এই পর্ব শুরু করার আগে একটা কথা স্পষ্ট করে বলে নেওয়া ভালো। প্যালেস্টাইনে আরব এবং ইহুদীদের সম্পর্ক প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কয়েক বছর আগে অবধিও এত জটিল ছিল না। বরং বিংশ শতকের গোড়া অবধি আরব মুসলমান এবং প্যালেস্তিনীয় ইহুদীরা পাশাপাশিই ঘর বেঁধে থেকেছে, তাদের মধ্যে ধর্মীয় আদানপ্রদানও চালু প্র্যাকটিস ছিল। যে নবী মুসা উৎসবের কথা বলে এই রক্তক্ষয়ের পর্ব শুরু করব, সেই নবী মুসা উৎসব বিশ্বযুদ্ধের আগে অবধি সকলে একসঙ্গেই পালন করেছে, বস্তুতঃ ক্রিশ্চান ইস্টার উৎসবের সঙ্গে মিশে গিয়ে। ইহুদী এলাকায় ইহুদীদের পুরিম উৎসব একসঙ্গে পালন করত ক্রিশ্চান আর মুসলমান তরুণরাও - অটোমান নাগরিক হিসেবে। গোটা ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় চলতি প্র্যাকটিস এরকমই সিঙ্ক্রেটাইজেশনের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছিল। সব বদলাতে শুরু করে জায়নিস্ট ধ্যানধারণার প্রচলনের সময় থেকে। ইউরোপীয় নেশন স্টেটের ধাঁচে কোন এক বহু প্রাচীন ঐতিহাসিক সময়কে সামনে রেখে জায়নিস্টরা প্যালেস্টাইনেই নিজেদের নেশন স্টেট তৈরীর দাবী তোলে, এবং বিভিন্ন কলোনিয়াল শক্তির প্রশ্রয়ে জায়নিস্টদের কাজকর্মের (সংগঠিত অভিবাসন, ঢালাও জমি কিনে আরবদের বাস্তুচ্যুত করা, রাজনৈতিক উত্থান এবং আরবদের প্রতিস্থাপিত করে ইহুদী নেশন স্টেট তৈরীর প্রকাশ্য ঘোষণা) ফলে আগের সহাবস্থান বদলে যায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম চাপা উত্তেজনায়। তারপরের ঘটনা লিখব এবারে...
[সোনালি অতীতকে সামনে রেখে সঙ্কীর্ণ ধর্মীয় চিন্তাধারার ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদের উত্থানের গল্পটা ভারতেও খানিকটা একই ধাঁচের। আশা করি এই সিমিলারিটিগুলো সকলে খেয়াল করতে পারছেন।]
(৬) রক্তক্ষয়ের শুরুর দিনগুলোঃ ১৯২০ – ১৯৩৫
ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের এক বছরও হয়নি তখনো - প্যালেস্টাইনে প্রথমবার রক্ত ঝরতে শুরু করে ১৯২০ সালের এপ্রিলে, জেরুজালেমে নবী মুসা উৎসবের দিন। আরবদের জমায়েতে স্বাধীন প্যালেস্টাইনের স্লোগান ওঠে, ভিড়ের সঙ্গে আচমকাই ইহুদী পথচারীদের হাতাহাতি শুরু হয়। ছোটখাটো একটা ব্রিটিশ গ্যারিসন - লোকের অভাবে বা সাহসের অভাবে - বেকুবের মত দাঁড়িয়ে থাকে। গণ্ডগোলের শেষে দেখা যায় পাঁচজন ইহুদীর মৃত্যু হয়েছে, দুশোর ওপর লোক আহত। আকস্মিক এই হিংসার ঘটনায় স্তম্ভিত দুই সম্প্রদায়ই বুঝতে পারে ম্যান্ডেটের মধ্যে দিয়ে শান্তি ও স্বাধীনতা আসবে, এমন আশা দুরাশা মাত্র।
জায়নিস্ট নেতৃত্বের কাছে একটা ব্যাপার স্পষ্ট হয়ে যায় - আরবরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের জমির ওপর জিউয়িশ ন্যাশনাল হোম তৈরীর সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। তারা নিজেদের পালটা জঙ্গি সংগঠন আর সামরিক প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা তৈরী করতে শুরু করে। সেই বছরই, জুন মাসে, তৈরী হয় হাগানাহ্, জিউয়িশ আন্ডারগ্রাউন্ড ডিফেন্স ফোর্স - যারা গোপনে সামরিক মহড়া আর চোরাই অস্ত্র যোগাড় করে পরের সংঘাতের জন্যে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে।
আরবদের কাছে জেরুজালেমের ঘটনা একটা ওয়ার্নিং হয়ে দাঁড়ায়। আরব স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকার হাজারে হাজারে ইহুদী অভিবাসীকে প্যালেস্টাইনে এসে আরব জমিতে বসতি বানাতে দেওয়া, এবং যে কোনও প্রতিবাদের শাস্তি হিসেবে আরবদের জেল বা সমষ্টিগতভাবে জরিমানার সম্মুখীন হতে হওয়ার ফলে নড়বড়ে বিশ্বাসের ভিতে আরও চওড়া ফাটল দেখা দেয়।
এর পরের ঘটনা ঘটে বছরখানেক পরে, ১৯২১ সালের মে মাসে, জাফায়। জায়নিস্ট সোশ্যালিস্টদের এক প্যারেড থেকে রাস্তায় হাতাহাতি শুরু হয়, সেখান থেকে পুরোদমে দাঙ্গা। ক্ষিপ্ত আরব জনতা ইহুদীদের বাড়িঘর আর দোকানের ওপর হামলা করে, ইহুদী প্যারামিলিটারি বাহিনী পালটা হামলা চালায়। ব্রিটিশ বাহিনী যতক্ষণে মাঠে নামে, ততক্ষণে প্রাণ গেছে সাতচল্লিশজন ইহুদীর আর প্রায় সমসংখ্যক আরবের, আহত কয়েকশো মানুষ। আর এই গণ্ডগোল ক্রমশঃ ছড়িয়ে যায় আরও দূরে, পেতাহ্ টিকভা, রিহোভেত, এমনকি জেরুজালেমের আশেপাশেও।
১৯২১ সালের এই দাঙ্গার পর ব্রিটিশরা প্রথমবার একটা অফিশিয়াল অনুসন্ধান কমিটি তৈরী করে প্যালেস্টাইনের চিফ জাস্টিস স্যার থমাস হেক্রাফটের নেতৃত্বে। কমিশনের রিপোর্টে ইহুদী অভিবাসন এবং জমি কেনাবেচা নিয়ে আরবদের ভয়ভীতির কথা তুলে ধরা হয়, বলা হয় বিধিনিষেধ আরোপ করার কথাও। ব্রিটিশ সরকার কমিশনের রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে একটা হোয়াইট পেপার প্রকাশ করে ব্যালফার ডিক্লারেশনের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতার কথা আবার একবার ঘোষণা করে। তার সঙ্গে বলে যে ইহুদী অভিবাসনের সংখ্যা নির্ভর করবে সেই দেশের অভিবাসীদের গ্রহণ করার অর্থনৈতিক ক্ষমতার ওপর। ইহুদী আর আরব - দুই পক্ষই এতে অখুশী থেকে যায়।
বিপর্যয় আসে ১৯২৯ সালে।
ওই বছর, আগস্ট মাসে, একটা আপাততুচ্ছ বিষয় নিয়ে এত দিনের চাপা উত্তেজনা ফেটে বেরোয় - জেরুজালেমের ওয়েস্টার্ন ওয়াল বা পশ্চিম প্রাচীরের অধিকার নিয়ে। আরব মুসলমানদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল যে ওই প্রাচীর আসলে পবিত্র হারাম-আল-শরিফ চত্বরের অংশবিশেষ। ইহুদীদের দাবী দেওয়ালটা তাদের পবিত্রতম প্রার্থনাস্থল। জায়নিস্টরা দেওয়ালের সামনে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে জড়ো হয়ে তাদের পতাকা তুলে ইহুদী জাতীয়তাবাদী স্লোগান দিতে থাকে। মুসলিম ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ সেটাকে উস্কানি হিসেবে দেখে। অথচ বিশ্বযুদ্ধের আগে অবধিও ওই প্রাচীরের পাশে উভয় সম্প্রদায়ই বিনা ঝঞ্ঝাটে উপাসনা করত...
২৩শে আগস্ট ব্যাপক গণ্ডগোল শুরু হয়। প্রথমে গুজব ছড়ায় যে জায়নিস্টরা আল আক্সা মসজিদ আক্রমণ করেছে। লাঠি আর ছুরি হাতে আরব গ্রামবাসীরা দলে দলে বেরিয়ে পড়ে রওনা দেয় জেরুজালেমের পথে। পরের গোটা সপ্তাহ জুড়ে চরম দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। হেব্রনে দাঙ্গায় মারা যায় ৬৭ জন ইহুদী - পুরুষ, নারী, শিশু। বেঁচে যায় তারা যাদের আরব প্রতিবেশীরা নিজদের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল। সাফেদে আরেক সংগঠিত হত্যাকাণ্ডে মারা যায় আরও জনা কুড়ি ইহুদী। সব মিলিয়ে, ওই এক সপ্তাহে ইহুদীদের মধ্যে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৩, আহত শতাধিক। উল্টোদিকে, ব্রিটিশ সুরক্ষা বাহিনী আর ইহুদী মিলিশিয়ার হাতে মারা যায় ১১৬ জন আরব, আহত হয় শতাধিক বা আরও বেশি। সাধারণভাবে, ব্রিটিশ সুরক্ষা বাহিনী পরিস্থিতির সামাল দিতে হিমশিম খেয়ে যায়। আর কোথাও কোথাও বেবাক দাঁড়িয়ে তাদের চোখের সামনেই নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চলতে দেয়।
স্যার ওয়াল্টার শ-য়ের নেতৃত্বে শ কমিশন আসে ঘটনার তদন্ত করতে। এবং এই কমিশনের দেওয়া রিপোর্টকে বলা যায় এই সময়ের একটা ল্যান্ডমার্ক রিপোর্ট। রিপোর্টে লেখা হয় যে পশ্চিম দেওয়াল নিয়ে বিতর্ক আদৌ এই পুরো ঘটনার মূল কারণ নয়। বরং ম্যান্ডেট শুরু হওয়ার দিন থেকে আরবদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে, সেই সম্পর্কে তাদের মনোভাবকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্টে এও লেখা হয় যে ব্রিটিশ সরকারের উচিত পাবলিক স্টেটমেন্ট দিয়ে ম্যান্ডেটের রক্ষক হিসেবে দুই সম্প্রদায়ের প্রতিই তাদের দায়বদ্ধতা আবার করে ব্যক্ত করা, এবং পাশাপাশি নির্বিচারে ইহুদী অভিবাসন এবং জমি কেনার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা। এই রিপোর্টের এক বছরের মধ্যেই, ১৯৩০ সালের হোপ সিম্পসন রিপোর্ট জানায় যে আরব অধিবাসীদের উচ্ছেদ না করে ইহুদী বসতি তৈরীর মত সারপ্লাস জমি প্যালেস্টাইনে নেই।
এক মুহূর্তের জন্যে প্যালেস্তিনীয়রা ভেবেছিল যে ব্রিটিশ সরকার হয়ত তাদের মনোভাব বদলাচ্ছে। ১৯৩০ সালের পাসফিল্ড হোয়াইট পেপার, শ কমিশন আর হোপ কমিশনের রেকমেন্ডেশনগুলোকে অনুমোদন জানিয়ে অভিবাসনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রস্তাব করে। এবং প্রত্যাশিতভাবেই জায়নিস্টদের দিক থেকে জোরালো রিয়্যাকশন উঠে আসে। জিউয়িশ এজেন্সির নেতা, ওয়াইৎজম্যান, ব্রিটেনের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছেদ করার হুমকি দেন। চরম চাপের মুখে, ১৯৩১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড একটা চিঠি লেখেন, যাতে পাসফিল্ড হোয়াইট পেপারকে বাতিল করা হয়, এবং বলা হয় ইহুদী অভিবাসন এবং জমি কেনা অব্যাহত থাকবে, ব্রিটিশদের তরফে কোনোরকম বাধা দেওয়া হবে না। "কালো চিঠি" বা "ব্ল্যাক লেটার" বলে এই চিঠি প্যালেস্তিনীয়দের মধ্যে কুখ্যাত হয়ে রয়েছে - ব্রিটিশ সরকার যে প্রতিবারই জায়নিস্ট চাপের মুখে নতিস্বীকার করবে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ হিসেবে।
এরকম সময়েই উঠে আসেন ইযয আদ-দিন আল কাসাম। ১৯২৯ সালের পর থেকেই প্যালেস্টাইনে শুরু হয়েছিল সংগঠিত সশস্ত্র প্রতিরোধ। তার মধ্যেই, জন্মসূত্রে সিরিয়ার মানুষ, এক ধর্মগুরু, হাইফা বাসিন্দা শেইখ আল কাসাম, শহুরে প্যালেস্তিনীয় সিভিল সোসাইটি আর আরব রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর ভরসা না করে, গরীব বঞ্চিত আরব, বিশেষ করে যারা ইহুদীদের হাতে জমি বা রুজিরুটি হারিয়েছে বা বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তাদের নিয়ে গোপনে ছোট ছোট সংগঠন তৈরী করছিলেন। কাসামের বার্তা ছিল উপনিবেশ বিরোধিতা আর ইসলামের এক মিশেল, যার মাধ্যমে তিনি প্যালেস্টাইনকে দখলমুক্ত করার জন্যে সশস্ত্র জিহাদের ডাক দিয়েছিলেন। ১৯৩০ সালের মাঝামাঝি কাসাম একটা ছোট গেরিলা সংগঠন তৈরী করে ইহুদী বসতি আর ব্রিটিশ ছাউনির ওপর ক্রমাগত অতর্কিত আক্রমণ শুরু করেন। ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্স শত চেষ্টা করেও বহুদিন আল-কাফ আল-আসওয়াদ (বা "ব্ল্যাক হ্যান্ড") নামের এই বাহিনীর নাগাল পায়নি। শেষ অবধি, ১৯৩০ সালের ২০শে নভেম্বর, জেনিনের অদূরে গুহায় লুকিয়ে থাকা কাসাম ও তাঁর বাহিনীকে ঘিরে ফেলে ব্রিটিশ পুলিশ। গুলির লড়াইয়ে কাসাম নিহত হ'ন। হাইফায় কাসামের শেষকৃত্যের মিছিলে জড়ো হয়েছিল হাজারে হাজারে মানুষ - নিমেষেই শহীদের মর্যাদা পেয়ে যান কাসাম। কাসামের বিদ্রোহ আর শাহাদাত নিয়ে লেখা হয় গান - সেই গান ছড়িয়ে পড়ে গোটা প্যালেস্টাইনে। চলতে থাকা জমি দখলে ক্ষুব্ধ সেই সময়ের তরুণ প্রজন্ম, যারা ক্রমশঃ পুরনো নেতৃত্বের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছিল, তাদের সামনে কাসাম হয়ে ওঠেন প্রতিরোধের আদর্শ।
এই সময়টা জুড়ে, র্যাডিকালাইজেশনের দিক থেকে ইহুদীরাও কোনো অংশে পিছিয়ে ছিল না। ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে হাগানাহ্ ক্রমশঃ কলেবরে বেড়ে উঠেছিল। গোপনে অস্ত্র আমদানি চলেছিল পুরো দমে। যেমন, আল কাসামের মৃত্যুর মাসখানেক আগেই জাফা বন্দরে হাগানাহ্র জন্যে চালানে আসা জাহাজভর্তি অস্ত্র আবিষ্কারের পর আরব জনমত আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। হাগানাহ্র পাশাপাশি তৈরী হয়েছিল আরও বেশ কয়েকটা জঙ্গি সংগঠন। ১৯৩১ সালে হাগানাহ্ থেকে একটা অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে তৈরী করে ইরগুন (পুরো নাম Irgun Tzvai Leumi অথবা National Military Organization) – যারা হাগানাহ্র প্রতিরোধের নীতির বদলে সরাসরি প্রতিআক্রমণের কথা বলতে শুরু করে। "শক্তির মাধ্যমেই শত্রুকে ইহুদী জাতীয় ভূমি থেকে বিতারণ করা সম্ভব" – এই হয়ে ওঠে তাদের স্লোগান। ইরগুন তাদের নিজস্ব জঙ্গি কাজকর্ম চালাতে থাকে - রাস্তাঘাটে, বাসে, দোকানবাজারে আরব জনতার ভিড়ের মধ্যে বোমা ছোঁড়া থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করে হত্যা, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া - সবই চলতে থাকে নির্বিচারে। আক্রমণ, প্রতিরোধ, পালটা আক্রমণ - রক্তের সাইক্ল চলতেই থাকে, এবং পুরো সময়টা জুড়েই লোকের অভাবে ভোগা ব্রিটিশ সেনাবাহিনী বিশেষ কিছুই করে উঠতে পারেনি।
১৯৩৫ সাল নাগাদ, আরব এবং ইহুদী, দুই সম্প্রদায়ই পুরোদস্তুর সশস্ত্র অবস্থায় সহিংস জঙ্গি কার্যকলাপে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্যে তৈরী ব্রিটিশ ম্যান্ডেটই হয়ে ওঠে যুদ্ধের ময়দান।
আর, এর কয়েক মাসের মধ্যেই ছোট্ট একটা স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে ১৯৩৬ সালের আরব মহাবিদ্রোহ...


No comments:
Post a Comment