয়ে প্রোগ্রামটা তৈরী) সকলের কাছে থাকবে৷

Free Software Foundation এই গ্নু প্রোজেক্টের প্রধান সাংগঠনিক স্পনসর৷

গ্নু এবং Free Software Foundation -কে জাস্ট আরেকটা সফটওয়্যার ভাবলে ভুল করা হবে - সিভিল রাইটস মুভমেন্ট, ফ্রী স্পীচ মুভমেন্টের মতন এও আরেক আন্দোলন - সফটওয়্যার মোনোপলির বিরুদ্ধে৷ এই মুহুর্তে পৃথিবীর অধিকাংশ ইউনিভার্সিটি এই আন্দোলনের শরিক, কিছু বড় কোম্পানী এই আন্দোলনের শরিক হয়ে তাদের সফটওয়্যারকে "ওপেন সোর্স" করে দিচ্ছে - যেমন সান মাইক্রোসিস্টেমসের "সোলারিস" অপারেটিং সিস্টেম, নেটস্কেপ ব্রাউজার...অ্যাপলের ম্যাকিনটশ অপারেটিং সিস্টেম প্রধাণত OpenBSD -র ওপর তৈরী...উল্টোদিকে সফটওয়্যারে মোনোপলি প্রথার প্রধাণ স্তম্ভ মাইক্রোসফট, পৃথিবীর সমস্ত কম্পিউটার এবং অপারেটিং সিস্টেমের বেশি অংশ যাদের কব্জায়...

এ এক বড় বিচিত্র লড়াই - পেশাগত কারণে লড়াইটাকে খুব কাছ থেকে দেখি, ভিতর থেকেও - এক দিকে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের মালিক বড় বড় কিছু কোম্পানী, অন্যদিকে অসংখ্য সাধারণ মানুষ, যাঁদের অনেকে সারাদিন অফিসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেতে বাড়ি এসে ওপেন সোর্স প্রোজেক্টের কাজ করেন, অনেকে দিনভর শুধুই এই ওপেন সোর্স প্রোজেক্ট নিয়ে পড়ে থাকেন...যেখান থেকে মেটিরিয়াল বেনিফিট বলতে কিছুই তাঁদের পাওয়ার নেই৷ কে জিতবে তা বলবে সময়৷

(আজ শুধু শুরুর কথা, পরের বার লিখবো যুদ্ধ কতদূর এগিয়েছে তাই নিয়ে)৷

মূল লেখা এখানে

Friday, January 05, 2007

প্রথম হর্নবি



বেশ ছোটবেলায় কোনও বইয়ে বা অন্য কোথাও হর্নবির ছবি দেখেছিলুম। তখন থেকে মাথায় ছিলো যে ওইটা আমার চাই - কিন্তু ও জিনিস কলকাতায় পাওয়াও যেত না, আর গেলেও কেনার সামর্থ্য ছিলো না। তাপ্পর বড় হয়ে গেলুম, হর্নবি নিয়ে খেলা হল না। ঋক হর্নবি দেখলো, আর পছন্দও করলো। ভাবলুম নিজের ছোটবেলার শখটা ওকে দিয়েই মেটাই। সান্টা ক্লজ এই বড়দিনে ঋককে একটা হর্নবি সেট উপহার দিয়েছে। আম্মো একটু খেলে নিলুম।

Monday, November 13, 2006

রাষ্ট্র বনাম ধর্মীয় স্বাধীনতা

কোন পোস্ট মডার্ন সাহিত্য নয়, জ্বালাময়ী বক্তৃতাও না - শুধুমাত্র টুকরো টুকরো ঘটনা, কে কি বলেছেন আর তার ইনফারেন্স...এবং একটা অকপট স্বীকারোক্তি৷

তর্কটা বহুদিন ধরেই চলছে...অনেকটাই ঘেঁটে যাওয়া, খেই হারিয়ে ফেলা, এবং আরো ঘেঁটে দেবার জন্যেই এই লেখা৷ দুধকে ঘেঁটেই তো মাখন বেরোয়...

৬ই অক্টোবর - ল্যাঙ্কাশায়ার টেলিগ্রাফে কমনসের লেবার পার্টির নেতা জ্যাক স্ট্র মুসলিম মহিলাদের নিকাব নিয়ে আপত্তির কথা লিখলেন -

"It was not the first time I had conducted an interview with someone in a full veil, but this particular encounter, though very polite and respectful on both sides, got me thinking. In part, this was because of the apparent incongruity between the signals which indicate common bonds - the entirely English accent, the couples' education (wholly in the UK) - and the fact of the veil. Above all, it was because I felt uncomfortable about talking to someone 'face-to-face' who I could not see."

জ্যাক স্ট্র লেবার পার্টির অন্যতম চেনা মুখ, তাঁর মুখে নিকাব-পরিহিতার সাথে কথা বলাতেও অস্বস্তির কথা ব্রিটেনের মাল্টি-কালচারিজমের মুখে বড় জুতো। অবিশ্যি স্ট্র পরে এও লিখেছেন -
"I explain that this is a country built on freedoms. I defend absolutely the right of any woman to wear a headscarf. As for the full veil, wearing it breaks no laws" - কিন্তু তার সাথে এটুকুও - "I go on to say that I think, however, that the conversation would be of greater value if the lady took the covering from her face" - একটা নিকাবেই তাঁর অস্বস্তি, নাকি একটু পালিশ করা ভাষায় আরেকজনের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ?

(পুরো লেখা পাবেন এখানে)

১৫ই অক্টোবর - রবিবার সকালে ঘুম ভাঙলো আরো একটা অস্বস্তিকর খবরে - ডিউসবুরির এক প্রাইমারী স্কুলের টীচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট আয়েশা আজমিকে সেই স্কুল সাসপেন্ড করেছে কিছুদিন আগে, পড়ানোর সময় নিকাব থাকার জন্য৷ লেবার সরকারের Race Relations -বিষয়ক মন্ত্রী Phil Woolas দাবী করেছেন আয়েশাকে বরখাস্ত করা উচিত৷ স্কুলের বক্তব্য - "Ms Azmi had been asked to take off her veil in class because children had difficulty understanding her in English lessons. When she refused to remove the veil, she was suspended pending an employment tribunal", আয়েশার বক্তব্য - "The children are aware of my body language, my eye expressions, the way I'm saying things. If people think it is a problem, what about blind children? They can't see anything but they have a brilliant education, so I don't think my wearing the veil affects the children at all".

প্রশ্নটা এখানে ধর্মীয় অনুশাসনের নয় - নিকাব পরা ঠিক কি ভুল সেটা নিয়েও নয়৷ প্রশ্নটা আয়েশার নিকাব পরার স্বাধীনতা নিয়ে৷ আয়েশা নিশ্চয় ইন্টারভিউ দিয়েই চাকরি পেয়েছিলেন, এবং একজন শিক্ষিকা ক্লাসে (এবং সর্বত্র) নিকাব পরছেন মানে ইন্টারভিউয়ের সময় তিনি কোট-প্যান্ট পরেছিলেন এটা ভাবা কষ্টকর৷ হঠাৎ করে এখনই স্কুল এবং ডিউসবুরি কাউন্সিলের পোশাক-সংক্রান্ত ডিসিপ্লিন জেগে উঠলো কেন?

ডেইলি এক্সপ্রেস একটা "ওপিনিয়ন পোল" করলো - ৯৭ শতাংশ ডেইলি এক্সপ্রেস পাঠক নাকি মনে করেন হিজাব/নিকাব/বোরখার ওপর নিষেধাজ্ঞা সাম্প্রদায়িক সম্রীতি বজায় রাখবে৷ ডেভিড এডগার একটা লেখা লিখলেন "দ্য গার্ডিয়ান"-এ (সরি, উই জাস্ট কান্ট পিক অ্যাণ্ড চুজ হোয়াট উই টলারেট) - নিষেধাজ্ঞাটা কি করে লাগু হবে? নিকাব পরলে পুলিশে সেটা টেনে ছিঁড়ে দেবে? নাকি অ্যাসবো (Asbo - অ্যান্টি সোশ্যাল বিহেভিয়ার অর্ডার)? নাকি জেলে ভরবে? ঐ লেখাই জানাচ্ছে যে এর প্রিসিডেন্স আছে - ফ্রান্সের ইস্কুলে পোশাক নিয়ে বিতর্কের খবর আমাদের বাংলা কাগজেও বেরিয়েছিলো৷ নেদারল্যাণ্ডসের পার্লামেন্টও কর্মক্ষেত্রে এবং পাবলিক প্লেসে বোরখা ব্যান নিয়ে একটি আইন পাস করেছে৷ রটারড্যামে মসজিদের ডিজাইন "অতি ইসলামিক" বলে বাতিল হচ্ছে; এবং ডাচ নাগরিকত্ব আইন বলে রাস্তাঘাটে ডাচ ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলা যাবে না৷ বোরখা/হিজাব/নিকাব ব্যান জার্মানির কিছু জায়গাতেও৷ "Liberalism can so easily collapse into nativism..." - এডগার লিখলেন - "There is, one hopes, no call for Britain to follow the US state of Virginia in banning visible underwear from its streets. But you can't have it both ways: I can disagree with what you wear, but - if I am to remain true to universalist Enlightenment values - the other half of Voltaire's formulation has to click in too."

এই দেশগুলো - ব্রিটেন, নেদারল্যাণ্ডস, ফ্রান্স - যারা প্রগতিশীল বলে পরিচিত, যারা সবরকম সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে কথা বলে থাকে - তারা নিজেরাই এখন সেই সেন্সরশিপকেই জাস্টিফাই করতে ব্যস্ত৷

এবার স্বীকারোক্তি -

স্বীকারোক্তিটা হল নিকাব বা বোরখা পরিহিতা কারো সাথে সামনাসামনি কথা বলতে কিছুক্ষণের জন্যে হয়তো আমারও অস্বস্তি হবে৷ নিকাব/বোরখা পরিহিতা নারী শুধু নয় - পুরো পাগড়িঢাকা কোন পুরুষের ("সোনার কেল্লা" দ্রষ্টব্য) সাথে কথা বলতেও অস্বস্তি হবে - আমি লালমোহনবাবু নই, ভয়ের প্রশ্ন নয় - কিন্তু মুখ না দেখতে পেলে ভালো করে কথা বলা যায়কি? কিন্তু কতক্ষণ অস্বস্তি হবে? পাঁচ মিনিট? দশ মিনিট? তার বেশি কি? মনে হয় না৷ এটুকু স্বীকার করে নিয়ে দুটো প্রশ্ন রাখতে চাই৷৷৷

ঐ অস্বস্তি সত্ত্বেও নিকাব/বোরখা/হিজাব - যিনি পরছেন তাঁর নিজস্ব চয়েজ, রাষ্ট এখানে নাক গলানোর কেউ নয়৷ কাজেই ফ্রী স্পীচ বা সিভিল রাইটস আন্দোলনকে সমর্থন করলে স্ট্র, বা Phil Woolas (এবং প্রায় অর্ধেক লেবার/টোরি কেউকেটা) - এঁদের বিভিন্ন ডিগ্রীর হিটলারই মনে হবে৷ এবং বিশেষ করে চার্চ স্কুলে ফাদার বা সিস্টারেরা যখন দিব্যি ধর্মীয় আলখাল্লা বা হ্যাবিট পরতে পারেন, নিকাব/হিজাব ব্যান হবে কোন দু:খে? ব্রিটেন না মাল্টিকালচারাল?

একটা প্রশ্ন উল্টোদিকেও - শুধু জানতে চাই কোরাণের কোন ইন্টারপ্রিটেশন চোদ্দ বছর ধরে সাধারণ স্কুল ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যাওয়া সাবিনা বেগমকে একদিন আচমকা মনে করিয়ে দেয় যে জিলবাব না পরলে সে ধর্মভ্রষ্ট হবে? বা সদ্য শিরোনামে আসা তেইশ বছরের আয়েশাকে বলে বাচ্চাদের ক্লাস নেওয়ার সময়েও নিকাব পরা খোদার বিধান?

শেষে একটা ছোট্ট সংযোজন - ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এক মহিলা কর্মীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে তাঁর জুয়েলারি কনসিলড ছিলো না বলে - জুয়েলারি বলতে একটা ক্রস৷ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের তরফ থেকে স্টেটমেন্টে বলা হয়েছে হিজাব বা পাগড়ি বা বালা (শিখেদের ক্ষেত্রে) কনসিল করা সম্ভব নয়, তাই সেগুলোর জন্যে ছাড় দেওয়া হতে পারে৷ ক্রিশ্চান সংগঠনগুলো এই নিয়ে প্রবল আপত্তি করেছে - যে কারণে একজন শিখ হাতে বালা বা মাথায় পাগড়ি পরতে পারে, বা একজন মুসলমান হিজাব পরতে পারে, আমরা কেন ক্রস ঝোলাতে পারবো না...

একদিকে রাজনীতিবিদ, অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস - তর্ক চলে৷ ক্রমশ প্রচারমাধ্যমের চড়া আলোয় গা পোড়ে সাধারণ মুসলমান মানুষের - নিরীহ নাদিম বলে "লোকে আমার নাম শুনলে এখন বড় অন্যরকম ভাবে তাকায়, জানো"...চার্চ থেকে বাইবেল হাতে প্রচার করতে আসা ভদ্রলোক আমার নিরুত্সাহ দেখে প্রশ্ন করেন আমি মুসলমান কিনা..."দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে"-র মাল্টিকালচারালিজম নয়, নেটিভ সমাজের মধ্যে মিশে যাওয়ার দাবি করা প্রগতিশীলতার কথা শুনি - নরেন্দ্র মোদিদের কথা মনে পড়ে যায় - আর গার্ডিয়ানে গরম গরম লেখাগুলো পড়ে স্যাঁতস্যাঁতে নিউক্যাসলে আমি একটু গা গরম করি৷ একদিন আমার প্রশ্নদুটোর উত্তর পেলেই হল৷

(মূল লেখা গুরুচণ্ডা৯তে এবং কিছু আলোচনা)

Friday, October 20, 2006

রাষ্ট্রপতির মৃত্যু

চ্যানেল ফোরে কাল দেখালো একটা বিতর্কিত ডকু-ফিল্ম - ডেথ অব আ প্রেসিডেন্ট। গুরুচণ্ডা৯তে রঙ্গনের লেখা এই নিয়ে...

"শিকাগোতে উনিশে অক্টোবরের সকাল৷ শিকাগো এয়ারপোর্টে আমেরিকা যুক্তরাষ্টের্র প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এসে পৌঁছেছেন৷ শিকাগো ইকোনমিক ক্লাবের মিটিঙে ভাষণ দেবেন৷ প্রেসিডেন্টের কনভয় শেরাটন হোটেলের দিকে রওনা দিয়েছে৷ অন্যদিকে সেইদিন শিকাগো শহর বুশবিরোধী সমাবেশ, মিছিল ও ধর্নায় উত্তাল৷ শিকাগোর পুলিশ চিফের কথায়- "বুশ যেখানেই যান সাধারণত: সেখানে বিক্ষোভ দেখানো হয়৷ কিন্তু এই প্রথম মনে হল বিক্ষোভকারীদের চোখমুখ দিয়ে যেন ঘেন্না ঠিকরে পড়ছে৷" রাস্তার দুপাশের বিক্ষোভকারীদের সারি একসময় পুলিশ কর্ডন ভেঙে ফেলে৷ কেউ কেউ রাস্তার মধ্যে এসে যায়৷ বুশের কনভয় থেমে যায়৷ কোনো কোনো দু:সাহসী বুশের গাড়িতেও হাত দেয়৷ পুলিশ কোনো রকমে তাদের হঠিয়ে দিলে, বুশের কনভয় পূর্বনির্ধারিত পথ ছেড়ে বিকল্প রাস্তা দিয়ে শেরাটন হোটেলে পৌঁছায়৷ শেরাটন হোটেলের বাইরেও লাগাতার বিক্ষোভ চলছে৷ সেইখানেও একটা সময়ের পর বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের খন্ডযুদ্ধ শুরু হয়৷ দুই একজন পুলিশের নিশ্ছিদ্র কর্ডন ভেঙেও ফেলে৷ শেরাটন হোটেলের চারদিকে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ প্রেসিডেন্ট বুশ তার বক্তৃতা শুরু করেন৷ যথারীতি দুই একটা বুশোচিত রসিকতা, শিকাগোর ডেমোক্র্যাট মেয়রের প্রশস্তি ইত্যাদি৷ তবে বক্তৃতার মূল কেন্দ্রবিন্দু উত্তর কোরিয়ার প্রতি হুমকি৷ বক্তৃতা শেষ হলে প্রেসিডেন্ট হোটেলের দরজার সামনে এসে লাল দড়ির আশেপাশে জমায়েত অভ্যাগতদের সাথে আলাপ পরিচয় করছেন৷ বক্তৃতার অভিঘাত প্রত্যাশিত৷ তাই প্রেসিডেন্ট বেশ খোশমেজাজে৷ এই আলাপচারিতার মধ্যেই হঠাত্ একটা বুলেটের শব্দ৷ বেশ কয়েকজন লুটিয়ে পড়েন মাটিতে৷ তার মধ্যে প্রেসিডেন্ট একজন৷ প্রচন্ড বিশৃঙ্খলা, আর্তনাদ, হুড়োহুড়ি৷ তার মধ্যে স্পেশাল সার্ভিসের লোকেরা বিদ্যুত্গতিতে প্রেসিডেন্টকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালের দিকে ছুটছেন৷

ঘটনাটি ঘটে ২০০৭ সালের ১৯শে অক্টোবর৷ সিনেমার নাম দেখে নিশ্চয় বোঝা যাচ্ছে এর পরে প্রেসিডেন্ট মারা যাবেন৷ তবে সিনেমাটা প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতেই কিন্তু শেষ হয় না৷ প্রেসিডেন্টের হত্যার তদন্ত এবং অপরাধের শাস্তি অবধি সিনেমা এগোয়৷ কে মারলেন, কি ভাবে মারলেন ইত্যাদি ইত্যাদি চাপাই থাক৷ নইলে পুরো সিনেমাটার মজাটাই নষ্ট৷

এই পর্যন্ত পড়ে যদি কেউ ভাবেন যে এটা বুঝি হলিউডের তারকাখচিত কোনো ব্লকবাস্টার, তাহলে ভুল ভাবছেন৷ এই সিনেমাটির অবস্থান তথ্যচিত্র এবং কাহিনীচিত্রের মাঝামাঝি কোনো জায়গায়৷ এটি কাহিনীচিত্র কারণ পুরো সিনেমাটায় যা দেখানো হয় তা পুরোটাই ভবিষ্যত্ কল্পনা৷ কিন্তু গঠনের দিক থেকে সিনেমাটি একটি তথ্যচিত্র৷ যারা ব্রিটিশ ডকুমেন্টারি ছবির সাথে পরিচিত, তারা এই স্টাইলের ব্যাপারটা ধরতে পারবেন৷ ঘটনার ফুটেজ এবং মূল পাত্রপাত্রীদের ইন্টারভিউ দিয়ে সিনেমটা বানানো হয়েছে৷ বি বি সির যে কোনো টি ভি ডকুমেন্টারির সাথে এই সিনেমার গঠনের কোনো তফাত্ নেই৷ তফাত্ শুধু একটাই- এখানে তথ্যও কাল্পনিক৷ কিন্তু জর্জ বুশ মানে জর্জ বুশ, ডিক চেনি মানে ডিক চেনি৷ অর্থাত্ জর্জ বুশ বা ডিক চেনির ভূমিকায় কোনো অভিনেতা অভিনয় করেন না৷ সিনেমাতে দেখবেন জর্জ বুশ শিকাগো এয়ারপোর্টে নামছেন, শিকাগোতে বক্তৃতা দিচ্ছেন, অভ্যাগতদের সাথে হাত মেলাচ্ছেন এবং গুলি খেয়ে পড়ে যাচ্ছেন৷ ডিক চেনি কার্যভার গ্রহণ করছেন, এবং মৃত প্রেসিডেন্টের পারলৌকিক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন৷ সিনেমাটি প্রথম দেখানো হয় ২০০৪ সালের টরন্টো চলচ্চিত্র উত্সবে৷ মোর৪ চ্যানেলে ৯ই অক্টোবর৷ এবং চ্যানেল ফোরে ১৯শে অক্টোবর, ২০০৬৷ আমেরিকানরা মারাত্মক খেপে গেছেন সিনেমা দেখে৷ টেক্সাসের রিপাব্লিকান পার্টির মতে সিনেমার বিষয়বস্তু
"shocking" এবং "disgusting" ৷ জর্জ বুশের পয়লা প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিন্টনের মতে: "I think it's despicable... I think it's absolutely outrageous. That anyone would even attempt to profit on such a horrible scenario makes me sick." আমরা যেহেতু কিছুতেই খুব একটা অসুস্থ হই না, তাই আমরা সিনেমাটির আর একটু ভিতরে যাব৷

সিনেমা শুরু হয় এক মহিলার কন্ঠস্বরে আরবী ভাষার ভয়েস ওভার দিয়ে৷ ৯/১১ হবার পরে মহিলা বিধ্বস্ত৷ যদিও তাঁর অনেক প্রতিবেশীই বলেন, যা হয়েছে ঠিক হয়েছে৷ আমরা এতদিন ভুগেছি, এবার ওরাও একটু ভুগুক৷ কিন্তু মহিলার প্রশ্ন- এর ফলে আমরা কি পেলাম? মহিলা এইবার জামাল বলে কোনো এক লোকের কথা বলেন যিনি মহিলার স্বামীই হবেন হয় তো৷ জামাল এইটা কি করল? কেন করল? আমাদের সন্তানের কথা ভাবল না? দেশের কথা? মানুষের কথা৷ এর পরেই কাহিনী শুরু হয় সকালবেলার শিকাগো এয়ারপোর্টে৷ যেহেতু আমেরিকানরা ক্ষেপে গেছেন, মনে হওয়া স্বাভাবিক যে সিনেমাটা প্রচন্ড আমেরিকাবিরোধী বা বুশবিরোধী৷ নিশ্চয় প্রচুর সাবভার্সিভ রাগী কথাবার্তা আছে৷ এবং সিনেমার শুরুতে সেই আরবী ভাষার ইন্টারভিউ বুঝিয়ে দেয় যে এই সিনেমা প্রথম থেকেই যতদূর সম্ভব নিরাসক্ত থাকবে৷ যতদূর থাকা যায়৷

কি করে নিরাসক্ত থাকা যায়? ধরুন আজ আপনি বুশের কাছের লোকজনদের ইন্টারভিউ নিলে যে রকম কথাবার্তা শুনবেন, সিনেমাতে বুশের স্পেশাল অ্যাডভাইজার ঠিক সেইভাবেই ইন্টারভিউ দেন৷ বা পুলিশকর্তারা৷ বা ঘটনার পরে যাদের সন্দেহের বশে গ্রেফতার করা হয় তারাও৷ কখনই উচ্চকিত চমক নেই৷ আজ আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখান থেকে ২০০৭ অবধি যদি একটা ট্রেন্ড লাইন আঁকেন, তবে মনে হবে এই সব উক্তি, প্রত্যুক্তি, মতামত একান্ত স্বাভাবিক৷ আজকে দাঁড়িয়ে টি ভিতে আমরা এই সবই শুনে থাকি৷ আজকের টি ভির বিভিন্ন খবর নিয়ে যদি একটা কোলাজ বানান, ইরাক-আফগানিস্থান-আবু ঘ্রায়িব-সিরিয়া-ইরান- ঠিক এই রকমই দাঁড়াত৷ তফাত্ হল, এখানে সবই কাল্পনিক যা একবছর পরে ঘটে৷ এবং বুশকে হত্যা করা হয়৷ ধারাবিবরণীতেও স্রেফ বিবরণ থাকে৷ কোথাও পরিচালক নিজের মতামত একবারও বলেন না৷ কিন্তু পুরো সিনেমাটাই তো পরিচালকের নিজের কথা!

এই নিরাসক্তির ছবি দেখতে দেখতে তবুও গায়ে জ্বালা ধরে, এবং সাথে সাথে হাড় হিম হয়ে আসে৷ আমাদের চারদিকে যা ঘটছে, ঘটেছে এবং ঘটতে চলেছে, তা এমনিতেই এমন ভয়ঙ্কর, যে তার জন্য আলাদা করে কোনো স্টাইলাইজড সাবভার্শনের দরকার হয় না৷ প্রতিদিনের সি এন এন, বি বি সি, এমন কি ফক্স নিউজের নিউজ ক্লিপিং জড়ো করে তৈরি করা যায় এই কালরাত্রির পাঁচালী৷ যদিও আমরা জানি মিডিয়া কিভাবে চলে এবং কোন মিডিয়া কাদের কথা বলে- তা সজ্জ্বেও এই বিকিয়ে যাওয়া মিডিয়ার তোলা ছবি দেখতে দেখতেই ভিতর থেকে আগুন জ্বলে৷ কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মন্তব্য ছাড়াই৷ এই খবরগুলো সাজানোতেই পরিচালকের মুন্সিয়ানা৷ কিন্তু সাজিয়ে তোলার খেলাটা দর্শক কখনই বোঝেন না৷ শুধু গায়ে জ্বালা ধরে, হাড় হিম হয়ে আসে৷

যাদের রাজনৈতিক থিল্রার ভালো লাগে, তাদের অবশ্যই এই ছবি ভালো লাগবে৷ পুরো হত্যাকান্ডের ছক এইখানে বলব না আগেই বলেছি৷ শুধু বলি সব শেষে কি হয়৷ খুব অবাক করে দেওয়া কিছু হয় না৷ যা এখনও হচ্ছে, তারি একটা যৌক্তিক পরিণতি ঘটে৷ আমেরিকান পুলিশ এবং রাষ্ট্র নিজেদের হাতে আরও ক্ষমতা তুলে নেয়৷ প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টের নতুন সংস্করণ বের হয় এবং প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট পার্মানেন্ট আইনে পরিণত হয়৷ ডিক চেনি প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণ করেন৷ আমেরিকা বিদেশী রাষ্টের্র মদত খুঁজে ফেরে৷ কোন রাষ্ট সেটা সিনেমাতেই দেখুন৷"

পুরো সিনেমা দেখতে চাইলে চলে যান গুগুল ভিডিওতে

ধাঁধাঁ, মজা, হেঁয়ালি...

কিছুদিন আগে কেউ ইমেলে একটা ধাঁধাঁ পাঠিয়েছিলো - হ্যাকার পাজল - হ্যাকারদের মতন করে চিন্তা করতে হবে। বেশ মজা লেগেছিলো, একটু ভেবেচিন্তে শেষও করে ফেলেছিলুম। এবার আরেকটা পেয়েছি - নিউট্রাল রিডল - আরও কঠিন। সত্তরটা লেভেল আছে, এক লেভেল থেকে অন্য লেভেলে যেতে হলে ব্রাউজারে এইচ টি এম এল পাতার সোর্সটা দেখে ক্লু খুঁজতে হবে। খেলতে হলে লাগবে ব্রাউজার, ইন্টারনেট কানেকশান, গিম্প বা ফোটোশপ জাতীয় ফোটো-এডিটিং সফটওয়্যার, কখনো এক্সিফ-রিডার (exif-reader), এবং একটু ধৈর্য। লেগে পড়ুন। অল দ্য বেস্ট।

আমি আটকে একচল্লিশে।

Monday, October 02, 2006

আমার পুজো, ঋকের পুজো

গুরুচণ্ডা৯ থেকে একটা লেখা -

"শেষ কবে কলকাতার পুজো দেখেছি? বছর কুড়ি আগে বোধহয়৷ পুজো দেখার গপ্পো সকলে জানে, আর সকলের মতনই ছোটবেলায় কলকাতার রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, মণ্ডপে যাওয়া - পারোলিনের পুজোর সঙ্গে আমার ছোটবেলার পুজোর কোন তফাৎ প্রায় নেই-ই৷ আরো পরে পুজো আর টানতো না - ভিড়, শব্দ, আলো থেকে দূরে নিজের দশ ফুট বাই দশ ফুটের রাজ্যে একটা বই, বা বেহালা, বা টেপরেকর্ডার - এই নিয়ে সময় কাটতো৷ লাল চশমা পরা আমি পুজো থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করতুম৷ রাস্তায় যেতে-আসতে যেটুকু চোখে পড়ে সেটুকু ছাড়া বাকিটা পুজো না-দেখা বললেই চলে৷ তারপর শুরু যাযাবরের জীবন, এঘাট সেঘাটের জল খাওয়া, লাল চশমার ওপর বাস্তবের প্রলেপ পড়া - তখন পুজোর মানে পুজা-অর্চনা থেকে বদলে হয় নিছক আড্ডা - শুণ্য আর এক, এই দুটো সংখ্যার বাইরে একটা গেট-টুগেদার...

নিউক্যাসলে পুজো হয় - ফেনহ্যামে "হিন্দু মন্দিরে" - একদম দিনক্ষণ-তিথিনক্ষত্র মেনে, আয়োজক "নীবপা" - নর্থ ইস্ট অব ইংল্যাণ্ড বেঙ্গলি পুজা অ্যাসোসিয়েশন৷ বাক্স থেকে বের করে নতুন করে সাজানো মুর্তি নয়, প্রতি বছর কুমোরটুলি থেকে অর্ডার দিয়ে আনানো ছোট্ট মুর্তি৷ গোটা দিন শুণ্য আর এক ঘেঁটে সন্ধ্যেবেলা ফুলবাবুটি (মাইনাস ধুতি) সেজে সপরিবারে আমরা পুজো দেখতে যাই৷ লাল চশমা এখনও আছে, তাই পুজো থেকে একটু দূরে আমরা - আমি, সনাতনদা, জলদিন্দু, অংশুডাক্তার, আরো কয়েকজন৷ ফুলবিবিরাও থাকেন৷ আর কুচোকাঁচাগুলো এখানে সেখানে দৌড়ে বেড়ায়৷ আশেপাশে ইউনিভার্সিটিতে সদ্য ভর্তি হওয়া কিছু বাঙালী অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে, কারো বিলিতি বন্ধু ধুতি পরে, কারো বিলিতি বান্ধবী শাড়ি পরে৷ এরা বাস্তববাদি - প্রতি শনি-রবিবার নিয়ম করে মন্দিরে আসে, শুধু দুই দিনের ভক্তিরসে সিক্ত হয়ে - রান্নার মেহনতটা বেঁচে যায় আরকি৷ দোতলায় নবরাত্রির গরবা হয়, সেখানে প্রচুর ভিড় - ইউনিভারসিটি ছাত্র-ছাত্রীদের৷ সেই ভিড়ে চোখে-চোখে কিছু কথার খেলাও চলে - ইশারা খেটে গেলে টুক করে সটকে আশেপাশের কোন পাবে চলে যাওয়া৷ আলাদা ভিড় পাকাপাকি থেকে যাওয়া লোকেদের - অধিকাংশই ডাক্তার - তাঁদের কাছে আমাদের ওজন নেই, অন্য ডাক্তারদের ওজন থাকলেও সেটা বাড়ে কমে কত বছর ধরে এখানকার বাসিন্দা তার ওপর - সাময়িক হলে আমাদের মতনই ওজনহীন৷

দোতলা থেকে কেউ একটা ঢোল নিয়ে আসেন - আমরা তারস্বরে গান ধরি৷ ওদিকে "শরণ্যে ত্রম্বকে গৌরী" চলে, এদিকে জন হেনরী, পল রোবসন থেকে আমায় ডুবাইলি রে৷ একজন দুজন ধার্মিক ওই পাকাপাকি থেকে যাওয়াদের ভীড় থেকে এদিকে একটু কটমট করে তাকালেও অঞ্জলির দিক থেকে ভিড় ক্রমশ পাতলা হয়ে এদিকে সরে আসে৷ "মনের কথা হয়না বলা, বলতে লাগে ভয়, গলায় দড়ি দিয়ে গিন্নী ডুবে মরতে কয়" শুনে বিবিরা খিলখিল করে হেসে ওঠে...সন্ধ্যে থেকে রাত হয়, অনভ্যাসে গলা ভাঙতে থাকে, ঢোল পিটিয়ে হাতে টান ধরতে থাকে, তবু চলে মেহফিল...আর অপেক্ষা...কয়েকজন নজর রাখেন খাবার ঘরের দিকে - টেবিলে বড় গামলাগুলো চড়লেই সেখানে লাইন লেগে যায়৷

এর পর একটা কোথাও বিজয়ার গেট টুগেদারের কথা প্ল্যান করে যে যার বাড়ির দিকে রওনা দিই৷ রাতে ঘুমনোর সময় ঋককে দুর্গার গল্প বলি - গণেশ আর সিংহ তার সবচেয়ে প্রিয়৷ পরের দিন কতগুলো এক আর শুণ্য ঘাঁটতে হবে সে কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমনোর চেষ্টা করি৷

সুর্মা আমিন৷

কোথায় কাশফুলের রোমান্টিকতা? কোথায় ঢাকের বাজনা? দশমীর দধিকর্মা? লাইন দিয়ে মহম্মদ আলি পার্কের প্যাণ্ডেল দেখতে যাওয়া, বা কলেজ স্কোয়্যারের আলো? বিজয়গড় ভারতমাতার মাঠের অনুষ্ঠান? গড়িয়ায় নবদুর্গা দেখতে গিয়ে দশের মধ্যে দশটা বেলুন ফাটানো? মধ্যতিরিশেই নস্টালজিক আমি বিশ বছর আগের অরবিন্দ পার্কে ফিরে যাই - ঢাকে কাঠি পড়েছে, হাফ প্যান্ট পরে মিতুল দৌড়চ্ছে পুজো প্যাণ্ডেলের দিকে, কোমরে গোঁজা একটা ক্যাপ ফাটানোর রুপোলি পিস্তল, পকেটে রোল ক্যাপের দুটো প্যাকেট...কোথায় যাচ্ছিস, দাঁড়া, দাঁড়া...মিতুল ঘুরে দাঁড়িয়ে এক গাল হাসে, ওর মুখটা আস্তে আস্তে পাল্টায়...দেখি ঋক দাঁড়িয়ে আছে, স্যান্ডিফোর্ডে৷ এখানে সেই পিস্তলগুলো পাওয়া যায় না - ঢাকে কাঠি পড়ে না - সেই পুজোটাকে ঋক চেনেই না..."

গুরুচণ্ডা৯তে পুজো স্পেশ্যালের বাকি লেখাগুলো পাবেন এখানে

Monday, September 04, 2006

আপডেট

জার্মানি গেছিলুম, একটা কনফারেন্সে। সঙ্গে ছিলো ল্যাপটপ, এবং সেটি অ্যাপল, এবং অ্যাপলে বাংলা ইউনিকোড ঠিকমতন দেখা যায় না - সুতরাং বাংলা ব্লগ দেখাও হয়নি, লেখাও নয়। এর মাঝে শুনলুম "ব্লগ দিবস" ছিলো...দেরী করে হলেও, পাঁচটা প্রিয় ব্লগ (কোন অর্ডারে নয়) -

পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ
একটি বাংলা ব্লগকথা
কারুবাসনা
সাভাসের ওয়েবলগ (টেকনিক্যাল ব্লগ)
বিবর্ণ আকাশ এবং আমি

ড্রেসডেন নিয়ে পরে লিখবো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ বোমারু বিমান কিভাবে ড্রেসডেনকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলো তাই নিয়ে। আপাততঃ ব্যাকলগ ক্লিয়ার করি। গুরুচণ্ডা৯-তে তিনটি নতুন লেখা -

মাঙ্গুলি নাহাকের মৃত্যু
দ্য সিল্ক রোড - স্বেন হেদিন
বঙ্গীয় বারোমাস্যা - দ্যাখ কেমন লাগে

১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ - জানি অনেকদিন আপডেট হচ্ছে না, হাতে একদম সময় নেই। অনেক গল্প বলার আছে - ড্রেসডেনের, ড্রাগন বোট রেসের গল্প...দেখি, সময় পেলে লিখবো। ম্যাক থেকে লিখতে পারলে সুবিধা হত, কিন্তু ইউনিকোড ঠিকমতন আসে না যে...

Tuesday, August 22, 2006

দেশ এগোচ্ছে...

২০০৬ সাল, তবুও চোখে পড়ে এই খবর...ইংরিজী ব্লগটাতে একবার লিখেছিলাম এই নিয়ে। প্রতি বছর কি মুখ বুজে এই ঘটনা দেখে যেতে হবে? কোন দিকে এগোচ্ছি আমরা?

পাগলা সানাই...

হাত পেতে নিয়ে চেটেপুটে খাই
বিসমিল্লার পাগলা সানাই,
হাত পেতে নিয়ে চেটেপুটে খাই
স্মৃতিবিজড়িত পাগলা সানাই...

চলে গেলেন সানাইয়ের একছত্র বাদশা - উস্তাদ বিসমিল্লা খান। পাগলা সানাই কিন্তু রয়ে যাবে আমাদের সকলের মধ্যে...যাবেই।