Friday, May 11, 2012

শহর থেকে শহরে - ১৫

ইট ফুটি, স্লিপ ফুটি, ড্রিঙ্ক অনলি নিউক্যাসল ব্রাউন
==========================

ঘিঞ্জি স্যাঁতস্যাঁতে ঠাণ্ডা এই শহরটার সাথে ছয় বছরের অ্যাটাচমেন্ট প্রায় শেষ হওয়ার মুখে। বাক্স গোছানো, ডেস্ক খালি করা, তড়িঘড়ি প্রোজেক্টের কাজ এগনোর মত বোরিং জীবনে এই শেষ কয়েক সপ্তাহের একমাত্র আকর্ষন - বলা ভালো টেনশন - সীজন শেষে এই সাদা-কালো শহরটার সাদা-কালো ফুটবল দলটা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে কোন তলায় থাকবে। মাসটা মে মাস, ২০০৮।

ফুটবল তো সব শহরেই খেলে - লন্ডনে নয় নয় করে চার থেকে পাঁচটা দল প্রিমিয়ার লীগে খেলে - আর্সেনাল, চেলসী, ফুলহ্যাম, টটেনহ্যাম, ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়ন...। কিন্তু এই শহরটার স্কাইলাইনের সবচেয়ে প্রমিনেন্ট চিহ্ন - সেন্ট জেম্‌স পার্কে - একটা বল নিয়ে এগারোজন সাদা-কালো মানুষের নব্বই মিনিটের দৌড় টাইনসাইডের লোকজনের কাছে শুধু একটা ফুটবল ম্যাচ নয়। লন্ডন অঞ্চলে ফুটবল রিক্রিয়েশন হতে পারে - নর্থ-সাউথ ডিভাইড পেরিয়ে টাইনসাইড বা টীজসাইড বা উইয়ারসাইডে ফুটবল ওই লন্ডনের সাথে টক্কর দেওয়ার মাধ্যম। টাইনসাইডের ফুটবল ফিলোজফিটা এর মধ্যে আবার একটু অন্যরকম - দাঁতে দাঁত চেপে ম্যাচ বাঁচানোর চেয়ে বিপক্ষকে কাঁপিয়ে হেরে যাওয়াও অনেক বেশি প্রিয়। নব্বইয়ের দশকের সেই কীগানের জমানার এন্টারটেইনার্সদের পর ববি রবসনের কার্পেট ফুটবল অবধি এই ফিলোজফিই মেনে এসেছে টাইনসাইডের জর্ডিরা। ফুটবল মানে এন্টারটেইনমেন্ট - লন্ডনে লোকের মনোরঞ্জন ওয়েস্ট এণ্ডে থিয়েটার বা অপেরা - হপ্তাভর কাজের পর টাইনসাইডের এককালের খনিমজুরদের মনোরঞ্জনের জায়গা ফুটবল মাঠ আর পাব। নব্বই মিনিটের দৌড় আর লাগাতার বীয়ার।

কয়েকমাস আগের কথা। কার্পেট ফুটবলের যুগ শেষ হয়েছে বছর তিনেক আগে। তখনকার চেয়ারম্যান ফ্রেডি শেফার্ডের অবিমৃষ্যকারিতায় স্যার ববির দিন শেষ। গ্রেম সোনেসের নেগেটিভ ট্যাকটিক্স, তারপর গ্লেন রোডারের পাস অ্যাণ্ড মুভের অল্প কিছুদিন পর টাইনসাইডে বোল্টন-খ্যাত এক নার্সিসিস্ট ম্যানেজার - বিগ স্যাম। এফ-এ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে দ্বিতীয় ডিভিশনের স্টোক সিটির সাথে কোনোরকমে ম্যাচ ড্র করার পর *উল্লসিত* ম্যানেজারের মুখের ওপর ক্লাব সমর্থকদের তুমুল অসন্তোষ - তার আগের বেশ কিছু খেলায় নার্সিসিস্ট বিগ স্যামের বিরক্তিকর লং বল ট্যাকটিক্স আর কোনোরকমে ম্যাচ বাঁচানোর খেলায় তিতিবিরক্ত গোটা টাইনসাইড। স্টোক সিটির সাথে প্রথম লেগের খেলার দিন দুই পর সেই ম্যানেজার ছাঁটাই, তারপর বেশ কিছুদিন ধরে খবরের কাগজে নানান উড়ো গুজব, অনেক বড় বড় লোকের নাম জড়িয়ে - কখনো *স্পেশ্যাল ওয়ান* মোরিনহো, কখনো বা অন্য একটা কেউ। সাউথহ্যাম্পটন গেলুম - সেখানে ট্যাক্সিচালক আমাকে খবর দিলো এর পরের ম্যানেজার নাকি *অ্যারি* রেডন্যাপ। দিন কয়েক এই সোপ অপেরা চলার পর সেদিন ছিলো ওই স্টোক সিটির সাথে দ্বিতীয় লেগের খেলা - সেন্ট জেম্‌স পার্কে। ম্যানেজারহীন নিউক্যাসল নিয়ে কেউ আর কিছু আশা করে না - কট্টর সমর্থকেরাও না। সব বদলে গেলো ক্লাবের তরফে আসা একটা টেক্সট মেসেজে - সন্ধ্যেবেলায় ক্লাবের সাইটে রেজিস্টার্ড সব সমর্থকে মোবাইলে একটা দুই লাইনের মেসেজ এলো নতুন মালিকদের তরফে - "দ্য কিং ইজ ব্যাক, মোর টু ফলো"।

গোটা টাইনসাইড একটি মানুষকে রাজা বলে চেনে - এককালের খেলোয়াড়, পরে নব্বইয়ের শেষের দিকে এন্টারটেইনার্সদের কম্যাণ্ডার - ম্যানেজার - কেভিন কীগান। ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দেখলুম শহরটার অন্য চেহারা - রাম অযোধ্যায় ফেরার সময় অযোধ্যাবাসীরা মনে হয় এমনই আনন্দ করেছিলো...সেন্ট জেম্‌স পার্কের সামনে হাজার দশেক লোকের ভিড় জমতে আধ ঘন্টাও লাগেনি। মাঠের মধ্যে চেগে ওঠা নিউক্যাসল যখন প্রথম গোলটা দিচ্ছে তখনও সমর্থকদের দল ডিরেক্টর বক্সের দিকে তাকিয়ে - রাজা কখন আসবেন। পরের দিন নিউক্যাসল ক্রনিকল লিখলো - "দ্য রিটার্ন অব দ্য কিং - কেভ কাম্‌স ব্যাক টু সেট্‌ল আনফিশড বিজনেস"। আট-দশ বছর বয়সী ছেলেমেয়ের দল - কীগানের আগের আমলে এরা কেউ জন্মায়নি - শুধু গল্প শুনেছে বাপমায়ের কাছে - রিজার্ভ দলের খেলায় *কিং কেভকে* গ্যালারীতে দেখে তাদের উচ্ছ্বাস দেখলে চমক লাগে। হুজুগ? পাগলামি? কিন্তু কেনই বা?

ছয় বছরের কিছু বেশি সময় এই সাদা-কালো শহরটাতে থাকতে থাকতে বুঝেছি এই আবেগ আসে অনেক ভিতর থেকে। বাইরে থেকে দেখলে হুজুগ বা পাগলামি মনে হলেও এর পিছনে আছে একটা স্বপ্ন, আরেকবার উঠে দাঁড়ানোর স্বপ্ন - পুরনো জৌলুষ আর সম্মান ফিরে পাবার ইচ্ছে। রোমান সম্রাট হেড্রিয়ানের সময় থেকে মঙ্কচেস্টার হয়ে শিল্পবিপ্লবের সময়কার নিউক্যাসলের জৌলুষকে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন। কয়েক দশকের বঞ্চনার ইতিহাস - বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়লাখনি, রুগ্ন জাহাজশিল্প - ধুলো ঢাকা সোয়ান হান্টারের ইতিহাসকে চাপা দিতে *জর্ডি-প্রাইড* ঘুরে চলেছে সেন্ট জেম্‌স পার্কে ছুটে বেড়ানো সাদা-কালো জার্সি পরা এগারোটা ছেলেকে ঘিরে।

স্যার জন হলের কথা লিখেছি আগে, মনে পড়ে? মেট্রো-সেন্টারখ্যাত প্রোমোটার স্যার জন হল এই *জর্ডি-প্রাইডকে* খুঁচিয়ে তুলেছিলেন। "The Geordie nation, that's what we're fighting for. London's the enemy! You exploit us, you use us"...শুরুও করেছিলেন চমক দিয়ে - খেলোয়াড় হিসেবে একসময় সমর্থকদের প্রিয়পাত্র কেভিন কীগানকে ম্যানেজার হিসেবে এনে। দ্বিতীয় ডিভিশনের তলার দিকে ধুঁকতে থাকা নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে কীগান তুলে আনেন প্রথম ডিভিশনে, আর তার পরের কয়েক বছর জর্ডি স্মৃতিতে সোনায় বাঁধানো। আপাদমস্তক জর্ডি এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেড ফ্যানজিন ট্রু-ফেইথের এডিটর মাইকেল মার্টিনের তাঁর ছেলেবেলায় কীগানের এন্টারটেইনার্সদের খেলা দেখে ফুটে ওঠা জর্ডি রক্তের কথা মনে পড়ে - সেই সময়ের আরো অসংখ্য জর্ডি সমর্থকদের মতন - "John Hall tapped into something latent, the pride and the apartness of the north-east. Newcastle was depressed; industries like mining and shipbuilding had been destroyed. We bought into the idea of the club as the flagship of revival."

জর্ডি নেশনের সেন্টিমেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে হল পরিবার ভালো রোজগার করে নিলেন - সীজন টিকিট, দোকানে হটকেকের মতন বিক্রি হওয়া রেপ্লিকা শার্ট - সারভাইভালের স্বপ্নে বুঁদ গোটা টাইনসাইড সাদা-কালো ইউনিফর্মে ছেয়ে গেলো। উচ্চবিত্ত পশ লন্ডন ব্যাঙ্গ করে নাম দিলো *বারকোড*। তবুও চার বছরের বাচ্চা থেকে আশি বছরের বৃদ্ধা অবধি মাঠে আসে এই ইউনিফর্মে - শেষ জেতা ট্রফি সেই কবে ১৯৫৯-এ অধুনা-লিপ্ত ফেয়ার্স কাপ হলেও। কীগান সেই স্বপ্নটাকে কিছুদিনের জন্যে হলেও অনেকটাই বাস্তবরূপ দিতে পেরেছিলেন - ১৯৯৫/৯৭/৯৭-এর প্রিমিয়ার লীগে সাদা-কালো জার্সির দৌড় পাঁড় কক্‌নি ওয়েস্ট হ্যাম সমর্থকেরাও ভোলেনি - আর জর্ডিরাও তাই কীগানকে রাজা বানিয়ে রেখেছে। হল পরিবার নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে *ক্যাশ কাউ* হিসেবে দেখলেও জর্ডিদের কাছে ক্লাবটা *ফ্ল্যাগশিপ অব সারভাইভাল* হিসেবেই রয়ে গেছে। হল পরিবারের হাত থেকে ক্রমে পিএলসি, তারপর চাকা ঘুরে আরেক মালিক - দিন পাল্টেছে, কিন্তু সেই জর্ডি-প্রাইড বা প্যাশন কমেনি। বাপ-মায়ের হাত থেকে ব্যাটন এসেছে তাদের ছেলেমেয়েদের হাতে, সেখান থেকে তাদের ছেলেমেয়ের হাতে, যাবে তাদের ছেলেমেয়েদের কাছে - জেনারেশন থেকে জেনারেশন...

ফুটবল আর সামাজিক পরিচয় নিয়ে অনেক লেখালেখি আছে - গ্লাসগোর দুই দল, সেল্টিক আর রেঞ্জার্সের মধ্যে রেষারেষি শুধু দুটো ফুটবল দলের মধ্যে রেষারেষি নয় - ওর পরিধি অনেক বিস্তৃত - উত্তর আয়ারল্যান্ডের শিন ফেন আর ইউনিয়নিস্টদের লড়াই অবধি, ক্যাথলিক-প্রোটেস্টান্টদের বিভেদ অবধি - সেল্টিকের সবুজ-সাদা জার্সি আর সেল্টিক পার্ক ছেয়ে যাওয়া আয়ারল্যান্ডের সবুজ পতাকা প্রমাণ দেয় এই সামাজিক পরিচিতির। ফুটবল আর সমাজের গবেষণায় বলা হয় যে ফুটবল মাঠে একটা জিৎ আর তার সাথে যুক্ত মিডিয়া কভারেজ, সোশ্যাল ইভেন্ট, নিজের দলের জার্সি পরা - বা দলের এমব্লেম আর চিহ্ন জমিয়ে রাখা - এসব শুধু খেলা নয় - এর সাথে রয়েছে কয়েকশো বছরের ইতিহাস - সামাজিক ভেদাভেদ, দৈনন্দিন বাস্তব। ঠিক তাই হয় সেল্টিক আর রেঞ্জার্সের মধ্যে, বা এইখানে - এই টাইনসাইডে। ঠিক তাই হয়েছিলো ১৯১১ সালে অন্য এক দেশের অন্য এক শহরে - যখন অন্য আরেকটা দল গোরা ইস্ট ইয়র্ককে হারিয়ে প্রথম স্বদেশী দল হিসেবে শিল্ড জিতেছিলো - যাকে লোকে সেদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে এক জায়গায় বসিয়েছিলো। সেই একইভাবে নিউক্যাসল ইউনাইটেড জর্ডি রিভাইভালের ফ্ল্যাগশিপ হয়েছে। প্রায় একই ঘটনা উইয়ারসাইডে সান্ডারল্যান্ডের ক্ষেত্রে। টীজসাইডে মিড্‌লসবরোর ক্ষেত্রে। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের তিনটে শহর একইভাবে আঁকড়ে আছে তাদের ফুটবল ক্লাবগুলোকে। একই নর্থ-সাউথ ডিভাইডের ফসল এরা।

১৬৫৩ সালে কেউ একটা গান লিখেছিলেন -

"England's a perfect World; has Indies too.
Correct your Maps; Newcastle is Peru."

গানটা তখনকার নর্দাম্বারল্যান্ড অঞ্চলের উন্নতি আর সম্পদের কথা বোঝাত - অ্যাজটেক আর মায়ার পেরুর সাথে তুলনা করে। সেই যখন কয়লাখনি আর জাহাজ শিল্পের দৌলতে নিউক্যাসল আর সান্ডারল্যান্ড আগেকার *অসভ্য* আর *পশ্চাৎপর* দিন থেকে বেরিয়ে নতুনভাবে এগোচ্ছে। "The growth of the coal industry since 1560 had had a profound impact; a rural world of corn-laden mules and cottage collieries had been transformed into England's first industrial landscape, dominated by coal-filled wagons, pit-heads, and the great wharfs of the Tyne and Wear. Newcastle and Sunderland had grown into major centres surrounded by prospering agricultural hinterlands aided by the recent enclosure of fields. Newcastle was England's third largest city, with a population of 12,000 in 1660, and had been described in 1633 by William Brereton - widely travelled in Britain and the Low Countries - as 'beyond all compare the fairest and richest town in England, inferior for wealth and building to no city save London and Bristol'. North-east England was anything but a backwater, and for some, Newcastle was a place of fine living, wining and dining: a true capital of culture." [Cattle to Claret: Scottish economic influence in North-East England, 1660-1750 - Mathew Greenhall]

আর এই ২০০৮-এ এই উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ড একটা এলিয়েন টেরিটরি - রুগ্ন শিল্পাঞ্চল, ধোঁয়াটে আকাশ - দক্ষিণ ইংল্যান্ডের স্বচ্ছল কক্‌নি সম্প্রদায়ের কাছে পশ্চাৎপর, দূষিত ব্যাকওয়াটার। গার্ডিয়ানে স্টুয়ার্ট জেফরিজ লেখেন - "There is something different, not just about Newcastle and its football club, but about the north-east. Newcastle's like Liverpool - only more so - and nothing in the rest of England quite prepares you for it."

দক্ষিণের নাক সিঁটকোনোতে অভ্যস্ত এখানকার লোকে নিজেদের অঞ্চল আর তার ইতিহাস নিয়ে অসম্ভব গর্বিত - এই অঞ্চলটা আলাদা, কারণ এখানকার লোকে মনে করে এটা আলাদা - "pride in immutability and apartness are Geordie sentiments" - জর্ডিরা এভাবেই ভাবতে ভালোবাসে। আর এই ভাবনা থেকে তৈরী হয় একটা সলিডারিটির প্ল্যাটফর্ম, অসম্ভব গভীর ফেলো-ফিলিং - যেটা শুধু ফুটবল ক্লাব নয়, এই অঞ্চলের যে কোনো কিছু ঘিরেই গড়ে ওঠে, উদাহরণ *নর্দার্ন রক্‌*। নর্দার্ন রক্‌ যখন মুখ থুবড়ে পড়লো, আঞ্চলিক খবরের কাগজ নিউক্যাসল ক্রনিকলে একটা অ্যাপীল বেরিয়েছিলো - ব্যাঙ্কটাকে বাঁচানোর জন্যে - "In the past 10 years 1,520 organisations have received £175m from the Northern Rock Foundation. NOW IT'S YOUR TURN TO HELP" - কোনো আর্থিক সংস্থা সম্পর্কে এই মনোভাব আর ক্তোহাও দেখা সম্ভব নয়, কেউ চিন্তাও করবে না। আর এই অ্যাপীলে লোকে সাড়াও দিয়েছিলো - লণ্ডনে যখন লোকে নর্দার্ন রকের কাউন্টারে লাইন দিয়েছে টাকা তুলে নেবার জন্যে, এই অদ্ভুত জায়গাটাতে লোকে যেচে এসে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছে।

পাগলের আরেক নাম জর্ডি।

************

পাগলের আরেক নাম বাঙালীও। আবেগপ্রবণ হুজুগে বাঙালী - এদের দেখতে দেখতে আমিও প্রায়-জর্ডি এক বাঙালী হয়ে উঠি। এই শেষ প্রেমটা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে বসে পাঁজরের ভিতরটায়। ওপরের লেখাটার কয়েক সপ্তাহ পরেই নিউক্যাসল ছেড়ে ফিরে আসি - সঙ্গে নিয়ে আসি আমার নিজের আর আমার ছেলের সাদা-কালো জার্সি, অনেক ছবি, লিট্‌ল ব্লু-তে লাগানো নিউক্যাসল ইউনাইটেডের একটা এমব্লেম - যেটা এখন আমাদের *ফ্যাট গ্রে*-তে লাগানো আছে। কলকাতার প্রেমে পড়েছিলাম, দিল্লীরও - কিন্তু কোনো শহরকে ছেড়ে আসার সময়ে গলার কাছে বাষ্প জমে উঠেছিলো এই একবারই। প্লেনটা যখন মাটি ছেড়ে উঠেছিলো তখন শেষবার শহরটাকে দেখে একটা কথাই বলেছিলাম - একদিন ঠিক আসবো তোমার সঙ্গে দেখা করতে। আসবোই।

তার পর নিউক্যাসল ইউনাইটেড প্রিমিয়ার লীগ থেকে নেমে গেছিলো এক বছরের জন্যে - ভিলা পার্কে শেষ খেলায় হেরে গিয়ে। কলকাতায় বসে থেকেও আমি টের পেয়েছিলাম সেদিন ভিলা সমর্থকদের হাতে অপমানিত হয়ে গোটা শহরটা কেঁদেছিলো। পরের বছর চ্যাম্পিয়ন হয়ে আবার প্রিমিয়ার লীগে উঠে আসার খুশী আমি এখানে বসে দেখেছিলাম। প্রিমিয়ার লীগে ফিরে আসার পর সেন্ট জেম্‌স পার্কে যখন ভিলাকে ছয় গোলে হারালো এই সাদা-কালো ছেলেগুলো সেদিন দু বছর আগের অপমানের বদলা আমিও নিয়েছিলাম ওদের সঙ্গে মিশে গিয়ে।

আমি জানি একদিন আবার দেখা হবেই এই শহরটার সঙ্গে। হয়তো ওয়েমব্লিতে, হয়তো সেন্ট জেম্‌স পার্কে - যেদিন নিউক্যাসলের হাতে আবার একটা ট্রফি উঠবে। শহরের ইতিকথা শুধু সেদিনই শেষ হবে।

1 comment:

Discover said...

তোমার এই ব্লগটা সত্যি আমি খু্ই উপভোগ করেছি

see and know